ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের গোপনীয়তার নীতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সিনেটের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। একটি রুদ্ধদ্বার গোয়েন্দা ব্রিফিং থেকে বেরিয়ে সিনেট সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির সদস্যরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধের এই পরিকল্পনা কেবল ক্যাপিটল হিলের গোপন কক্ষে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; মার্কিন জনগণের সামনে এর যৌক্তিকতা স্পষ্ট করতে হবে। সিনেটর টিম কেইন এই গোপনীয়তার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আমরা এই পুরো বিষয়টি জনসমক্ষে আনতে চাই। সাধারণ মানুষ জানতে চায় তাদের সন্তান বা জীবনসঙ্গীদের কি আবারও যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে? অথচ আমি অনেক কিছু জানলেও গোপনীয়তার কারণে তা আমার ভোটারদের বলতে পারছি না। অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন প্রশাসনের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, যখন স্বাস্থ্যসেবা বা শিশুদের কল্যাণে অর্থের কথা আসে, তখন ট্রাম্প প্রশাসন বলে তাদের কাছে টাকা নেই। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে বোমা ফেলার জন্য প্রতিদিন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঠিকই খরচ হচ্ছে। এমন এক যুদ্ধের পেছনে অর্থ ঢালা হচ্ছে যার লক্ষ্য কেউ ব্যাখ্যা করতে পারছে না। আইনপ্রণেতাদের মূল দাবি একটাই—প্রশাসনকে অবশ্যই সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে যে, এই সামরিক অভিযানের শেষ কোথায় এবং এর মাধ্যমে আসলে কী অর্জিত হচ্ছে।
কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত মার্কিন কনসুলেটে গভীর রাতে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এই ঘটনাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করে তদন্ত শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার ভোররাত ৪:৩০ মিনিটের দিকে টরন্টোর ডাউনটাউনে একটি সাদা এসইউভি (SUV) গাড়ি থেকে দুই ব্যক্তি নেমে মার্কিন কনসুলেট লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। টরন্টো পুলিশের ডেপুটি চিফ ফ্র্যাঙ্ক ব্যারেডো জানান, হামলার সময় ভবনের ভেতরে মানুষ উপস্থিত থাকলেও ভবনটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও শক্তিশালী হওয়ায় কেউ হতাহত হননি। হামলাকারীরা একাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়েই ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। কানাডার ফেডারেল পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস লেদার জানিয়েছেন, এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহান্তে ইরান ও ইসরায়েল ইস্যুতে মার্কিন ভূমিকার প্রতিবাদে এই কনসুলেটের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছিল। এছাড়া সাম্প্রতিক দিনগুলোতে টরন্টোর তিনটি সিনাগগেও (ইহুদি উপাসনালয়) গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইকে একটি বিশেষ পত্র পাঠিয়েছেন। এই পত্রে তিনি ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। শোকবার্তার পাশাপাশি শাহবাজ শরিফ দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। তিনি পত্রে উল্লেখ করেন যে, মোজতবা খামেনেইর দূরদর্শী নেতৃত্বে ইরান আগামী দিনগুলোতে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন এই নেতৃত্ব কেবল ইরানের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নই নয়, বরং আঞ্চলিক মর্যদা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
যুক্তরাজ্যের আকাশসীমায় বাড়ছে মার্কিন যুদ্ধবিমানের আনাগোনা। গ্লুচেস্টারশায়ারের রয়্যাল এয়ার ফোর্স বা আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে নতুন করে আরও তিনটি মার্কিন বি-১ বি ল্যান্সার বোম্বার অবতরণ করেছে। ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই মোতায়েনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরই এই বি-১ বোম্বারগুলো যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতে শুরু করে। লন্ডন এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে একটি 'প্রতিরক্ষামূলক' অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে। সামরিক সূত্র জানিয়েছে, গত শুক্রবার প্রথম একটি বি-১ ল্যান্সার বোম্বার এই ঘাঁটিতে অবতরণ করে। এরপর শনিবার আরও দুটি বিমান এসে পৌঁছায়। বর্তমানে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে মার্কিন বোম্বারদের একটি শক্তিশালী বহর অবস্থান করছে, যা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় সক্ষম। বি-১ ল্যান্সার মূলত একটি সুপারসনিক কৌশলগত বোম্বার, যা বিশাল পরিমাণ অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং দূরপাল্লার অভিযানে অত্যন্ত কার্যকর।
যুক্তরাজ্যের আকাশসীমায় বাড়ছে মার্কিন যুদ্ধবিমানের আনাগোনা। গ্লুচেস্টারশায়ারের রয়্যাল এয়ার ফোর্স বা আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে নতুন করে আরও তিনটি মার্কিন বি-১ বি ল্যান্সার বোম্বার অবতরণ করেছে। ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই মোতায়েনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরই এই বি-১ বোম্বারগুলো যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতে শুরু করে। লন্ডন এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে একটি 'প্রতিরক্ষামূলক' অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে। সামরিক সূত্র জানিয়েছে, গত শুক্রবার প্রথম একটি বি-১ ল্যান্সার বোম্বার এই ঘাঁটিতে অবতরণ করে। এরপর শনিবার আরও দুটি বিমান এসে পৌঁছায়। বর্তমানে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে মার্কিন বোম্বারদের একটি শক্তিশালী বহর অবস্থান করছে, যা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় সক্ষম। বি-১ ল্যান্সার মূলত একটি সুপারসনিক কৌশলগত বোম্বার, যা বিশাল পরিমাণ অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং দূরপাল্লার অভিযানে অত্যন্ত কার্যকর।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইকে একটি বিশেষ পত্র পাঠিয়েছেন। এই পত্রে তিনি ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। শোকবার্তার পাশাপাশি শাহবাজ শরিফ দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। তিনি পত্রে উল্লেখ করেন যে, মোজতবা খামেনেইর দূরদর্শী নেতৃত্বে ইরান আগামী দিনগুলোতে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন এই নেতৃত্ব কেবল ইরানের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নই নয়, বরং আঞ্চলিক মর্যদা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণ করতে সাত সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে এই কমিটি কাজ করবে। এ বিষয়ে সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটি বিশ্ব পরিস্থিতি, বিশেষ করে বিভিন্ন অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করবে। একই সঙ্গে এসব সংঘাতের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি, জ্বালানি ও বাজার ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণ করা হবে। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সংকট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাও প্রণয়ন করবে কমিটি। এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং খাদ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। কমিটি গঠনের দিনই বিকেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পরপরই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয় বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি বিভিন্ন প্রতিবেদন ও সুপারিশ পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণ করতে পারে।
কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত মার্কিন কনসুলেটে গভীর রাতে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এই ঘটনাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করে তদন্ত শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার ভোররাত ৪:৩০ মিনিটের দিকে টরন্টোর ডাউনটাউনে একটি সাদা এসইউভি (SUV) গাড়ি থেকে দুই ব্যক্তি নেমে মার্কিন কনসুলেট লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। টরন্টো পুলিশের ডেপুটি চিফ ফ্র্যাঙ্ক ব্যারেডো জানান, হামলার সময় ভবনের ভেতরে মানুষ উপস্থিত থাকলেও ভবনটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও শক্তিশালী হওয়ায় কেউ হতাহত হননি। হামলাকারীরা একাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়েই ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। কানাডার ফেডারেল পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস লেদার জানিয়েছেন, এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহান্তে ইরান ও ইসরায়েল ইস্যুতে মার্কিন ভূমিকার প্রতিবাদে এই কনসুলেটের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছিল। এছাড়া সাম্প্রতিক দিনগুলোতে টরন্টোর তিনটি সিনাগগেও (ইহুদি উপাসনালয়) গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের গোপনীয়তার নীতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সিনেটের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। একটি রুদ্ধদ্বার গোয়েন্দা ব্রিফিং থেকে বেরিয়ে সিনেট সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির সদস্যরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধের এই পরিকল্পনা কেবল ক্যাপিটল হিলের গোপন কক্ষে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; মার্কিন জনগণের সামনে এর যৌক্তিকতা স্পষ্ট করতে হবে। সিনেটর টিম কেইন এই গোপনীয়তার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আমরা এই পুরো বিষয়টি জনসমক্ষে আনতে চাই। সাধারণ মানুষ জানতে চায় তাদের সন্তান বা জীবনসঙ্গীদের কি আবারও যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে? অথচ আমি অনেক কিছু জানলেও গোপনীয়তার কারণে তা আমার ভোটারদের বলতে পারছি না। অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন প্রশাসনের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, যখন স্বাস্থ্যসেবা বা শিশুদের কল্যাণে অর্থের কথা আসে, তখন ট্রাম্প প্রশাসন বলে তাদের কাছে টাকা নেই। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে বোমা ফেলার জন্য প্রতিদিন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঠিকই খরচ হচ্ছে। এমন এক যুদ্ধের পেছনে অর্থ ঢালা হচ্ছে যার লক্ষ্য কেউ ব্যাখ্যা করতে পারছে না। আইনপ্রণেতাদের মূল দাবি একটাই—প্রশাসনকে অবশ্যই সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে যে, এই সামরিক অভিযানের শেষ কোথায় এবং এর মাধ্যমে আসলে কী অর্জিত হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় কিছু তেল–সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি দেশের ওপর আরোপিত তেলসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “কিছু দেশের ওপর আমাদের নিষেধাজ্ঞা আছে। পরিস্থিতি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেগুলো তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছি।” তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে নতুন করে আর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজনই হবে না। তার ভাষায়, “তারপর কে জানে? হয়তো এতটাই শান্তি থাকবে যে আর নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে না।” একই সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, সম্প্রতি তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি “খুব ভালো” ফোনালাপ করেছেন। তবে ঠিক কোন দেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সাময়িকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যাতে সমুদ্রপথে আটকে থাকা রুশ তেল ক্রয়ের সুযোগ তৈরি হয়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ কমানোর চেষ্টা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান বৈশ্বিক তেলবাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের গোপনীয়তার নীতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সিনেটের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। একটি রুদ্ধদ্বার গোয়েন্দা ব্রিফিং থেকে বেরিয়ে সিনেট সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির সদস্যরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধের এই পরিকল্পনা কেবল ক্যাপিটল হিলের গোপন কক্ষে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; মার্কিন জনগণের সামনে এর যৌক্তিকতা স্পষ্ট করতে হবে। সিনেটর টিম কেইন এই গোপনীয়তার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আমরা এই পুরো বিষয়টি জনসমক্ষে আনতে চাই। সাধারণ মানুষ জানতে চায় তাদের সন্তান বা জীবনসঙ্গীদের কি আবারও যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে? অথচ আমি অনেক কিছু জানলেও গোপনীয়তার কারণে তা আমার ভোটারদের বলতে পারছি না। অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন প্রশাসনের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, যখন স্বাস্থ্যসেবা বা শিশুদের কল্যাণে অর্থের কথা আসে, তখন ট্রাম্প প্রশাসন বলে তাদের কাছে টাকা নেই। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে বোমা ফেলার জন্য প্রতিদিন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঠিকই খরচ হচ্ছে। এমন এক যুদ্ধের পেছনে অর্থ ঢালা হচ্ছে যার লক্ষ্য কেউ ব্যাখ্যা করতে পারছে না। আইনপ্রণেতাদের মূল দাবি একটাই—প্রশাসনকে অবশ্যই সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে যে, এই সামরিক অভিযানের শেষ কোথায় এবং এর মাধ্যমে আসলে কী অর্জিত হচ্ছে।
কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত মার্কিন কনসুলেটে গভীর রাতে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এই ঘটনাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করে তদন্ত শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার ভোররাত ৪:৩০ মিনিটের দিকে টরন্টোর ডাউনটাউনে একটি সাদা এসইউভি (SUV) গাড়ি থেকে দুই ব্যক্তি নেমে মার্কিন কনসুলেট লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। টরন্টো পুলিশের ডেপুটি চিফ ফ্র্যাঙ্ক ব্যারেডো জানান, হামলার সময় ভবনের ভেতরে মানুষ উপস্থিত থাকলেও ভবনটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও শক্তিশালী হওয়ায় কেউ হতাহত হননি। হামলাকারীরা একাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়েই ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। কানাডার ফেডারেল পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস লেদার জানিয়েছেন, এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহান্তে ইরান ও ইসরায়েল ইস্যুতে মার্কিন ভূমিকার প্রতিবাদে এই কনসুলেটের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছিল। এছাড়া সাম্প্রতিক দিনগুলোতে টরন্টোর তিনটি সিনাগগেও (ইহুদি উপাসনালয়) গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইকে একটি বিশেষ পত্র পাঠিয়েছেন। এই পত্রে তিনি ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। শোকবার্তার পাশাপাশি শাহবাজ শরিফ দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। তিনি পত্রে উল্লেখ করেন যে, মোজতবা খামেনেইর দূরদর্শী নেতৃত্বে ইরান আগামী দিনগুলোতে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন এই নেতৃত্ব কেবল ইরানের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নই নয়, বরং আঞ্চলিক মর্যদা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
যুক্তরাজ্যের আকাশসীমায় বাড়ছে মার্কিন যুদ্ধবিমানের আনাগোনা। গ্লুচেস্টারশায়ারের রয়্যাল এয়ার ফোর্স বা আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে নতুন করে আরও তিনটি মার্কিন বি-১ বি ল্যান্সার বোম্বার অবতরণ করেছে। ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই মোতায়েনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরই এই বি-১ বোম্বারগুলো যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতে শুরু করে। লন্ডন এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে একটি 'প্রতিরক্ষামূলক' অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে। সামরিক সূত্র জানিয়েছে, গত শুক্রবার প্রথম একটি বি-১ ল্যান্সার বোম্বার এই ঘাঁটিতে অবতরণ করে। এরপর শনিবার আরও দুটি বিমান এসে পৌঁছায়। বর্তমানে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে মার্কিন বোম্বারদের একটি শক্তিশালী বহর অবস্থান করছে, যা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় সক্ষম। বি-১ ল্যান্সার মূলত একটি সুপারসনিক কৌশলগত বোম্বার, যা বিশাল পরিমাণ অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং দূরপাল্লার অভিযানে অত্যন্ত কার্যকর।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।