আইসিই

গুরুতর প্রতিবন্ধী দুই সন্তানসহ ভুক্তভোগী মা। ছবি: সংগৃহীত
বাবা-মা আইসিইর হাতে বন্দী, প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের সামনে এখন কার আশ্রয়ে থাকবে!

ফ্লোরিডার ইন্ডিয়ানটাউনে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে বাবা-মা আটক হওয়ার পর গুরুতর প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাবা-মাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হলে সন্তানদের দেখাশোনা কে করবে এবং তারা কোথায় থাকবে, তা নিয়ে পরিবারটির সামনে বড় সংকট দেখা দিয়েছে।   ট্রেজার কোস্ট পাম বিচের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারটির পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে না পারলে তাদের প্রতিবন্ধী সন্তানদের স্টেটের হেফাজতে নেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। সন্তানদের বিশেষ যত্ন ও সহায়তার প্রয়োজন হওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।   পরিবারটির ক্ষেত্রে মূল সংকট তৈরি হয়েছে অভিবাসন আইনের প্রয়োগ এবং প্রতিবন্ধী সন্তানদের দৈনন্দিন যত্নের প্রয়োজনীয়তার মধ্যে। বাবা-মা যদি আইসিইর হেফাজত থেকে মুক্তি না পান কিংবা শেষ পর্যন্ত দেশ থেকে বহিষ্কৃত হন, তাহলে সন্তানদের দেখাশোনার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।   প্রতিবেদনটি এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদার করা হয়েছে। আইসিই দেশজুড়ে যাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশসহ বিভিন্ন অভিবাসন-সংক্রান্ত ব্যবস্থা রয়েছে, তাদের আটক ও বহিষ্কারের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।   তবে কোনো অভিবাসীকে আটক বা বহিষ্কার করা হলেও তার যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটি আলাদা আইনি ও সামাজিক প্রশ্ন তৈরি করে। বিশেষ করে সন্তানরা যদি প্রতিবন্ধী হন এবং নিয়মিত চিকিৎসা, থেরাপি, ব্যক্তিগত সহায়তা বা বিশেষ যত্নের ওপর নির্ভরশীল হন, তাহলে অভিভাবক হারানোর সম্ভাবনা তাদের জন্য আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।   ইন্ডিয়ানটাউন ও আশপাশের এলাকায় অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। কারণ অনেক পরিবারেই বাবা-মা সন্তানদের প্রধান বা একমাত্র পরিচর্যাকারী। অভিভাবক আটক হলে বা দেশ ছাড়তে বাধ্য হলে আত্মীয়স্বজন, পরিচিত ব্যক্তি, সামাজিক সেবা সংস্থা কিংবা স্টেট কর্তৃপক্ষকে বিকল্প যত্নের ব্যবস্থা করতে হতে পারে।   তবে প্রতিবন্ধী সন্তানদের স্টেটের হেফাজতে নেওয়া স্বয়ংক্রিয় কোনো প্রক্রিয়া নয়। শিশুর বয়স, অভিভাবকত্বের অবস্থা, পরিবারের অন্য সদস্যদের সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট স্টেটের শিশু সুরক্ষা ও হেফাজত সংক্রান্ত নিয়মের ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করে।   এ ধরনের পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোর জন্য অভিবাসন আইনজীবীর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবা প্রদানকারী স্থানীয় সংস্থা ও শিশু কল্যাণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সন্তানদের চিকিৎসা ও পরিচর্যার নথি, ওষুধের তালিকা, চিকিৎসকের তথ্য এবং জরুরি অভিভাবকত্ব-সংক্রান্ত কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   ইন্ডিয়ানটাউনের এই পরিবারের ঘটনাটি তাই শুধু অভিবাসন নিয়ে নয়, একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী সন্তানদের নিরাপত্তা, পারিবারিক পরিচর্যা এবং অভিভাবক বিচ্ছিন্নতার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বাবা-মায়ের অভিবাসন মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই এখন সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর একজন পুলিশ কর্মকর্তা। ছবি:সংগৃহীত
আগস্টের মধ্যেই সব ফিল্ড অফিসারকে বডি ক্যামেরার আওতায় আনছে আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) জানিয়েছে, আগস্টের শেষ নাগাদ মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী তাদের সব অফিসার ও এজেন্টকে বডি ক্যামেরা দেওয়ার কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এতে অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযানগুলো আগের চেয়ে বেশি ভিডিও নজরদারির আওতায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও সাধারণ মানুষ কতটা দেখতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।    অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনের পর আইসিইর বডি ক্যামেরা নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গুরুতর আহত হওয়া বা হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনায় ধারণ করা ফুটেজ প্রকাশের বিষয়ে আইসিইর নীতিতে সংস্থার নিজস্ব স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনার ভিডিও সবসময় জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে কি না, তা নিয়ে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।    আইসিইর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডেভিড জে. ভেনচুরেলা অবশ্য সংস্থাটির নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে বাধা সৃষ্টি হতে পারে বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ভিডিও প্রকাশে সীমাবদ্ধতা রাখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আইসিই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং আগস্টের শেষ নাগাদ সব ফিল্ড অফিসার ও এজেন্টকে বডি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোচ্ছে।    আইসিইর ওপর নজরদারি আরও বেড়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রাণঘাতী গুলির ঘটনার পর। জুলাইয়ে মেইনে ২৫ বছর বয়সী এক গাড়িচালক আইসিইর এক অফিসারের গুলিতে নিহত হন। এর কয়েক দিন আগে হিউস্টনে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এক বাড়ি নির্মাণ ব্যবসায়ীও আইসিইর এক অফিসারের গুলিতে নিহত হন। দুই ঘটনাতেই অফিসারদের বডি ক্যামেরায় কোনো ভিডিও ধারণ করা হয়নি।    আইসিইর নতুন বডি ক্যামেরা উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে অভিবাসন অভিযান, গ্রেপ্তার এবং আইন প্রয়োগের বিভিন্ন পরিস্থিতির ভিডিও রেকর্ড তৈরি হবে। তবে গুরুতর ঘটনা ঘটলে সেই ভিডিও তদন্তের স্বার্থে কতদিন আটকে রাখা হবে এবং কোন পরিস্থিতিতে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।   আইসিইর সহযোগী সংস্থা কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপিও বডি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ নিয়ে একই ধরনের প্রশ্নের মুখে রয়েছে। জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে অ্যালেক্স প্রেট্টি নামে এক ব্যক্তির প্রাণঘাতী গুলির ঘটনার ভিডিও এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সিবিপির কমিশনার রডনি স্কট আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছিলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং উপযুক্ত সময়ে ভিডিও প্রকাশ করা হবে।

সিদ্দিকুর রহমান আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
জর্জিয়ার আটলান্টা এলাকায় পরিচালিত অভিবাসন অভিযানে অংশ নেওয়া আইসিই কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান জোরদার, জর্জিয়ায় ১,২০০-এর বেশি অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টা এলাকায় পরিচালিত একটি বড় অভিবাসন অভিযানে ১ হাজার ২০০-এর বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৭২০ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের অভিযোগ রয়েছে অথবা তারা আগে দণ্ডিত হয়েছেন।   ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, "অপারেশন সেফ কমিউনিটি, আটলান্টা" নামে পরিচালিত এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও আটক করা।   আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশন্স বিভাগের নির্বাহী সহযোগী পরিচালক মার্কোস চার্লস ফক্স নিউজের "ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস" অনুষ্ঠানে বলেন, অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যৌন অপরাধ, হামলা, পারিবারিক সহিংসতা, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি রয়েছেন।   তার ভাষায়, "আমরা জর্জিয়ার আটলান্টা এলাকায় ১ হাজার ২০০-এর বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছি। তাদের অর্ধেকেরও বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে।"   চার্লস আরও বলেন, "এদের মধ্যে যৌন অপরাধ, হামলা, পারিবারিক সহিংসতা এবং মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর মতো অপরাধ রয়েছে। তারা শুধু অপরাধের সঙ্গেই জড়িত নন, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন।" ডিএইচএস আরও জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মেক্সিকান নাগরিক রয়েছেন, যিনি অন্তত ৫০০ গ্রাম মেথামফেটামিন বিতরণের ষড়যন্ত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। এছাড়া মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে।   আরেকজন এল সালভাদরের নাগরিকের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ, বিশৃঙ্খল আচরণ এবং মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে একাধিকবার গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। মার্কোস চার্লস বলেন, আইসিই কর্মকর্তারা প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় কংগ্রেস প্রণীত অভিবাসন আইন কার্যকর করতে কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতেও দেশজুড়ে একই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।   তার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভ এবং অভিযানে বাধা দেওয়ার নানা প্রচেষ্টার কারণে আইসিই তাদের অভিযান পরিচালনার কৌশল পরিবর্তন করেছে। অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অভিযুক্তদের শনাক্ত ও আটক করার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এদিকে আইসিইর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে সংস্থাটি প্রায় ৫১ হাজার অভিবাসীকে আটক করেছে, যা তাদের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ। এর আগের মাস জুনে আটক হয়েছিল প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ।   এর আগে ডিএইচএস জানিয়েছিল, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইসিই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রগতিশীল আইনপ্রণেতা সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইসিই বিলুপ্তির দাবিও তুলেছেন। ফলে অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।   উল্লেখ্য, আইসিই ও ডিএইচএসের দেওয়া এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট আদালতে নিষ্পত্তি হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
আশ্রয় আবেদন বিচারাধীন থাকলেও আইসিইর হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। ছবি: সংগৃহীত
বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে বাগদত্তা আটক, ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে এখন অনুতপ্ত সমর্থক

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সমালোচনা করলেন তারই এক সমর্থক। টেক্সাসের ৭৫ বছর বয়সী ব্যবসায়ী জন গ্যানন দাবি করেছেন, তার ভেনেজুয়েলীয় বাগদত্তা ইয়াসমিন সুয়ারেজ রেয়েসকে আইসিই (ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) আটক করার পর তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত।   নিউজউইক ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুলাইয়ের শেষ দিকে লাস ভেগাসে একটি আসবাবপণ্য শিল্প-সংক্রান্ত সম্মেলনে যাওয়ার পথে হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরে আইসিই কর্মকর্তারা ৪৫ বছর বয়সী ইয়াসমিন সুয়ারেজ রেয়েসকে আটক করেন।   জন গ্যানন সিবিএস নিউজকে বলেন, বিমানবন্দরের ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের লাউঞ্জ থেকে বের হওয়ার পর আটজন আইসিই কর্মকর্তা তার বাগদত্তাকে ঘিরে ফেলেন। এরপর তাকে কারণ না জানিয়েই একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।   আজীবন রিপাবলিকান সমর্থক গ্যানন বলেন, "অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন, এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আইন মেনে চলা সাধারণ মানুষ, পরিবার ও শিশুদের এভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো উচিত নয়। এতে পরিবার ভেঙে যাচ্ছে, মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।"   তিনি আরও বলেন, সুযোগ পেলে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করতেন, "আপনি আসলে কী করছেন?" ট্রাম্পকে আবার ভোট দেবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "এই ঘটনার পর আর কখনও নয়।"   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়াসমিন সুয়ারেজ রেয়েস স্পেন ও ভেনেজুয়েলার দ্বৈত নাগরিক। স্পেনের নাগরিক হওয়ায় তিনি ২০২৩ সালের ২৪ অক্টোবর ইএসটিএ বা ভিসা ছাড় কর্মসূচির আওতায় বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এই কর্মসূচির অধীনে সর্বোচ্চ ৯০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ রয়েছে।   তবে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যান এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, আবেদনটি বিচারাধীন থাকায় তিনি বৈধভাবে কাজের অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) এবং টেক্সাসের ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছিলেন। তার আশ্রয় আবেদন তখনও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)-এর বিবেচনাধীন ছিল।   এদিকে নিউজউইকের প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানায়, সুয়ারেজ রেয়েস বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও তার অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি শেষ হয়ে যায়। বিভাগটির ভাষ্য, বিচারাধীন অভিবাসন আবেদন নিজে থেকে কোনো বৈধ অভিবাসন মর্যাদা দেয় না। তার মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন একজন অভিবাসন বিচারক।   ডিএইচএস আরও জানায়, যাদের মূল ভিসা বা বৈধ অবস্থানের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তারা নতুন আবেদন করে থাকলেও আইনগতভাবে আটক হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।   বর্তমানে ইয়াসমিন সুয়ারেজ রেয়েস টেক্সাসের কনরো শহরের মন্টগোমারি প্রসেসিং সেন্টারে আইসিইর হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণ (রিমুভাল) সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া চলছে।   সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে আইসিইর তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব অভিবাসীর নতুন আবেদন বিচারাধীন থাকলেও তাদের পূর্বের বৈধ অবস্থানের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান বাড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা। তাদের দাবি, সহজে আটক করা সম্ভব এমন ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তবে ডিএইচএস বলছে, তারা বিদ্যমান অভিবাসন আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নিচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিও কার্যালয়ে অভিবাসন সংক্রান্ত সাক্ষাৎকারে এসে আটক নিকারাগুয়ার এক অভিবাসী। ছবি: সংগৃহীত
ইউএসসিআইএসে ইন্টারভিউ দিতে এসে আটক এক অভিবাসী; রেকর্ডে মিলল বহিষ্কারাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) এর টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সান অ্যান্টোনিও কার্যালয়ে অভিবাসন সংক্রান্ত একটি সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে এসে আটক হয়েছেন নিকারাগুয়ার এক অভিবাসী। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিয়মিত নথি যাচাইয়ের সময় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর একটি বহিষ্কারাদেশ রয়েছে বলে শনাক্ত হয়। পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) এর হেফাজতে নেওয়া হয়।   বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউএসসিআইএস জানায়, নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের জন্য ওই ব্যক্তি সান অ্যান্টোনিও কার্যালয়ে উপস্থিত হলে কর্মকর্তারা তার নথিপত্র যাচাই করেন। সেই সময় তার বিরুদ্ধে কার্যকর বহিষ্কারাদেশের তথ্য পাওয়া যায়। এরপর বিষয়টি আইসিইকে জানানো হলে সংস্থাটির কর্মকর্তারা তাকে হেফাজতে নেন।   ইউএসসিআইএস তাদের বিবৃতিতে বলেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পের নেতৃত্ব এবং ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সেক্রেটারির নির্দেশনায় সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তারা জানায়, কেউ যেন দেশের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।   সংস্থাটি আটক ব্যক্তির নাম, বয়স বা তিনি কোন ধরনের অভিবাসন সুবিধার জন্য সাক্ষাৎকার দিতে এসেছিলেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।   যুক্তরাষ্ট্রে কারও বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ জারি থাকলে এবং তিনি এখনও দেশে অবস্থান করলে, বিভিন্ন সরকারি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সময় নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে সেই তথ্য শনাক্ত হতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী আইসিই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়ে বহিষ্কারাদেশ কার্যকরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারে।   সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন দমনে এবং বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ইউএসসিআইএসের এই ঘোষণাকে অভিবাসন আইন প্রয়োগে প্রশাসনের চলমান তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে আশ্রয়প্রার্থী ৫৯ বছর বয়সী রুশ নারীকে শিকল পরিয়ে বন্দিশিবিরে পাঠানোর অভিযোগ
নিউইয়র্কে আশ্রয়প্রার্থী ৫৯ বছর বয়সী রুশ নারীকে শিকল পরিয়ে বন্দিশিবিরে পাঠানোর অভিযোগ

নিউইয়র্কের বাফেলো নায়াগ্রা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আলেভতিনা সোবোলেভা নামের ৫৯ বছর বয়সী এক রুশ নারীকে গ্রেপ্তারের পর শিকল পরিয়ে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) বন্দিশিবিরে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ২০ জুলাই নায়াগ্রা জলপ্রপাতে ছুটি কাটানোর পর ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ বাড়িতে ফেরার পথে তাকে আটক করা হয়। আলেভতিনার মেয়ে দারিয়া সোবোলেভা জানিয়েছেন, আটকের সময় তার মাকে কেবল হাতকড়াই পরানো হয়নি, বরং শরীরে শিকল জড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ব্যথায় কষ্ট পেয়ে শিকল সামান্য ঢিলা করার অনুরোধ জানালেও কর্মকর্তারা তাতে কর্ণপাত করেননি।   জানা যায়, ২০২১ সালের অক্টোবরে ছয় মাসের ভিসা নিয়ে মস্কো থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার সানিভেলে মেয়ের কাছে এসেছিলেন আলেভতিনা। কিন্তু তার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালায়। যুদ্ধের সমালোচনা করায় এবং দেশে ফিরলে কারাবরণের প্রবল ঝুঁকি থাকায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের (অ্যাসাইলাম) আবেদন করেন।   তাদের ইমিগ্রেশন আইনজীবী রেজিনা জ্যাকবসন জানান, আশ্রয়প্রার্থীরা সাধারণত একটি চিঠি পেয়ে থাকেন যেখানে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধতা দেওয়া হয়। তবে বর্তমান প্রশাসন ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে বৈধ আশ্রয়প্রার্থীদেরও হেফাজতে নেওয়ার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।   মায়ের এমন অপ্রত্যাশিত পরিণতিতে চরম মর্মাহত মেয়ে দারিয়া। তিনি জানান, তার মা সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে চলেছেন এবং তার কাছে একটি বৈধ ওয়ার্ক পারমিট, ক্যালিফোর্নিয়া রিয়েল আইডি ও সক্রিয় চিকিৎসা বীমা রয়েছে। তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ডও নেই। তা সত্ত্বেও, কোনো ধরনের নথিপত্র পরীক্ষা ছাড়াই সাদাপোশাকের তিন কর্মকর্তা তাকে আটক করে নিয়ে যায়। দারিয়া তার মায়ের মুক্তির জন্য খোলা একটি ওয়েবসাইটে লিখেছেন, এমন একজন নারীকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ফেরত পাঠানো হবে চরম অমানবিক, যেখানে যুদ্ধের সমালোচনা করাটা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।   বর্তমানে লুইজিয়ানার একটি বন্দিশিবিরে বন্দি থাকা আলেভতিনার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে। তিনি প্রগতিশীল স্নায়বিক ব্যাধি, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং শ্রবণ সমস্যায় ভুগছেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ, চশমা বা গরম কাপড় ছাড়াই তাকে তীব্র শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, তিনি কয়েক বছরের মধ্যে হাঁটার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারেন এবং বর্তমানেও দেয়াল না ধরে তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারছেন না।   গ্রেপ্তার হওয়ার পর মাত্র তিন দিনের মধ্যে তাকে ওহিও থেকে লুইজিয়ানাসহ মোট তিনটি ভিন্ন বন্দিশিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছে। আইনজীবী জ্যাকবসনের মতে, বর্তমানে বিচারাধীন আশ্রয়প্রার্থীদের এ ধরনের আটকের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে, তাই তাদের ভ্রমণ এড়িয়ে চলা উচিত। বর্তমানে আলেভতিনার পরিবার ও বন্ধুমহল তাকে ইমিগ্রেশন বন্ডের মাধ্যমে ছাড়িয়ে আনার জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। দারিয়ার এখন একটাই চাওয়া—তার নির্দোষ মাকে যেন দ্রুত বিচার ব্যবস্থার সামনে উপস্থাপন করে বাড়ি ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় তরুণকে জোর করে নির্বাসন কাগজে সই করানোর অভিযোগ
ক্যালিফোর্নিয়ায় তরুণকে জোর করে নির্বাসন কাগজে সই করানোর অভিযোগ, আইসকে ভর্ৎসনা করলেন বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশ করা নিউজিল্যান্ডের ২০ বছর বয়সী এক তরুণকে জোরপূর্বক নির্বাসন নথিতে সই করানোর অভিযোগ উঠেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টদের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন জেলা জজ নোয়েল ওয়াইজ আইসিই-এর এই বেআইনি পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন এবং ওই তরুণকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নির্বাসন ব্যবস্থার ওপর একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এতে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের দ্বারা মৌলিক আইনি সুরক্ষা লঙ্ঘনের বিষয়টি উঠে এসেছে।   আদালতের তিন পৃষ্ঠার আদেশে বলা হয়েছে, কর্নেলিয়াস কাইহাউ হোলানি নামের ওই তরুণ টোঙ্গান বংশোদ্ভূত নিউজিল্যান্ডের নাগরিক। তার বিরুদ্ধে অতীতে কোনো অপরাধ বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের রেকর্ড নেই। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে বাইডেন প্রশাসনের ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের অধীনে ১৭ বছর বয়সে তিনি বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। হোলানি সিয়াটলে বসবাস করেন, তার বয়স্ক দাদির যত্ন নেন এবং স্থানীয় চার্চে ঐতিহ্যবাহী টোঙ্গান নাচ শেখান। তা সত্ত্বেও গত ৩১ জুলাই ওকল্যান্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় চারজন সাদা পোশাকের আইসিই এজেন্ট তাকে হাতকড়া পরিয়ে আটক করে এবং সান ফ্রান্সিসকোর একটি অফিসে নিয়ে যায়।   আদালতের নথি থেকে জানা যায়, সান ফ্রান্সিসকোর অফিসে নিয়ে যাওয়ার পর হোলানিকে একটি নথিতে সই করতে বাধ্য করা হয়। তিনি এটি নির্বাসন সংক্রান্ত কোনো কাগজ কি না তা জানতে চাইলে একজন কর্মকর্তা তাকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বলেন যে এটি তেমন কিছু নয়। না জেনেই হোলানি নথিতে সই করেন এবং পরবর্তীতে এই সই করা নথিটিকেই সরকার তার নির্বাসন বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের অধিকার বাতিলের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে। বিচারক ওয়াইজ তার রায়ে জানান, হোলানিকে কোনো আইনি শুনানি ছাড়াই আটক করা হয়েছিল এবং তাকে আটকে রাখা হলে তা 'অপূরণীয় ক্ষতি'র কারণ হতে পারে।   আদালত সরকারকে ৪ আগস্ট রাত ১১টার মধ্যে হোলানিকে ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টে ফিরিয়ে এনে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে, আদালতের পরবর্তী শুনানি ছাড়া তাকে পুনরায় আটক বা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই ঘটনাটি ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ এবং মার্কিন ফেডারেল আদালতের মধ্যে চলমান আইনি লড়াইয়ের আরেকটি প্রতিচ্ছবি, যেখানে প্রশাসন প্রায়শই অভিবাসন নীতিতে বাধা দেওয়া বিচারকদের 'অ্যাক্টিভিস্ট বিচারক' হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে। আগামী ১৩ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে আইসিই এজেন্টদের মাস্ক নিষেধাজ্ঞায় মার্কিন আদালতের স্থগিতাদেশ
নিউইয়র্কে আইসিই এজেন্টদের মাস্ক নিষেধাজ্ঞায় মার্কিন আদালতের স্থগিতাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রাজ্যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টদের মাস্ক বা মুখাবরণ পরার ওপর রাজ্য সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ দিয়েছেন একজন ফেডারেল বিচারক। তবে স্থানীয় পুলিশ বিভাগের সাথে আইসিই-এর যেকোনো ধরনের সহযোগিতামূলক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রণীত অপর একটি রাজ্য আইন বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। নিউইয়র্কের অ্যালবানিতে অবস্থিত ফেডারেল কোর্টের ডিস্ট্রিক্ট জজ মে ডি’অ্যাগোস্টিনো সম্প্রতি এই রায় প্রদান করেন। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়া, ভার্জিনিয়া এবং পেনসিলভানিয়াতেও ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টদের মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ করার একই ধরনের আইন বাতিল করেছিল আদালত।   বিচারক ডি’অ্যাগোস্টিনো তার রায়ে উল্লেখ করেন, নিউইয়র্ক প্রশাসনের এই পদক্ষেপটি পুলিশের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সৎ উদ্দেশ্যে করা হলেও, সাংবিধানিক যুক্তিতে এটি টিকছে না। মার্কিন সংবিধানের 'সুপ্রিমেসি ক্লজ' বা সর্বোচ্চ ধারা অনুযায়ী, কোনো রাজ্য সরকার সরাসরি ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তবে রাজ্যটি আইসিই-এর সাথে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা বৈধ বলে রায় দিয়েছেন বিচারক। তিনি জানান, রাজ্যের জনকল্যাণ রক্ষা এবং স্থানীয় সম্পদ কীভাবে ব্যয় হবে তা নির্ধারণ করার পূর্ণ অধিকার রাজ্য সরকারের রয়েছে। আগস্টের শেষের দিকে কার্যকর হতে যাওয়া এই আইনের ফলে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা আর আইসিই-এর কোনো অভিযানে সহায়তা করবেন না।   উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ার প্রেক্ষাপটে গত মে মাসের শেষের দিকে এই 'নিউইয়র্ক মাস্ক ল' স্বাক্ষর করেছিলেন রাজ্যের ডেমোক্র্যাট গভর্নর ক্যাথি হোকুল। আদালতের নতুন রায়ের পর ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তোষ প্রকাশ করে একে আইসিই-এর জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অন্যদিকে, আইসিই-এর সাথে অসহযোগিতার আইনটি বহাল থাকায় একে স্বাগত জানিয়েছেন গভর্নর হোকুল এবং নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস।   এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, স্থানীয় পুলিশকে কেবল স্থানীয় বিষয়েই নজর দেওয়া উচিত এবং আইসিই-এর সাথে কোনো সমন্বয়ের ব্যয়ভার নিউইয়র্কের সাধারণ করদাতাদের বহন করা উচিত নয়। মাস্ক নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়েও তারা পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে এই আইসিই ইস্যুটিই ক্যাথি হোকুলের পুনর্নির্বাচনের পথে একটি বড় প্রচারণার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর ধরপাকড়ে নতুন রেকর্ড, জুলাইয়ে গ্রেপ্তার ৫১ হাজার
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর ধরপাকড়ে নতুন রেকর্ড, জুলাইয়ে গ্রেপ্তার ৫১ হাজার

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) অধীনস্থ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) দেশজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, সংস্থাটি শুধুমাত্র জুলাই মাসেই ৫১ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে, যা ডিএইচএসের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের রেকর্ড।   একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরেও ধরপাকড় বাড়িয়েছে আইসিই; সংস্থাটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে বিমানবন্দরগুলো থেকে অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এবিসি নিউজের সাথে আলাপকালে এক অভিবাসন আইনজীবী জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে যাদের আটক করা হচ্ছে তাদের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং তাদের কাছে বৈধ কাজের অনুমতি বা প্যারোলের নথিপত্র রয়েছে।   সাম্প্রতিক এই গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যান নিয়ে এবিসি নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও ডিএইচএস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে গত জুন মাসে ডিএইচএস জানিয়েছিল, আইসিই-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৯ জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো (ডিপোর্টেশন) হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক সূত্রের মতে, আইসিই অত্যন্ত নীরবে দেশজুড়ে তাদের এই অভিযান জোরদার করছে।   অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্ররা মনে করছেন, প্রশাসনের উচিত সম্পূর্ণ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা এবং তাদের মতে, বর্তমান ধরপাকড় অভিযান যথেষ্ট নয়। ট্রাম্প-সমর্থিত 'ওভারসাইট প্রজেক্ট'-এর প্রেসিডেন্ট মাইক হাওয়েল এবিসি নিউজকে বলেন, "বাইডেন আমলে যে পরিমাণ অবৈধ অভিবাসীকে দেশে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমান প্রশাসনের গণ-ডিপোর্টেশনের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তার তুলনায় এই গ্রেপ্তারের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য।" কর্মস্থলে অভিযানকে মূল কৌশল হিসেবে গ্রহণ না করা পর্যন্ত এই সংখ্যা নিচুই থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রকৃত তথ্য আদায়ের জন্য তিনি ডিএইচএসের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান।   এদিকে, ডিএইচএসের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বাইডেন আমলের 'ভয়ংকর' নীতি বাতিল করা হয়েছে, যার কারণে অবৈধভাবে অবস্থানকারীরা দেশের ভেতরে অবাধে বিমান ভ্রমণের সুযোগ পেতেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে ডিএইচএস এটি আর বরদাস্ত করবে না। অবৈধ অভিবাসীরা যেন নিজ দেশে ফেরত যাওয়া (সেলফ-ডিপোর্ট) ছাড়া আর কোনো কারণে উড়োজাহাজ ব্যবহার করতে না পারেন, তা নিশ্চিতে বর্তমান প্রশাসন অত্যন্ত কঠোরভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের আমলে আইসিইর গ্রেপ্তার বেড়েছে, তবে কমেছে দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর অনুপাত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রতি তিনজনের মাত্র একজনের পূর্বে কোনো ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়।   যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস (PNAS)-এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্তদের অনুপাত আগের তুলনায় কমেছে।   গবেষণায় অক্টোবর ২০১৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ১৬ লাখ আইসিই গ্রেপ্তারের সরকারি প্রশাসনিক তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মাত্র ৩৪ শতাংশের বিরুদ্ধে পূর্বের ফৌজদারি দণ্ডের রেকর্ড ছিল। তুলনায়, জো বাইডেনের শেষ বছরে এ হার ছিল ৫২ শতাংশ, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুতে ৭০ শতাংশ এবং বারাক ওবামার শেষ বছরে ৭৯ শতাংশ।   গবেষণার প্রধান লেখক ও ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডার-এর অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক ক্লোই ইস্ট বলেন, গবেষণার ফলাফল দেখায় যে, আইসিইর বাস্তব অভিযান সরকারের দীর্ঘদিনের জনসম্মুখের বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। প্রশাসন যেখানে জননিরাপত্তার স্বার্থে মূলত গুরুতর অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলেছে, বাস্তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বড় অংশের বিরুদ্ধে পূর্বের কোনো ফৌজদারি দণ্ড ছিল না।   তবে এই গবেষণার ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS)। বিভাগটির এক মুখপাত্র বলেন, গবেষণায় ব্যবহৃত তথ্যের যথার্থতা তারা নিশ্চিত করতে পারছে না। তাদের দাবি, আইসিইর গ্রেপ্তার করা অবৈধ অভিবাসীদের ৭০ শতাংশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি দণ্ড অথবা বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এছাড়া বিদেশে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি, গ্যাং সদস্য, সন্ত্রাসী বা ইন্টারপোলের নোটিশভুক্ত ব্যক্তিদের তথ্যও ওই গবেষণায় প্রতিফলিত হয়নি বলে দাবি করে DHS।   গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কমিউনিটি অ্যারেস্ট বা পাড়া-মহল্লা, কর্মস্থল, বিমানবন্দর ও জনসমাগমস্থল থেকে গ্রেপ্তারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাইডেন প্রশাসনের শেষ বছরে যেখানে মোট গ্রেপ্তারের ১৯ শতাংশ ছিল কমিউনিটি অ্যারেস্ট, ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর তা বেড়ে প্রায় ৪৪ শতাংশে পৌঁছেছে।   এদিকে, জুলাই মাসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আইসিই সর্বোচ্চ সংখ্যক মাসিক গ্রেপ্তারের রেকর্ড গড়ে। অভ্যন্তরীণ DHS তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে ৪৬ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ, ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর অবস্থানসহ বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়।   গবেষণার লেখকরা অবশ্য স্পষ্ট করেছেন, তাদের গবেষণায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের অভিবাসন আইন লঙ্ঘন বা বিচারাধীন মামলার বিষয়টি নয়, শুধুমাত্র পূর্বের ফৌজদারি দণ্ডের রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাই গবেষণার ফলাফলকে সেই প্রেক্ষাপটেই বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
ভাইকে কিডনি দিয়ে জীবন বাঁচানো সেই অভিবাসী আবারও আইসিই-এর হেফাজতে
ভাইকে কিডনি দিয়ে জীবন বাঁচানো অভিবাসী আবারও আইসিইর হেফাজতে

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে রুটিন চেক-ইন করার সময় হোসে গ্রেগোরিও গঞ্জালেস নামের এক ভেনেজুয়েলান অভিবাসীকে আবারও আটক করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। প্রায় এক বছর আগে নিজের ছোট ভাইকে কিডনি দিয়ে তার জীবন বাঁচিয়েছিলেন হোসে। গত ২১ জুলাই তাকে আটক করা হয়। গত এপ্রিল মাসে এক বছরের ‘মানবিক প্যারোল’-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে তিনি আইসিই-এর নিবিড় নজরদারি কর্মসূচির অধীনে ছিলেন এবং নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছিলেন। তার আইনজীবী পিটার মেইনেকে জানিয়েছেন, হোসের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং তিনি নজরদারির সব নিয়ম মেনেই চলছিলেন, তাই নিঃস্বার্থ এই মানুষটিকে এভাবে আটক করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।   ছোট ভাই হোসে আলফ্রেডো পাচেকো গত আগস্টে কিডনি প্রতিস্থাপনের পর থেকে বড় ভাই হোসের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। সম্প্রতি একটি মেডিকেল চেকআপ শেষে পাচেকো তার ভাইকে আনতে যাওয়ার কথা জানিয়ে টেক্সট করলে হোসে শুধু লেখেন, "ভাই, আমি তোমাকে ভালোবাসি। তারা আমাকে নির্বাসনে (ডিপোর্ট) পাঠাতে যাচ্ছে।" এই মেসেজ পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন পাচেকো। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, হোসে শুধু তার বড় ভাই নন, তার একমাত্র দেখভালকারীও। তাকে ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে একা হয়ে যাওয়ার চরম আতঙ্কে ভুগছেন পাচেকো।   এর আগে ২০২৫ সালের মার্চ মাসেও হোসেকে আটক করেছিল আইসিই, যার ফলে তার ভাইয়ের কিডনি প্রতিস্থাপন বাধাগ্রস্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সে সময় শিকাগোবাসীর ব্যাপক আন্দোলনের মুখে মানবিক কারণে তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয় এবং আগস্টে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, হোসে ২০২৩ সালের জুনে প্রথমবার অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার চেষ্টা করে বিতাড়িত হন।   পরবর্তীতে ভাইয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি পুনরায় প্রবেশ করেন। তার আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হলেও তাকে গোড়ালি-মনিটর পরিয়ে দেশে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ডিএইচএস-এর মতে, প্যারোলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেখানে অবস্থান করে তিনি দেশের আইন লঙ্ঘন করেছেন। তার আইনজীবী নির্বাসন ঠেকাতে পুনরায় মানবিক প্যারোলের আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।   বর্তমানে হোসেকে মিসৌরির একটি আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং তাকে ভেনেজুয়েলায় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে এই সিদ্ধান্ত হোসে ও তার ভাই উভয়ের জীবনের জন্যই বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। পাচেকো কিডনি প্রতিস্থাপনের পর থেকে বেশ কিছু জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং জানুয়ারিতে মারাত্মক রক্ত সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছিলেন। অন্যদিকে, কিডনি দাতা হিসেবে হোসেরও নিয়মিত মেডিকেল চেকআপ প্রয়োজন। ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এমনিতেই ভঙ্গুর, তার ওপর সম্প্রতি শক্তিশালী ভূমিকম্পে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এত কিছুর পরও আটক কেন্দ্র থেকে ফোন করে ছোট ভাইকে নিজের জন্য দুশ্চিন্তা না করার সান্ত্বনা দিয়েছেন হোসে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন বিমানবন্দরে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া বিদেশি নাগরিকদের গ্রেপ্তার শুরু। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নজরদারি কার্যক্রমে বিমানবন্দরে যাত্রী গ্রেপ্তার শুরু, বিতর্কে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি ব্যবস্থার তথ্য ব্যবহার করে পরিচালিত এই অভিযানে মানবাধিকারকর্মী ও অভিবাসন আইনজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এতে বৈধ অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদনকারীরাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন ও অভিবাসন এবং শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে বিমানযাত্রীদের শনাক্ত করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বিমানবন্দরে নিবন্ধন, নিরাপত্তা তল্লাশি বা উড়োজাহাজে ওঠার আগমুহূর্তে সাধারণ পোশাকে থাকা কর্মকর্তারা যাত্রীদের আটক করছেন।   স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের ভাষ্য, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন কার্যকর করা। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এটি আগের প্রশাসনের নীতির পরিবর্তনের অংশ। তাদের মতে, অবৈধভাবে অবস্থানকারীরা যাতে নির্বিঘ্নে দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণ করতে না পারেন, সে লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   তবে অভিবাসন আইনজীবীদের দাবি, যাদের আশ্রয়ের আবেদন, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা অন্য কোনো বৈধ অভিবাসন আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের মধ্যেও কেউ কেউ এই অভিযানের মুখোমুখি হয়েছেন। অনেকের বিরুদ্ধেই কোনো ফৌজদারি অভিযোগ নেই। এতে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে বিমান ভ্রমণ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বেড়েছে।   কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় কর্মকর্তারাও এই পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, বিমানযাত্রীদের ব্যক্তিগত ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে অভিবাসন অভিযান পরিচালনা করলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাডা, টেনেসি, কলোরাডো ও ম্যাসাচুসেটসসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যের বিমানবন্দরে এ ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এতে অন্তত কয়েক ডজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তবে দেশজুড়ে মোট কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা রয়েছে, তারা অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের আগে আইনজীবীর পরামর্শ নিন। কারণ বর্তমান নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলো অভিবাসন আইন প্রয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসনবিরোধী অভিযান ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় চলমান মামলার এক আসামির কারাদণ্ড। ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে পুলিশ ও তাদের গাড়িতে জ্বলন্ত বস্তুনিক্ষেপ, আইস-বিরোধী বিক্ষোভকারীকে ৩ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর অভিযানের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত সহিংস বিক্ষোভে পুলিশের ওপর আগুন জ্বালানো বস্তু ও পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় এক ব্যক্তিকে তিন বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৪১৫ ডলার ক্ষতিপূরণ পরিশোধেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ৪২ বছর বয়সী ইসমাইল ভেগা। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টলেক এলাকার বাসিন্দা। ২০২৫ সালের ৮ জুন ডাউনটাউন লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভের সময় তিনি অন্যদের সঙ্গে মহাসড়কের ওপরের সেতুতে অবস্থান করেন। সে সময় ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোলের (সিএইচপি) সদস্যরা নিচে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা আগুন জ্বালানো কার্ডবোর্ড, শুকনো গাছপালা ও অন্যান্য জ্বলন্ত বস্তু নিচে থাকা পুলিশ সদস্যদের দিকে নিক্ষেপ করেন।   আদালতে দাখিল করা স্বীকারোক্তিতে ভেগা বলেন, তিনি জানতেন যে সেতুর নিচে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছিলেন এবং আগুন জ্বালানো বস্তু নিক্ষেপ করলে তাদের মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবুও তিনি অন্যদের সঙ্গে আগুন লাগানো বস্তু প্রস্তুত করতে সহায়তা করেন এবং একটি জ্বলন্ত কার্ডবোর্ড সিএইচপির একটি গাড়ির দিকে ছুড়ে মারেন, যা গাড়িটির ওপর গিয়ে পড়ে।   তদন্তে আরও উঠে আসে, বিক্ষোভ চলাকালে ভেগা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে একাধিক পাথরও নিক্ষেপ করেন। পরে তিনি স্বীকার করেন, কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের কাজ ব্যাহত করার উদ্দেশ্যেই তিনি এসব কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন। চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।   মামলার নথিতে প্রসিকিউটররা বলেন, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত সহিংস এবং দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের জীবনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছিল। প্রায় তিন দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোলের এক সার্জেন্ট আদালতে লিখিত বিবৃতিতে জানান, ওই দিনের ঘটনা তার কর্মজীবনের অন্যতম সহিংস অভিজ্ঞতা ছিল এবং এর মানসিক প্রভাব তার পরিবারেও পড়েছে।   এই মামলায় ভেগা পঞ্চম ব্যক্তি, যিনি সাজা পেলেন। একই ঘটনায় অভিযুক্ত ইয়াচুয়া মাউরিসিও ফ্লোরেসের সাজা ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ আগস্ট। অন্যদিকে প্রধান আসামি অ্যাডাম চার্লস পালের্মোর সাজা ঘোষণা হওয়ার কথা ১৪ ডিসেম্বর। তার বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে ফেডারেল কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এবং দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।   মামলাটি তদন্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। তদন্তে সহযোগিতা করেছে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল এবং লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিন কার্ডের ইন্টারভিউতে গিয়ে আটক হওয়া এবং টানা ৬৬ দিন বন্দি থাকার পর নিজ দেশে ডিপোর্ট হওয়া লিথুয়ানিয়ান নারী অ্যারাইডা গুল্ড। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ডের ইন্টারভিউতে গিয়ে গ্রেপ্তার, মার্কিন সেনার স্ত্রীকে ডিপোর্ট করল আইসিই

আমেরিকান আর্মি ভেটেরানের লিথুয়ানিয়ান স্ত্রী অ্যারাইডা গুল্ডকে গ্রিন কার্ডের ইন্টারভিউতে যাওয়ার পর আটক করে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। টানা ৬৬ দিন বন্দি রাখার পর শিকাগো ও’হেয়ার বিমানবন্দর থেকে তাকে লিথুয়ানিয়ায় ডিপোর্ট করা হয়। গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে বিয়েটি বৈধ বলে অনুমোদন পাওয়ার পরপরই তাঁকে একই ভবনে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।   আমেরিকান সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) তাদের বিয়ে ও পিটিশন অনুমোদন করলেও ২০০৯ সালের একটি পুরনো রিমুভাল অর্ডারের অজুহাতে তাঁকে আটক করা হয়। মূলত রাস্তাঘাটে জ্যাম থাকায় ২০০৯ সালে আদালতের শুনানিতে দেরি করে পৌঁছানোর কারণে তাঁর বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতেই একটি আদেশ জারি হয়েছিল। বিচারিক প্রক্রিয়া পুরোপুরি না মেনেই আইসিই এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর পরিবার ও আইনজীবী।   লিথুয়ানিয়ার নাগরিক অ্যারাইডা ২০০০ সালে বৈধ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ৫৩ বছর বয়সী এই নারী গত দুই দশক ধরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ম্যাসাজ থেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে তিন সন্তানকে লালন-পালন করেছেন। ইউএস আর্মি ভেটেরান মার্ক গুল্ডের সঙ্গে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দাম্পত্য জীবন কাটালেও তাঁদের কোনো সুযোগ না দিয়ে হঠাৎ এমন কড়া পদক্ষেপ নেয় ট্রাম্প প্রশাসন।   আটকের পর অ্যারাইডাকে ইলিনয় থেকে কেনটাকি এবং পরে বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে ঘুরিয়ে রাখা হয়। সেখানে তাঁকে পরিবারের সদস্য বা স্বামীর সঙ্গে দেখা করতেও দেওয়া হয়নি। আইসিইর ডিটেনশন সেন্টারের ভেতরের অবস্থা চরম অস্বাস্থ্যকর বলে তিনি অভিযোগ তুলেছিলেন। ডিপোর্টেশনের ফ্লাইটের আগে তাঁকে শুধু কিছু নগদ অর্থ ও জরুরি সরঞ্জাম দেওয়ার অনুমতি পান তাঁর স্বামী।   ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, নির্ধারিত ভিসার মেয়াদ ২০০৯ সালে শেষ হয়ে যাওয়ার পরও দেশে না ফেরায় ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিয়ে অনুমোদন পেলেই আইনি নিরাপত্তা পাওয়া নিশ্চিত হয় না বলেও তারা দাবি করে। অ্যারাইডার আইনি দল ইতিমধ্যে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য বোর্ডে জরুরি আবেদন দাখিল করেছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
যানবাহন তল্লাশি অভিযানে অংশ নেওয়া আইসিই কর্মকর্তাদের জন্য বডি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
যানবাহন তল্লাশিতে এবার বাধ্যতামূলক বডি ক্যামেরা পরবেন আইসিই কর্মকর্তারা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর কর্মকর্তাদের জন্য যানবাহন থামিয়ে পরিচালিত অভিযানে অন্তত একজন কর্মকর্তার বডি ক্যামেরা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পৃথক দুটি অভিযানে দুই ব্যক্তির প্রাণহানির ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের পর ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   রোববার (২০ জুলাই) ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস উইকএন্ড’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্তবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা টম হোম্যান বলেন, বডি ক্যামেরা শুধু জবাবদিহি নিশ্চিত করে না, অনেক ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতাও যাচাই করতে সহায়তা করে।   তার ভাষায়, “বডি ক্যামেরা অনেক বেশি সংখ্যক কর্মকর্তাকে অভিযোগ থেকে মুক্ত প্রমাণ করে, দোষী সাব্যস্ত করার চেয়ে। আমি চাই আমেরিকান জনগণ নিজের চোখে দেখুক, কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সময় কর্মকর্তারা কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন।” হোম্যানের এই ঘোষণা আসে চলতি মাসে টেক্সাস ও মেইন অঙ্গরাজ্যে আইসিই কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনার পর। দুটি ঘটনাই যানবাহন থামিয়ে পরিচালিত অভিযানের সময় ঘটে। তবে ওই অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের কারও কাছেই বডি ক্যামেরা ছিল না। ফলে কী পরিস্থিতিতে গুলি চালানো হয়েছিল, তার কোনো ভিডিওচিত্র পাওয়া যায়নি।   ১৩ জুলাই মেইনের উপকূলীয় শহর বিডেফোর্ডে এক কলম্বিয়ান নাগরিক গুলিতে নিহত হন। এর ছয় দিন আগে টেক্সাসের হিউস্টনে আরেক অভিযানে এক মেক্সিকান নাগরিক প্রাণ হারান। পরপর দুটি ঘটনার পর আইসিইর অভিযান পদ্ধতি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয় এবং মেইন, হিউস্টন ও বোস্টনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে বডি ক্যামেরা না থাকার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় আসে।   একই দিন সিবিএসের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে হোম্যান জানান, চলতি বছরের শুরুতে আংশিক সরকারি অচলাবস্থার কারণে বডি ক্যামেরা কর্মসূচির অর্থায়ন বিলম্বিত হয়েছিল। তবে এখন ক্যামেরাগুলো কেনা হয়েছে এবং প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই দেশজুড়ে আইসিই কর্মকর্তাদের কাছে এসব ক্যামেরা সরবরাহ করা হবে। দুটি প্রাণঘাতী ঘটনার পর গত সপ্তাহে হোম্যান জানিয়েছিলেন, যানবাহন থামিয়ে পরিচালিত অধিকাংশ অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। তবে তার সেই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের পুনরায় এসব অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর দেশজুড়ে যানবাহন তল্লাশি আবার শুরু হয়।   আইসিই প্রথম ২০২৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে বডি ক্যামেরা ব্যবহার শুরু করে। সে সময় বাল্টিমোর, বাফেলো, ডেট্রয়েট, ফিলাডেলফিয়া এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে সীমিত পরিসরে কর্মকর্তাদের কাছে বডি ক্যামেরা সরবরাহ করা হয়। তবে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পরে ট্রাম্প প্রশাসন এই কর্মসূচির গতি কমিয়ে দেয় এবং কংগ্রেসের কাছে এর জন্য বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাবও দেয়। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিনেসোটায় অভিবাসন অভিযান চলাকালে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর তৎকালীন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান ক্রিস্টি নোয়েম জানান, পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইসিইর সব কর্মকর্তার জন্য ধাপে ধাপে বডি ক্যামেরা চালু করা হবে।   রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান শুরু হয়। এরপর থেকে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিভিন্ন অভিযানে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি, শক্তি প্রয়োগের নীতি এবং বডি ক্যামেরার ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে নারী বিক্ষোভকারীকে গুলি, গ্রেপ্তার আইসিই ডিটেনশন সেন্টারের কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) পরিচালিত একটি বন্দিশিবিরের সামনে বিক্ষোভকারী এক নারীকে গুলি করার অভিযোগে ওই শিবিরের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, জিও গ্রুপের পরিচালিত অরোরা আইসিই প্রসেসিং সেন্টারের কর্মী ৪২ বছর বয়সী ব্র্যান্ডন বুথ গত বৃহস্পতিবার রাতে বন্দিশিবিরের কাছাকাছি একটি রাস্তায় নিজের গাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন। বিক্ষোভকারীরা বন্দিশিবিরের প্রবেশপথ আটকে রাখায় তিনি এবং অন্যান্য কর্মীরা ভেতরে ঢুকতে পারছিলেন না।   পুলিশ জানিয়েছে, অপেক্ষারত অবস্থায় দুজন নারী বিক্ষোভকারী কর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান এবং তাদের গাড়ির ছবি তুলে সেখান থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করেন। ঠিক তখনই ব্র্যান্ডন বুথ তার ব্যক্তিগত পিস্তল দিয়ে ওই দুই নারীকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে এক নারীর শরীরের নিম্নাংশে গুলি লাগে। ঘটনার পরপরই বুথ গাড়ি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও মাত্র দুই ব্লক দূর থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং হামলায় ব্যবহৃত পিস্তলটি জব্দ করে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ ওই নারীকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় বুথের বিরুদ্ধে হামলা ও দ্বিতীয় মাত্রার হত্যাচেষ্টার (অ্যাটেম্পটেড সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডার) গুরুতর অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।   অরোরা পুলিশের প্রধান টড চেম্বারলেইন এই ঘটনাকে একটি মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি আখ্যা দিয়ে বলেছেন, অন্যান্য গোলাগুলির মতো এই ঘটনাটিও সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অরোরাতে কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না; একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজে সাংবিধানিক অধিকারের চরম গুরুত্ব থাকলেও সেখানে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। উল্লেখ্য, কলোরাডোর একমাত্র এই আইসিই বন্দিশিবিরটি জিও গ্রুপ নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে, যেখানে ১,৫০০ শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাদের একজন অফ-ডিউটি কর্মী একটি গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত বলে তারা অবগত হয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
আইসিই হেফাজতে ক্যানসারজয়ী অভিবাসী, চিকিৎসার অভাবে ৩ বার হাসপাতালে নেওয়ার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আইসিইর হেফাজতে থাকা এক ক্যানসারজয়ী অভিবাসীকে চিকিৎসাজনিত জটিলতায় তিনবার হাসপাতালে নিতে হয়েছে। আদালতের নথি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত রেকর্ডে উঠে এসেছে, হেফাজতে থাকার সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা নিয়ে একাধিক অভিযোগ করেছেন তিনি। বিষয়টি নতুন করে আইসিই হেফাজতে স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।    নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি একজন রোমানিয়ান নাগরিক। ২০২৫ সালে জরুরি ট্রিপল বাইপাস অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে উঠছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন ১৬টি ওষুধ সেবনের প্রয়োজন ছিল। পরে তাকে আইসিই হেফাজতে নেওয়া হলে আদালতের নথিতে অভিযোগ করা হয়, কিছু সময় তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধ পাননি এবং বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তার চিকিৎসা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এর ফলে বুকে ব্যথা নিয়ে তাকে তিন দফা হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।    আদালতে দাখিল করা নথিতে আরও বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তির আইনজীবীরা মানবিক কারণে তাকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করেছেন। তাদের দাবি, গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিকে আটক রেখে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না দেওয়া তার শারীরিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে।    এদিকে আইসিই বরাবরের মতোই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থাটির দাবি, তাদের হেফাজতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়।    এ ঘটনা এমন এক সময় সামনে এলো, যখন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও কেএফএফ হেলথ নিউজের যৌথ অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অভিবাসন আটককেন্দ্রে চিকিৎসা অবহেলার শত শত অভিযোগের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আদালতের নথিতে বহু আটক ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থতা, প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়া এবং চিকিৎসায় বিলম্বের অভিযোগ করেছেন।    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইসিই হেফাজতে অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন আটককেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা সুবিধা ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানালেও আইসিই বলছে, তাদের স্বাস্থ্যসেবা জাতীয় মানদণ্ড অনুসারেই পরিচালিত হয়।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
আইসিইর গুলিতে নিহত লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর মৃত্যুর ঘটনা এখনো তদন্তাধীন। ছবি: সংগৃহীত
হিউস্টনে আইসিইর গুলিতে নিহত ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে নতুন মোড়, ভ্যানে মাদক থাকার দাবি এফবিআইয়ের

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তার গুলিতে নিহত ৫২ বছর বয়সী লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর মামলায় নতুন মোড় এসেছে। এফবিআই আদালতে দাখিল করা এক অনুসন্ধানী পরোয়ানায় দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তি যে ভ্যানটি চালাচ্ছিলেন, সেখানে অবৈধ মাদক থাকার সম্ভাব্য কারণ পাওয়া গেছে।   ফেডারেল আদালতে দাখিল করা ওই ওয়ারেন্ট আবেদনে বলা হয়, নিয়ন্ত্রিত মাদক বিতরণ, উৎপাদন, বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ অথবা অবৈধভাবে মাদক রাখার অভিযোগ তদন্তের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া সন্দেহভাজন মাদক কার ছিল, সে বিষয়ে নথিতে কোনো নির্দিষ্ট দাবি করা হয়নি।   ওয়ারেন্টে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থলে পৌঁছে এফবিআইয়ের বিশেষ এজেন্ট ডেভিড ম্যাকনিলি ভ্যানের বাইরে থেকে ড্যাশবোর্ডে ছোট প্লাস্টিকের প্যাকেটে সাদা স্ফটিকসদৃশ পদার্থ দেখতে পান। তার ভাষ্য, প্যাকেটগুলোর ধরন ও উপস্থাপনা মেথঅ্যামফেটামিনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। তবে সেগুলোর রাসায়নিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনার পর থেকেই আইসিইর দাবি ছিল, আত্মরক্ষার্থে তাদের এক এজেন্ট গুলি চালিয়েছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে থাকা কর্মকর্তাদের কারও শরীরে বডি-ক্যামেরা না থাকায় সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, গুলির ঘটনার আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভ্যানটিতে কোনো তল্লাশি চালায়নি। পরে এফবিআই আদালতের অনুমতি নিয়ে গাড়িটি তল্লাশি করে।   এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি, যাতে বোঝা যায় গুলি চালানোর সময় আইসিই কর্মকর্তারা গাড়ির ভেতরে সম্ভাব্য মাদক থাকার বিষয়ে আগে থেকেই জানতেন। ময়নাতদন্তে বলা হয়েছে, সালগাদো আরাউহোর মৃত্যু হয়েছে শরীরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে। তবে ঘটনার সময় তার শরীরে কোনো মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি ছিল কি না, সে সম্পর্কিত টক্সিকোলজি রিপোর্ট এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   এদিকে লাতিনো সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সংগঠন লুলাক অ্যাডেলান্তে প্যাকের সভাপতি ডোমিঙ্গো গার্সিয়া অভিযোগ করেছেন, নতুন এই ওয়ারেন্ট প্রকাশের মাধ্যমে তদন্তের মূল বিষয় থেকে জনমত অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তার ভাষায়, পুরো বিষয়টি একটি 'কলঙ্ক ছড়ানোর প্রচারণা' ও 'ধামাচাপার চেষ্টা' বলে মনে হচ্ছে। টেক্সাসের আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)ও বলেছে, পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সংস্থার দাবিগুলো সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা উচিত।   ঘটনার সময় ভ্যানে সালগাদো আরাউহোর সঙ্গে থাকা আরও তিনজনকে এখনো আটক রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে নিহতের ভাই ভিক্টর সালগাদোও রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তিনজনই ইউ-ভিসা সনদ পেয়েছেন, যা তদন্তে সহযোগিতাকারী অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক বহিষ্কার থেকে সাময়িক সুরক্ষা দেয়।   এদিকে হ্যারিস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, তারা অনুসন্ধানী পরোয়ানা দাখিল বা কার্যকর করেনি। তবে এফবিআইয়ের অনুমতিতে তারা ভ্যানটি পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছে।   গুলির ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান। কী পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী গুলি চালানো হয়েছিল এবং ভ্যানে পাওয়া সন্দেহভাজন মাদকের সঙ্গে নিহত ব্যক্তির কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
৩ বছরের শিশুর সামনেই বাবাকে গুলি করলো আইসিই, জানা গেল তিনি অভিযানের লক্ষ্য ছিলেন না

যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা এর এক অভিযানে ২৬ বছর বয়সী এক কলম্বিয়ান নাগরিক গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাকে অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দাবি করা হলেও পরে মার্কিন কর্মকর্তারাই স্বীকার করেন, নিহত ব্যক্তি আসলে ওই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলেন না।   সোমবার সকালে মেইনের বিডেফোর্ড শহরে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশপ্রাপ্ত এক ব্যক্তিকে ধরতে নজরদারি চালাচ্ছিল আইসিই। সংস্থাটির দাবি, ওই ঠিকানা থেকে একটি গাড়ি বের হলে কর্মকর্তারা সেটিকে থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় গাড়িটি পালানোর চেষ্টা করে এবং এক কর্মকর্তার দিকে এগিয়ে আসে। জননিরাপত্তার আশঙ্কায় একজন আইসিই কর্মকর্তা গুলি চালান। এতে গাড়িচালক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।   মেইনের অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যারন ফ্রে জানান, গুলিবর্ষণকারী কর্মকর্তা আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস বিভাগের সদস্য। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) ইন্সপেক্টর জেনারেলের দপ্তর।   যদিও তদন্তকারীরা শুরুতে নিহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রতিবেশীরা তাকে জোয়ান সেবাস্তিয়ান গুয়েরেরো হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে কলম্বিয়ার দূতাবাসও নিশ্চিত করে যে নিহত ব্যক্তি একজন কলম্বিয়ান নাগরিক। দূতাবাস ঘটনার বিস্তারিত জানতে ডিএইচএসের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছে।   মেইন ইমিগ্র্যান্টস রাইটস কোয়ালিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, গুয়েরেরোর বয়স ছিল ২৬ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন বছর বয়সী কন্যাকে নিয়ে বিডেফোর্ডে বসবাস করতেন। স্থানীয় কংগ্রেসওম্যান চেলি পিংরি বলেন, “একটি তিন বছরের শিশু এখন তার বাবাকে আর কখনো দেখতে পাবে না।”   ঘটনার পর বিডেফোর্ডে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা আইসিইর অভিযান ও বলপ্রয়োগের কৌশলের সমালোচনা করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি সাদা রঙের চিহ্নবিহীন এসইউভি থেকে আইসিই লেখা সবুজ ভেস্ট পরা কর্মকর্তারা নেমে একটি সেডান গাড়ি ঘিরে ফেলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরপর কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়।   স্থানীয় বাসিন্দা মেরি হেইস বলেন, তিনি নিহত ব্যক্তির স্ত্রীর সামনে স্বামীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন। একই সঙ্গে ছোট্ট মেয়েটিকেও কাঁদতে দেখেছেন, যে আর কখনো তার বাবাকে ফিরে পাবে না।   মেইনের সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং জানান, প্রথমে তাকে জানানো হয়েছিল নিহত ব্যক্তি গ্রেপ্তারি অভিযানের লক্ষ্য ছিলেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর ডিএইচএসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মার্কওয়েইন মুলিন ফোন করে জানান, নিহত ব্যক্তি আসলে সেই লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না। তিনি আরও বলেন, ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের শরীরে বডি ক্যামেরা ছিল না, ফলে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে।   মেইনের গভর্নর জ্যানেট মিলস বলেন, সরকার যে ব্যক্তিকে খুঁজছিলই না, তার মৃত্যু ঘটনাটিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। তার ভাষায়, এটি অভিবাসন অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুতর অব্যবস্থাপনা ও বেপরোয়া আচরণের ইঙ্গিত দেয়।   এই ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন মাত্র এক সপ্তাহ আগে টেক্সাসের হিউস্টনে আইসিইর আরেক অভিযানে ৫২ বছর বয়সী মেক্সিকান নির্মাণশ্রমিক লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো গুলিতে নিহত হন। পরবর্তীতে সেখানেও ফেডারেল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে, নিহত ব্যক্তি অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলেন না। তবে কর্মকর্তাদের দাবি, তিনি গাড়ি দিয়ে এক আইসিই কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।   সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসিইর অভিযান, বলপ্রয়োগ এবং অভিবাসন আইন বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অভিযানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি, আইন প্রয়োগ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
মেইন ও টেক্সাসের গুলির ঘটনার প্রতিবাদে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত
'আইসিই মানি না' স্লোগানে উত্তাল বোস্টন, মেইন-টেক্সাসের প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের মেইন ও টেক্সাসে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-সংশ্লিষ্ট পৃথক দুটি প্রাণঘাতী গুলির ঘটনার প্রতিবাদে ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিবাসী অধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা “উই ওন’ট পুট আপ উইথ আইসিই” (আইসিইর কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না) স্লোগান দিয়ে সংস্থাটির অভিযানের ধরন ও বলপ্রয়োগের সমালোচনা করেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে মেইন ও টেক্সাসে আইসিই-সংশ্লিষ্ট দুটি পৃথক ঘটনায় প্রাণহানির পর দেশজুড়ে অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই বোস্টনের রাজপথে বিক্ষোভে নামেন শতাধিক মানুষ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, অভিবাসন আইন প্রয়োগের নামে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ বাড়ছে এবং এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি। তারা নিহতদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) ও আইসিইর অবস্থান হলো, সংস্থাটি ফেডারেল আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অপরাধে অভিযুক্ত বা অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে। তাদের দাবি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এসব অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। মেইন ও টেক্সাস—উভয় ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ করেনি। ফলে গুলির ঘটনার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ নিয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।   বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রেক্ষাপটে আইসিইর অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে প্রশাসন সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগের ওপর জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিবাসন অভিযানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং বলপ্রয়োগের সীমা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। বোস্টনের এই বিক্ষোভ সেই জাতীয় বিতর্কেরই সর্বশেষ প্রতিফলন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
আইসিই-এর গাড়ি তল্লাশি কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই-এর গাড়ি তল্লাশি কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত, আসছে নতুন নির্দেশনা

টেক্সাস এবং মেইন অঙ্গরাজ্যে দুটি পৃথক প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থাকে সাময়িকভাবে রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি অভিযান বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   সম্প্রতি এবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনার জেরে মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে জননিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র এবিসি নিউজকে জানিয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন সরাসরি এই নির্দেশনা জারি করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তল্লাশি অভিযানের ওপর আরোপিত এই স্থগিতাদেশটি চিরস্থায়ী নয়, বরং সম্পূর্ণ সাময়িক। মূলত চলমান পরিস্থিতির মূল্যায়ন এবং মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বিরতি নেওয়া হয়েছে।   জানা গেছে, আইসিই কর্মকর্তাদের রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশির নিয়মকানুন ও কৌশল বিষয়ে নতুন করে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হওয়ার পরই পুনরায় এই কার্যক্রম শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০