Live update news
১৬টি মাইনবাহী জাহাজ ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের, পাল্টা হামলা ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের দামামা এখন চরম সীমায়। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ১৬টি মাইন পাতা যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে হামলার ভিডিও প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, সমুদ্রপথে মাইন বসিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা রুখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, অকার্যকর মাইন বহনকারী ইরানি নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, এটি তারই প্রতিফলন। তবে সংঘাত কেবল সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ নেই; ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্রের লড়াই।   ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী তেহরানে নতুন করে বিমান হামলার ঘোষণা দিয়েছে। একইসাথে লেবাননের বৈরুতে হিজবুল্লাহর স্থাপনা লক্ষ্য করে চলছে ভয়াবহ গোলাবর্ষণ। অন্যদিকে, ইরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে বেজে উঠছে সাইরেন। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির দিকে ধেয়ে আসা ৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করেছে।   এই চরম উত্তেজনার মাঝে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ছেন হাজার হাজার বিদেশি নাগরিক। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৩ হাজারেরও বেশি আমেরিকান ওই অঞ্চল ত্যাগ করেছেন। যুক্তরাজ্যও বিশেষ বিমানে তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে। যুদ্ধের এই ভয়াবহতা এখন তেহরান থেকে বৈরুত, আর রিয়াদ থেকে দুবাই—পুরো অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

১০ মিনিট Ago
জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তি: চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে একের পর এক ডিজেলবাহী জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই স্বস্তির খবর দিয়েছে জ্বালানি খাত। অল্প সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয় ডিজেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছেছে, যা দেশের জ্বালানি মজুত পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি করা প্রায় ২৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বহনকারী ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের একটি ট্যাংকার মঙ্গলবার (১০ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে। জাহাজটি ভেড়ার পর একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ডিজেল খালাসের কাজ শুরু হয়।   এর আগে সোমবার (৯ মার্চ) ‘শিউ চি’ নামের আরেকটি ট্যাংকার প্রায় ২৭ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে একই বন্দরে পৌঁছেছিল। পরপর দুটি চালান আসায় দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও তিনটি ডিজেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে ‘এসপিটি থেমিস’ নামের একটি ট্যাংকার ১২ মার্চ প্রায় ৩০ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে ভিড়বে। এছাড়া ১৩ মার্চ ‘র‍্যাফেলস সামুরাই’ এবং ১৫ মার্চ ‘চাং হাং হং তু’ নামের আরও দুটি জাহাজ বন্দরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।   প্রতিটি জাহাজেই আনুমানিক ৩০ হাজার মেট্রিক টন করে ডিজেল থাকবে। সব মিলিয়ে পাঁচটি ট্যাংকার থেকে প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৫ মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল দেশে যুক্ত হবে।   বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ জ্বালানি বর্তমান ব্যবহারের ধারা ধরে প্রায় ১২ দিনের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। তবে বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে গত ৮ মার্চ থেকে প্রতিদিনের সরবরাহ কমিয়ে প্রায় ৯ হাজার মেট্রিক টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।   সরবরাহ সীমিত রাখার এই নীতি অব্যাহত থাকলে নতুন চালান দিয়ে প্রায় ১৬ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে দেশের বিদ্যমান মজুত দিয়ে আরও ১৬ থেকে ১৭ দিনের জ্বালানি চাহিদা মেটানো যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।   ফলে নতুন চালানগুলো যুক্ত হলে দেশে প্রায় এক মাসের ডিজেল চাহিদা পূরণের মতো মজুত নিশ্চিত হতে পারে।   বিপিসির বাণিজ্যিক ও অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রথম জাহাজ পৌঁছানোর পরপরই খালাস শুরু করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় জাহাজের কাজও চলছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাকি জাহাজগুলো পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে।

১৯ মিনিট Ago
হাদি হত্যা রহস্যে নতুন অধ্যায়, ভারত থেকে ফিরছে আটক দুইজন

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খবরটি প্রকাশের পরপরই বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।   গত ১২ ডিসেম্বরের এই হত্যাকাণ্ডটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই ওসমান হাদি নির্বাচনী রাজনীতিতে সরব হয়ে ওঠেন। তিনি বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। ঠিক সেই সময়ই ঘটে নির্মম এই হত্যাকাণ্ড।   ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিদেশি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও ওঠে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।   সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সন্দেহ করা হচ্ছিল যে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, অভিযুক্তরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় আত্মগোপনে ছিল।   এ বিষয়ে দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান–প্রদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।   বাংলাদেশ ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে। বাংলাদেশ–ভারত বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   এই গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্তে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত ছিল এবং এর মাধ্যমে কোনো বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা হয়েছিল কি না এসব বিষয় এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হলে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পেছনের অনেক প্রশ্নের উত্তর সামনে আসতে পারে।

৩১ মিনিট Ago
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছে ইরান, বলছেন বিশ্লেষকর

যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে থাকলেও একাধিক ফ্রন্টে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাইরে থেকে ইরানের প্রতিক্রিয়া কিছুটা অগোছালো মনে হলেও বাস্তবে এটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার একটি পুরোনো যুদ্ধ কৌশলের অংশ।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এতে অনেকের কাছে ইরানের পাল্টা হামলা নেতৃত্বহীন ও বিশৃঙ্খল বলে মনে হলেও বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান মূলত দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের কৌশলই অনুসরণ করছে।   অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন ইরান কেন উপসাগরীয় দেশগুলো, তুরস্ক বা আজারবাইজানের মতো রাষ্ট্রগুলোকেও হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে? এসব দেশকে নিরপেক্ষ রাখার চেষ্টা না করে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার কারণ নিয়েও আলোচনা চলছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিপক্ষের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করা। ব্রিটেনের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের মধ্যপ্রাচ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বুরচু ওজচেলিক এএফপিকে বলেন, ইরানের কৌশল হচ্ছে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়ানো, উপসাগরীয় দেশগুলোকে অস্থির করে তোলা এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করা।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধাক্কা এলেও দেশটির রাষ্ট্রীয় কাঠামো এখনো অক্ষত রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমানে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি দেশের নেতৃত্বে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক শক্তির দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি পরাজিত করার সম্ভাবনা ইরানের খুবই কম। তাই তেহরান এমন একটি কৌশল নিচ্ছে, যাতে সংঘাত দীর্ঘায়িত হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে।   ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান বিশেষজ্ঞ আলি ওয়ায়েজ বলেন, উত্তেজনা বাড়িয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে তেহরান, যাতে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে বাধ্য হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, এটি অসম যুদ্ধের একটি পুরোনো কৌশল। ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত অধ্যাপক অ্যান্ড্রু ম্যাকের বই “হোয়াই বিগ নেশনস লুজ স্মল ওয়ারস”-এ দেখানো হয়েছিল, কীভাবে তুলনামূলক দুর্বল শক্তি দীর্ঘ যুদ্ধের মাধ্যমে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে ফেলতে পারে যেমনটি ঘটেছিল ভিয়েতনাম যুদ্ধে।   মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইরেম্মো-এর প্রধান অ্যাগনেস লেভালোয়া বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুদ সীমিত। তাই তারা হিসাব করে হামলা চালাচ্ছে, যাতে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়ে।   ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ–এর বিশ্লেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচের মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে তেহরান মনে করছে মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিকভাবে ভারসাম্য তাদের দিকে ঝুঁকতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সুফান সেন্টার বলছে, প্রচলিত যুদ্ধ পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে হারানো সম্ভব নয় বুঝেই ইরান অনিয়মিত কৌশল বেছে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা, আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটে বাধা তৈরি করা।   বিশ্লেষকদের মতে, যদি জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয় এবং উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ায়, তাহলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হতে পারে।   তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ইরানকেও বড় মূল্য দিতে হতে পারে। সম্ভাব্য কোনো সমঝোতার ক্ষেত্রে তেহরানকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কৌশলগত ছাড় দিতে হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

৪২ মিনিট Ago
ওসমান হাদি
জাতীয়
হাদি হত্যা রহস্যে নতুন অধ্যায়, ভারত থেকে ফিরছে আটক দুইজন

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খবরটি প্রকাশের পরপরই বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।   গত ১২ ডিসেম্বরের এই হত্যাকাণ্ডটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই ওসমান হাদি নির্বাচনী রাজনীতিতে সরব হয়ে ওঠেন। তিনি বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। ঠিক সেই সময়ই ঘটে নির্মম এই হত্যাকাণ্ড।   ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিদেশি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও ওঠে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।   সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সন্দেহ করা হচ্ছিল যে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, অভিযুক্তরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় আত্মগোপনে ছিল।   এ বিষয়ে দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান–প্রদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।   বাংলাদেশ ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে। বাংলাদেশ–ভারত বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   এই গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্তে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত ছিল এবং এর মাধ্যমে কোনো বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা হয়েছিল কি না এসব বিষয় এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হলে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পেছনের অনেক প্রশ্নের উত্তর সামনে আসতে পারে।

আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা
ইরান ও লেবাননে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ইরান ও লেবাননের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। একই সময়ে ইরানও পাল্টা হামলার দাবি করেছে, যার ফলে পুরো অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পরপরই সেখানে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে ওই বিস্ফোরণের তীব্রতা দেখা গেছে।   সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননে ইসরায়েলের হামলার মাত্রা বেড়েছে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ চলমান সংঘাতে সক্রিয় হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে প্রায় প্রতিদিন বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।   ইসরায়েলের দাবি, এসব অভিযানে মূলত হেজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা করা হচ্ছে।   এদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরানের ভেতরেও কিছু সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।   অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালিয়েছে।   এদিকে হরমুজ প্রণালীর কাছে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ইরানের ১৬টি মাইন পাতা জাহাজ ধ্বংস করে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও হেজবুল্লাহ এই চার পক্ষের সরাসরি সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছে ইরান, বলছেন বিশ্লেষকর

যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে থাকলেও একাধিক ফ্রন্টে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাইরে থেকে ইরানের প্রতিক্রিয়া কিছুটা অগোছালো মনে হলেও বাস্তবে এটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার একটি পুরোনো যুদ্ধ কৌশলের অংশ।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এতে অনেকের কাছে ইরানের পাল্টা হামলা নেতৃত্বহীন ও বিশৃঙ্খল বলে মনে হলেও বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান মূলত দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের কৌশলই অনুসরণ করছে।   অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন ইরান কেন উপসাগরীয় দেশগুলো, তুরস্ক বা আজারবাইজানের মতো রাষ্ট্রগুলোকেও হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে? এসব দেশকে নিরপেক্ষ রাখার চেষ্টা না করে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার কারণ নিয়েও আলোচনা চলছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিপক্ষের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করা। ব্রিটেনের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের মধ্যপ্রাচ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বুরচু ওজচেলিক এএফপিকে বলেন, ইরানের কৌশল হচ্ছে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়ানো, উপসাগরীয় দেশগুলোকে অস্থির করে তোলা এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করা।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধাক্কা এলেও দেশটির রাষ্ট্রীয় কাঠামো এখনো অক্ষত রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমানে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি দেশের নেতৃত্বে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক শক্তির দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি পরাজিত করার সম্ভাবনা ইরানের খুবই কম। তাই তেহরান এমন একটি কৌশল নিচ্ছে, যাতে সংঘাত দীর্ঘায়িত হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে।   ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান বিশেষজ্ঞ আলি ওয়ায়েজ বলেন, উত্তেজনা বাড়িয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে তেহরান, যাতে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে বাধ্য হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, এটি অসম যুদ্ধের একটি পুরোনো কৌশল। ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত অধ্যাপক অ্যান্ড্রু ম্যাকের বই “হোয়াই বিগ নেশনস লুজ স্মল ওয়ারস”-এ দেখানো হয়েছিল, কীভাবে তুলনামূলক দুর্বল শক্তি দীর্ঘ যুদ্ধের মাধ্যমে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে ফেলতে পারে যেমনটি ঘটেছিল ভিয়েতনাম যুদ্ধে।   মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইরেম্মো-এর প্রধান অ্যাগনেস লেভালোয়া বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুদ সীমিত। তাই তারা হিসাব করে হামলা চালাচ্ছে, যাতে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়ে।   ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ–এর বিশ্লেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচের মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে তেহরান মনে করছে মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিকভাবে ভারসাম্য তাদের দিকে ঝুঁকতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সুফান সেন্টার বলছে, প্রচলিত যুদ্ধ পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে হারানো সম্ভব নয় বুঝেই ইরান অনিয়মিত কৌশল বেছে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা, আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটে বাধা তৈরি করা।   বিশ্লেষকদের মতে, যদি জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয় এবং উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ায়, তাহলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হতে পারে।   তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ইরানকেও বড় মূল্য দিতে হতে পারে। সম্ভাব্য কোনো সমঝোতার ক্ষেত্রে তেহরানকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কৌশলগত ছাড় দিতে হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত মার্কিন কনসুলেট
মার্কিন কনসুলেটে অতর্কিত গুলিবর্ষণ: উত্তাল টরন্টো

কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত মার্কিন কনসুলেটে গভীর রাতে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এই ঘটনাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করে তদন্ত শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার ভোররাত ৪:৩০ মিনিটের দিকে টরন্টোর ডাউনটাউনে একটি সাদা এসইউভি (SUV) গাড়ি থেকে দুই ব্যক্তি নেমে মার্কিন কনসুলেট লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। টরন্টো পুলিশের ডেপুটি চিফ ফ্র্যাঙ্ক ব্যারেডো জানান, হামলার সময় ভবনের ভেতরে মানুষ উপস্থিত থাকলেও ভবনটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও শক্তিশালী হওয়ায় কেউ হতাহত হননি। হামলাকারীরা একাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়েই ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। কানাডার ফেডারেল পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস লেদার জানিয়েছেন, এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহান্তে ইরান ও ইসরায়েল ইস্যুতে মার্কিন ভূমিকার প্রতিবাদে এই কনসুলেটের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছিল। এছাড়া সাম্প্রতিক দিনগুলোতে টরন্টোর তিনটি সিনাগগেও (ইহুদি উপাসনালয়) গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।  বর্তমানে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

১৬টি মাইনবাহী জাহাজ ধ্বংস
১৬টি মাইনবাহী জাহাজ ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের, পাল্টা হামলা ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের দামামা এখন চরম সীমায়। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ১৬টি মাইন পাতা যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে হামলার ভিডিও প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, সমুদ্রপথে মাইন বসিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা রুখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, অকার্যকর মাইন বহনকারী ইরানি নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, এটি তারই প্রতিফলন। তবে সংঘাত কেবল সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ নেই; ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্রের লড়াই।   ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী তেহরানে নতুন করে বিমান হামলার ঘোষণা দিয়েছে। একইসাথে লেবাননের বৈরুতে হিজবুল্লাহর স্থাপনা লক্ষ্য করে চলছে ভয়াবহ গোলাবর্ষণ। অন্যদিকে, ইরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে বেজে উঠছে সাইরেন। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির দিকে ধেয়ে আসা ৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করেছে।   এই চরম উত্তেজনার মাঝে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ছেন হাজার হাজার বিদেশি নাগরিক। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৩ হাজারেরও বেশি আমেরিকান ওই অঞ্চল ত্যাগ করেছেন। যুক্তরাজ্যও বিশেষ বিমানে তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে। যুদ্ধের এই ভয়াবহতা এখন তেহরান থেকে বৈরুত, আর রিয়াদ থেকে দুবাই—পুরো অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

লাইভ ক্লাসে হাসনাত আব্দুল্লাহ শিক্ষক সুলভ ভঙ্গিতে দিচ্ছেন জবাবদিহি
'লাইভ ক্লাসের’ মাধ্যমে জবাবদিহিতা করলেন হাসনাত

নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে কাজের হিসাব তুলে ধরতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কুমিল্লা–৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। ‘পুঁজি হলো সততা, ন্যায়-ইনসাফ-জনতা’ স্লোগান সামনে রেখে মঙ্গলবার মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে তিনি সংসদীয় এলাকায় বরাদ্দকৃত সরকারি সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজের বিস্তারিত তুলে ধরেন।   ডিজিটাল বোর্ডে স্লাইড দেখিয়ে ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপিত এই লাইভটি অনেকটা শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের মতো হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তা ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। লাইভে তিনি দেবিদ্বার উপজেলায় চলমান সরকারি সেবা, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণের ওয়ার্ডভিত্তিক তথ্য তুলে ধরেন।   এ সময় ঠিকাদারদের উদ্দেশ্যে তিনি ‘কমিশনমুক্ত ব্যবসার নিশ্চয়তা’ দিয়ে দক্ষতা বাড়িয়ে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করার আহ্বান জানান। লাইভের শেষ দিকে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের গুরুত্বও তুলে ধরেন।   এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ‘জবাবদিহিতা’ নামে একটি বিশেষ ফেসবুক পেজ খোলার ঘোষণা দেন তিনি। সেখানে তার নির্বাচনী এলাকার সব উন্নয়ন কাজের নিয়মিত আপডেট এবং প্রতিটি প্রকল্পের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করা হবে বলে জানান।   রাজনীতিতে আসার আগে হাসনাত আব্দুল্লাহ শিক্ষকতা ও কোচিং পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ শিক্ষার্থী থাকাকালে তিনি ‘স্কুল অব এক্সিলেন্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি পান। সংসদ সদস্য হওয়ার পরও শিক্ষকসুলভ ভঙ্গিতে লাইভে এসে কাজের অগ্রগতি ব্যাখ্যা করাকে তিনি জনগণের সামনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে দেখছেন।   লাইভে তিনি রাস্তাঘাট নির্মাণসহ মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে ধারণা দেন। পাশাপাশি এলাকার মানুষের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় নিয়েও দিকনির্দেশনা দেন।   সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একজন সংসদ সদস্যের সরাসরি জনগণের সামনে এসে এভাবে কাজের হিসাব দেওয়া এবং শিক্ষকতার দক্ষতা কাজে লাগিয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হাসনাত আব্দুল্লাহর এই ‘লাইভ ক্লাস’ উদ্যোগ ব্যাপকভাবে আলোচিত ও প্রশংসিত হচ্ছে।

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • ছাত্র রাজনীতি
  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • অন্যান্য দল
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

Opinion

আন্তর্জাতিক

View more
ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা
ইরান ও লেবাননে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল
আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ মার্চ ১১, ২০২৬ 0

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ইরান ও লেবাননের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। একই সময়ে ইরানও পাল্টা হামলার দাবি করেছে, যার ফলে পুরো অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পরপরই সেখানে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে ওই বিস্ফোরণের তীব্রতা দেখা গেছে।   সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননে ইসরায়েলের হামলার মাত্রা বেড়েছে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ চলমান সংঘাতে সক্রিয় হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে প্রায় প্রতিদিন বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।   ইসরায়েলের দাবি, এসব অভিযানে মূলত হেজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা করা হচ্ছে।   এদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরানের ভেতরেও কিছু সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।   অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালিয়েছে।   এদিকে হরমুজ প্রণালীর কাছে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ইরানের ১৬টি মাইন পাতা জাহাজ ধ্বংস করে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও হেজবুল্লাহ এই চার পক্ষের সরাসরি সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করছে।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক বাহিনী। ছবি: এএফপি (ফাইল)
হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজে পাহারা দিতে দ্বিধায় যুক্তরাষ্ট্র: আলোচনায় ইরানের ‘মোজাইক ডকট্রিন’
নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ১১, ২০২৬ 0

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইরানের তথাকথিত ‘মোজাইক ডকট্রিন’। মাত্র ৩৩ কিলোমিটার প্রশস্ত এই প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল নিরাপদ রাখতে মার্কিন নৌবাহিনী সামরিক পাহারা দিতে এখনো অনাগ্রহ দেখিয়েছে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।   রয়টার্সের ১০ মার্চের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হওয়ার পর থেকে তেল ও শিপিং খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচলে সামরিক এসকর্ট চেয়ে আসছে। তবে মার্কিন নৌবাহিনী এখন পর্যন্ত এ ধরনের পাহারা দিতে রাজি হয়নি। কারণ হিসেবে তারা ইরানের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিকে অত্যন্ত বেশি বলে উল্লেখ করেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। আরব সাগরে মোতায়েন রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং লোহিত সাগরে রয়েছে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড। এছাড়া আরও একটি ক্যারিয়ার গ্রুপ মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিটি পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরীতে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান এবং অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যও তাদের যুদ্ধজাহাজ এই অঞ্চলে পাঠিয়েছে।   তবে বিশ্লেষকদের মতে, এত সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালীর মতো সংকীর্ণ জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ নয়। প্রণালীর সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র ৩৩ কিলোমিটার, আর ট্যাঙ্কার চলাচলের কার্যকর করিডোর দুই দিক মিলিয়ে প্রায় ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত সংকুচিত হয়ে আসে। সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন এই পথ দিয়ে প্রায় ১৩৮টি তেলবাহী জাহাজ চলাচল করত।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল যাকে ‘মোজাইক ডকট্রিন’ বলা হয় এই অঞ্চলে বড় শক্তিগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, দ্রুতগতির নৌকা এবং সমুদ্রের মাইন ব্যবহারের মতো বিভিন্ন কৌশল একসঙ্গে প্রয়োগ করে ছোট ছোট ইউনিটের মাধ্যমে আক্রমণের সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে।   মার্কিন নৌবাহিনীর বিশ্লেষকদের মতে, গভীর সমুদ্রে শক্তি প্রদর্শনের জন্য তৈরি বড় যুদ্ধজাহাজগুলো সংকীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে সব সময় কার্যকর নয়। কারণ একটি ছোট সমুদ্র-মাইনও একটি বড় যুদ্ধজাহাজের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কার পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা “যত দ্রুত সম্ভব এবং যৌক্তিক সময়ের মধ্যে” চালু করা হতে পারে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো সামরিক এসকর্ট কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।   বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই করিডোরে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

গাজা যুদ্ধে বেড়েছে বিধবা ও বেকার নারীর সংখ্যা
গাজা যুদ্ধে বেড়েছে বিধবা ও বেকার নারীর সংখ্যা — ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান ব্যুরো
নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ১১, ২০২৬ 0

ফিলিস্তিনের সরকারি সংস্থা প্যালেস্টাইন সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ স্ট্যাটিকস জানিয়েছে, চলমান গাজা যুদ্ধের ফলে নারীদের মধ্যে বিধবার সংখ্যা ও বেকারত্ব উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট গভীর হয়েছে এবং স্বাস্থ্যখাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ফিলিস্তিনে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯ শতাংশ নারী হবে, যার সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ ৪০ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ১৬ লাখ ৯০ হাজার নারী পশ্চিম তীরে এবং প্রায় ১০ লাখ ৬০ হাজার নারী গাজা উপত্যকায় বসবাস করছেন।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ২২ হাজার ৫৭ জন নারী তাদের স্বামীকে হারিয়েছেন। ফলে নারী-প্রধান পরিবারের হার যুদ্ধের আগে ১২ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে।   শ্রমবাজারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে গাজায় নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার মাত্র ১৭ শতাংশ, আর নারীদের বেকারত্বের হার বেড়ে ৯২ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে পুরুষদের বেকারত্বের হার ৮১ শতাংশ।   অন্যদিকে পশ্চিম তীরে নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ প্রায় ১৯ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের অংশগ্রহণ ৭২ শতাংশ। সেখানে বেকারত্বের হার নারীদের মধ্যে ২৭ শতাংশ এবং পুরুষদের মধ্যে ২৮ শতাংশ।   ১৯ থেকে ২৯ বছর বয়সী ডিপ্লোমা বা উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৭৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নারীদের বেকারত্ব ৮৬ শতাংশ এবং পুরুষদের ৭০ শতাংশ।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের কারণে পরিবার, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নারী ও শিশুদের ওপর।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
গুঞ্জনের মাঝেই ভিডিওবার্তা দিলেন নেতানিয়াহু
নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ১১, ২০২৬ 0

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে সামনে রেখে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও এর আর্থিক দিক নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে তাদের যুদ্ধের পথে যেতে হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।   নেতানিয়াহু বলেন, যুদ্ধ পরিচালনা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এর জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন। সে কারণে প্রতিরক্ষা খাতের জন্য অতিরিক্ত অর্থ জোগাতে একটি বিশেষ বাজেট ঘোষণার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এই সংঘাত সামাল দিতে কয়েক বিলিয়ন শেকেল অতিরিক্ত ব্যয় করতে হতে পারে।   এদিকে ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত হয়ে ২ হাজার ৩৩৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে এখনো ৯৫ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে।   মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, শুধু গত ২৪ ঘণ্টাতেই নতুন করে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৯১ জন।   সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল

Follow us

Trending

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্চ ১, ২০২৬
আসিফ নজরুল Play Video
173 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
আমির খসরু Play Video
190 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
125 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
আইন-আদালত
Advertisement
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
বাংলাদেশ
জাতীয়