Live update news
ট্রাম্পের আহ্বান উপেক্ষা, হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ না পাঠানোর ইঙ্গিত জাপানের

মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ পাহাড়ায় জাপানি নৌবাহিনী পাঠানোর বিষয়টি এক বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। রোববার জাপানের সরকারি সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাপান, চীন, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন বন্ধুরাষ্ট্রকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নীতিনির্ধারক প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি জানান, আইনি দিক থেকে সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে না দিলেও, বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে জাহাজ পাঠানো অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল একটি বিষয়। জাপানের শান্তিবাদী সংবিধান সামরিক হস্তক্ষেপের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। গত সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্পষ্ট করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণের জন্য কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা জাপানের নেই।  আগামী বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সাথে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত বৈঠকের আগে এই দাবি টোকিওকে বেশ চাপে ফেলেছে। শুল্ক ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনার কথা থাকলেও এখন ট্রাম্পের এই সামরিক দাবিই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোবায়াশি আরও উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্পের বক্তব্য প্রায়ই পরিবর্তিত হয়, তাই ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝে জাপানের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

৪২ মিনিট Ago
হরমুজে রণতরি মোতায়েনের ডাক ট্রাম্পের: যা বলছে মিত্রদেশগুলো

ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার উত্তেজনা এখন আর কেবল বাগযুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি সংঘাতের দিকে মোড় নিচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।  এমন পরিস্থিতিতে ওই পথে মিত্রদেশগুলোকে নিজেদের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার এই আহ্বানে মিত্রদের পক্ষ থেকে এখনো মেলেনি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি, বরং প্রতিটি দেশই হাঁটছে সতর্ক পথে। শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে, যেসব দেশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল আমদানি করে, সেই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে। তিনি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যকে সরাসরি এই নিরাপত্তা মিশনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে কেবল সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের এই আহ্বানে সাড়া দেওয়াটা মিত্রদের জন্য বেশ জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাপানের ক্ষমতাসীন দলের নীতি নির্ধারণী প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি জানিয়েছেন, দেশটির সংবিধান অনুযায়ী বিদেশের মাটিতে বা জলসীমায় সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা আইনিভাবে অত্যন্ত দুরূহ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জাপানি সংবিধান অনুযায়ী, দেশটির অস্তিত্ব সরাসরি হুমকিতে না পড়লে তারা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে না। অন্যদিকে, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এখনই কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ফ্রান্স এই অঞ্চলে একটি স্থিতিশীল জোট গঠনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, আর যুক্তরাজ্য তাদের মিত্রদের সাথে সম্ভাব্য বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে ইরানও পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হরমুজ প্রণালি আরও কিছুদিন বন্ধ রাখার পক্ষেই মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।  পাল্টাপাল্টি হিসেবে রোববার ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং তিনটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। যদিও সৌদি আরবের আকাশে বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করার খবর পাওয়া গেছে, তবে তেহরান সেই ড্রোনগুলোর সাথে তাদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে এখন এক অস্থির সময় পার হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

৪৬ মিনিট Ago
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় দুই শতাধিক শিশু নিহত

ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে এক ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।  ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২০২ জন শিশু এবং ২২৩ জন নারী প্রাণ হারিয়েছেন। মর্মান্তিক এই নিহতের তালিকায় রয়েছেন তিনজন অন্তঃসত্ত্বা মা-ও। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিহত শিশুদের মধ্যে ১২ জনের বয়স পাঁচ বছরের নিচে।  এই বর্বরোচিত হামলায় সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ওই অঞ্চলে বর্তমানে চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

৫২ মিনিট Ago
ট্রাম্পের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনাকে 'অত্যন্ত বিপজ্জনক' বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ইরানের হাতে অবরুদ্ধ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী। এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়।  বর্তমানে ইরান এই পথটি কার্যত অচল করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে সুরক্ষা দিতে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের পরিকল্পনা করছেন। তবে এই পরিকল্পনাকে 'ভয়াবহ বিপজ্জনক এক মিশন' বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিফেন্স প্রায়োরিটিজের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক রোজমেরি কেলানিক। তার মতে, এই সরু জলপথের উত্তর দিকে ইরানের শক্তিশালী অবস্থান থাকায় তারা সহজেই ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালাতে পারে। প্রণালীটি এতটাই সংকীর্ণ যে, উপকূল থেকে হামলা চালানো হলে মার্কিন বা অন্য দেশের যুদ্ধজাহাজের পক্ষে তা ঠেকানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ট্রাম্প সম্প্রতি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ লিখেছেন যে, তিনি আশা করছেন চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোও এই পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমেরিকার সাথে যোগ দেবে। যদিও কোন কোন দেশ প্রকৃতপক্ষে রাজি হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।  উল্লেখ্য, সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় অন্তত ১৭টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

১ ঘন্টা Ago
ছবি: সংগৃহীত।
আন্তর্জাতিক
ওমরাহ ও হজযাত্রীদের জন্য মক্কায় বিশেষ সেবা চালু

পবিত্র গ্র্যান্ড মসজিদে আগত ওমরাহ ও হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মক্কায় চালু করা হয়েছে বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা ‘সেফ হার্ট জোন’। আরব নিউজের তথ্য অনুযায়ী, মক্কা হেলথ ক্লাস্টারের উদ্যোগে এবং কিং আবদুল্লাহ মেডিক্যাল সিটির সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন রমজান ও হজ মৌসুমে যখন কাবা শরীফে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে, তখন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। উন্নত প্রযুক্তিতে সাজানো ‘সেফ হার্ট জোন’ এই প্রকল্পের অধীনে ১০টি অত্যাধুনিক কার্ডিয়াক ইনটেনসিভ কেয়ার বেড স্থাপন করা হয়েছে। জরুরি সেবা দিতে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকছেন ৩০ জন উচ্চপ্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী। দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য হারাম হাসপাতালের মাধ্যমে একটি মোবাইল ক্যাথেটারাইজেশন ল্যাব ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে রোগীদের হাসপাতালে স্থানান্তরের আগেই ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া গুরুতর রোগীদের জন্য ইসিএমও (ECMO), হার্টে স্টেন্ট বসানো এবং বিশেষায়িত জীবনরক্ষাকারী ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাথেটারাইজেশন পরবর্তী রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য সেন্টারে স্থানান্তরের জন্য কঠোর ক্লিনিক্যাল প্রটোকল অনুসরণ করা হবে। এই উদ্যোগের ফলে মক্কায় আগত মুসল্লিদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি আরও সহজ ও দ্রুততর হলো।

নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, তেল আভিভ ও জেরুজালেমে ধ্বংসযজ্ঞ

জেরুজালেম ও তেল আভিভ: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইরানের অতর্কিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায়। মঙ্গলবার রাতে ইরান থেকে ইসরায়েল অভিমুখে কয়েক দফায় কয়েক শ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এর ফলে তেল আভিভসহ ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় শহরগুলোতে বিশাল অগ্নিকাণ্ড ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তাদের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও আকাশ থেকে ঝরে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।  এছাড়া মধ্য ইসরায়েলের বেশ কিছু জনপদে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরের হুওয়ারা থেকে পাওয়া ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ চিরে আছড়ে পড়ছে, যা গোটা অঞ্চলে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ইরান এই হামলাকে তাদের ওপর হওয়া পূর্ববর্তী আক্রমণের প্রতিশোধ হিসেবে দাবি করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েল এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যা পুরো অঞ্চলকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজে রণতরি মোতায়েনের ডাক ট্রাম্পের: যা বলছে মিত্রদেশগুলো

ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার উত্তেজনা এখন আর কেবল বাগযুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি সংঘাতের দিকে মোড় নিচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।  এমন পরিস্থিতিতে ওই পথে মিত্রদেশগুলোকে নিজেদের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার এই আহ্বানে মিত্রদের পক্ষ থেকে এখনো মেলেনি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি, বরং প্রতিটি দেশই হাঁটছে সতর্ক পথে। শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে, যেসব দেশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল আমদানি করে, সেই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে। তিনি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যকে সরাসরি এই নিরাপত্তা মিশনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে কেবল সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের এই আহ্বানে সাড়া দেওয়াটা মিত্রদের জন্য বেশ জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাপানের ক্ষমতাসীন দলের নীতি নির্ধারণী প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি জানিয়েছেন, দেশটির সংবিধান অনুযায়ী বিদেশের মাটিতে বা জলসীমায় সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা আইনিভাবে অত্যন্ত দুরূহ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জাপানি সংবিধান অনুযায়ী, দেশটির অস্তিত্ব সরাসরি হুমকিতে না পড়লে তারা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে না। অন্যদিকে, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এখনই কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ফ্রান্স এই অঞ্চলে একটি স্থিতিশীল জোট গঠনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, আর যুক্তরাজ্য তাদের মিত্রদের সাথে সম্ভাব্য বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে ইরানও পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হরমুজ প্রণালি আরও কিছুদিন বন্ধ রাখার পক্ষেই মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।  পাল্টাপাল্টি হিসেবে রোববার ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং তিনটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। যদিও সৌদি আরবের আকাশে বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করার খবর পাওয়া গেছে, তবে তেহরান সেই ড্রোনগুলোর সাথে তাদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে এখন এক অস্থির সময় পার হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় দুই শতাধিক শিশু নিহত

ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে এক ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।  ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২০২ জন শিশু এবং ২২৩ জন নারী প্রাণ হারিয়েছেন। মর্মান্তিক এই নিহতের তালিকায় রয়েছেন তিনজন অন্তঃসত্ত্বা মা-ও। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিহত শিশুদের মধ্যে ১২ জনের বয়স পাঁচ বছরের নিচে।  এই বর্বরোচিত হামলায় সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ওই অঞ্চলে বর্তমানে চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

ছবি: সংগৃহীত।
ট্রাম্পের আহ্বান উপেক্ষা, হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ না পাঠানোর ইঙ্গিত জাপানের

মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ পাহাড়ায় জাপানি নৌবাহিনী পাঠানোর বিষয়টি এক বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। রোববার জাপানের সরকারি সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাপান, চীন, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন বন্ধুরাষ্ট্রকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নীতিনির্ধারক প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি জানান, আইনি দিক থেকে সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে না দিলেও, বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে জাহাজ পাঠানো অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল একটি বিষয়। জাপানের শান্তিবাদী সংবিধান সামরিক হস্তক্ষেপের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। গত সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্পষ্ট করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণের জন্য কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা জাপানের নেই।  আগামী বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সাথে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত বৈঠকের আগে এই দাবি টোকিওকে বেশ চাপে ফেলেছে। শুল্ক ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনার কথা থাকলেও এখন ট্রাম্পের এই সামরিক দাবিই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোবায়াশি আরও উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্পের বক্তব্য প্রায়ই পরিবর্তিত হয়, তাই ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝে জাপানের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

ছবি: সংগৃহীত।
ইজরায়েলকে গোপন তথ্য পাচার! ইরানে গ্রেপ্তার ২০ ‘বিশ্বাসঘাতক’

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে। একদিকে আমেরিকার ভয়াবহ বোমাবর্ষণ, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা আঘাত—সব মিলিয়ে এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে তেহরান। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে কাজ করা এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল সামরিক তথ্য পাচারের অভিযোগে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ধৃত ব্যক্তিরা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও নিরাপত্তা বিভাগের গোপন নথি তেল আভিভের কাছে পৌঁছে দিচ্ছিল। যদিও সমালোচকদের দাবি, কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই এই গণগ্রেপ্তার চালানো হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি ইরানের সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা চেকপয়েন্টগুলোতে ইসরায়েলি নিখুঁত হামলা প্রমাণ করে যে, ভেতর থেকেই কেউ তথ্য সরবরাহ করছে। শনিবার ভোরে ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে আমেরিকার ভয়াবহ হামলার পর থেকেই পাল্টাপাল্টি উত্তেজনা তুঙ্গে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর বোমাবর্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেছেন, ওই দ্বীপের সমস্ত সামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে মিসাইল হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধের এই আবহে বিশ্ব অর্থনীতিও বড়সড় ঝুঁকির মুখে। ইরান ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে মিসাইল মোতায়েন করে রেখেছে, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী। পাশাপাশি ইয়েমেনের হাউথি বিদ্রোহীরা বাব এল-মান্ডেব প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এক মহাপ্রলয়ের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে মধ্যপ্রাচ্য।

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • ছাত্র রাজনীতি
  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • অন্যান্য দল
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

Opinion

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত।
ট্রাম্পের আহ্বান উপেক্ষা, হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ না পাঠানোর ইঙ্গিত জাপানের
ইসতিয়াক মাহমুদ মার্চ ১৫, ২০২৬ 0

মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ পাহাড়ায় জাপানি নৌবাহিনী পাঠানোর বিষয়টি এক বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। রোববার জাপানের সরকারি সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাপান, চীন, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন বন্ধুরাষ্ট্রকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নীতিনির্ধারক প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি জানান, আইনি দিক থেকে সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে না দিলেও, বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে জাহাজ পাঠানো অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল একটি বিষয়। জাপানের শান্তিবাদী সংবিধান সামরিক হস্তক্ষেপের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। গত সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্পষ্ট করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণের জন্য কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা জাপানের নেই।  আগামী বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সাথে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত বৈঠকের আগে এই দাবি টোকিওকে বেশ চাপে ফেলেছে। শুল্ক ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনার কথা থাকলেও এখন ট্রাম্পের এই সামরিক দাবিই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোবায়াশি আরও উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্পের বক্তব্য প্রায়ই পরিবর্তিত হয়, তাই ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝে জাপানের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজে রণতরি মোতায়েনের ডাক ট্রাম্পের: যা বলছে মিত্রদেশগুলো
ইসতিয়াক মাহমুদ মার্চ ১৫, ২০২৬ 0

ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার উত্তেজনা এখন আর কেবল বাগযুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি সংঘাতের দিকে মোড় নিচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।  এমন পরিস্থিতিতে ওই পথে মিত্রদেশগুলোকে নিজেদের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার এই আহ্বানে মিত্রদের পক্ষ থেকে এখনো মেলেনি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি, বরং প্রতিটি দেশই হাঁটছে সতর্ক পথে। শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে, যেসব দেশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল আমদানি করে, সেই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে। তিনি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যকে সরাসরি এই নিরাপত্তা মিশনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে কেবল সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের এই আহ্বানে সাড়া দেওয়াটা মিত্রদের জন্য বেশ জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাপানের ক্ষমতাসীন দলের নীতি নির্ধারণী প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি জানিয়েছেন, দেশটির সংবিধান অনুযায়ী বিদেশের মাটিতে বা জলসীমায় সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা আইনিভাবে অত্যন্ত দুরূহ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জাপানি সংবিধান অনুযায়ী, দেশটির অস্তিত্ব সরাসরি হুমকিতে না পড়লে তারা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে না। অন্যদিকে, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এখনই কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ফ্রান্স এই অঞ্চলে একটি স্থিতিশীল জোট গঠনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, আর যুক্তরাজ্য তাদের মিত্রদের সাথে সম্ভাব্য বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে ইরানও পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হরমুজ প্রণালি আরও কিছুদিন বন্ধ রাখার পক্ষেই মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।  পাল্টাপাল্টি হিসেবে রোববার ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং তিনটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। যদিও সৌদি আরবের আকাশে বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করার খবর পাওয়া গেছে, তবে তেহরান সেই ড্রোনগুলোর সাথে তাদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে এখন এক অস্থির সময় পার হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় দুই শতাধিক শিশু নিহত
ইসতিয়াক মাহমুদ মার্চ ১৫, ২০২৬ 0

ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে এক ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।  ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২০২ জন শিশু এবং ২২৩ জন নারী প্রাণ হারিয়েছেন। মর্মান্তিক এই নিহতের তালিকায় রয়েছেন তিনজন অন্তঃসত্ত্বা মা-ও। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিহত শিশুদের মধ্যে ১২ জনের বয়স পাঁচ বছরের নিচে।  এই বর্বরোচিত হামলায় সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ওই অঞ্চলে বর্তমানে চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

ছবি: সংগৃহীত।
ট্রাম্পের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনাকে 'অত্যন্ত বিপজ্জনক' বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ইসতিয়াক মাহমুদ মার্চ ১৫, ২০২৬ 0

ইরানের হাতে অবরুদ্ধ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী। এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়।  বর্তমানে ইরান এই পথটি কার্যত অচল করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে সুরক্ষা দিতে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের পরিকল্পনা করছেন। তবে এই পরিকল্পনাকে 'ভয়াবহ বিপজ্জনক এক মিশন' বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিফেন্স প্রায়োরিটিজের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক রোজমেরি কেলানিক। তার মতে, এই সরু জলপথের উত্তর দিকে ইরানের শক্তিশালী অবস্থান থাকায় তারা সহজেই ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালাতে পারে। প্রণালীটি এতটাই সংকীর্ণ যে, উপকূল থেকে হামলা চালানো হলে মার্কিন বা অন্য দেশের যুদ্ধজাহাজের পক্ষে তা ঠেকানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ট্রাম্প সম্প্রতি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ লিখেছেন যে, তিনি আশা করছেন চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোও এই পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমেরিকার সাথে যোগ দেবে। যদিও কোন কোন দেশ প্রকৃতপক্ষে রাজি হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।  উল্লেখ্য, সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় অন্তত ১৭টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

Follow us

Trending

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্চ ১, ২০২৬
আসিফ নজরুল Play Video
179 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
আমির খসরু Play Video
195 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
127 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
আইন-আদালত
Advertisement
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
বাংলাদেশ
জাতীয়