আইসিই

ছবি: মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা
টেক্সাসে ১৭০০ অপরাধে জড়িত ৭৩৫ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করল আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন এলাকায় মে মাসে এক ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ৭৩৫ জন অপরাধী অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্ট এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। গ্রেপ্তারকৃত এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোট ১ হাজার ৭১১টি অপরাধের সাজা রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০টি অপরাধ সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিপজ্জনক গ্যাং বা অপরাধী চক্রের সদস্য, খুনি, শিশু যৌন নির্যাতনকারী, ধর্ষক, অগ্নিসংযোগকারী, মাদক পাচারকারী এবং বিদেশি পলাতক আসামি রয়েছে।   হিউস্টনের আইসিই এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মে মাসে মোট ৭৩৫ জন অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬২৫ জন সরাসরি মানুষের জীবনহানির জন্য দায়ী। মোট অপরাধের প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থাৎ ১ হাজার ১৮২টি অপরাধ ছিল চরম সহিংস প্রকৃতির, যা জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছিল এবং বাকি অপরাধগুলো মার্কিন নাগরিকদের সম্পদের ক্ষতি করার সঙ্গে সম্পর্কিত। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫ জন বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও নৃশংস আন্তর্জাতিক এবং কারাবন্দী গ্যাংয়ের সদস্য বা সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।   গ্রেপ্তারকৃতদের অপরাধের তালিকায় রয়েছে ৫টি হত্যাকাণ্ড, একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার চেষ্টা, ৩৮টি যৌন অপরাধ, ১২টি মানব পাচার, ১৭০টি চুরি-ডাকাতি এবং ২২৪টি মারাত্মক শারীরিক আক্রমণের ঘটনা। এছাড়া তালিকায় ৪টি অগ্নিসংযোগ, ৩২টি অভিবাসী চোরাচালান, ২৪টি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালানো, ৩০টি অস্ত্র অপরাধ, ৩টি অপহরণ, ২৩টি পারিবারিক সহিংসতা, ৮টি শিশু নির্যাতন এবং ৪৯৫টি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সাজা রয়েছে, যার মধ্যে বারবার এই একই অপরাধ করা ব্যক্তিরাও রয়েছে।   গ্রেপ্তার হওয়া বিপজ্জনক অপরাধীদের মধ্যে হন্ডুরাসের ৪৩ বছর বয়সী হুয়ান এস্তেবান জেলায়া হার্নান্দেজ রয়েছেন, যিনি চারবার বিতাড়িত হওয়ার পরও ফিরে এসে অপরাধে জড়ান এবং তিনি পাইসাস গ্যাংয়ের সদস্য। অন্যান্যদের মধ্যে ভিয়েতনামের দিন কুয় নগুয়েন পুলিশকে হত্যার চেষ্টায় সাজাপ্রাপ্ত এবং মেক্সিকোর মিগুয়েল রোসাস ভেঞ্চুরা ও জাভিয়ের মোয়া-টেনটোরি উভয়ই পূর্বে বিতাড়িত হওয়া সাজাপ্রাপ্ত খুনি আসামি। শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত জোসে ওলবান মার্টিনেজ এবং ১২ বার অনুপ্রবেশকারী মাদক পাচারকারী আলোনসো রাফায়েল ব্যারেরা-ডি লিওনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   হন্ডুরাসের হুয়ান জোসে আগুইলেরা-লেমুস এবং মেলভিন হার্নান্দেজ নামক দুই চরম সহিংস অপরাধীসহ পাকিস্তানের বুরহান কুরেশি এবং এল সালভাদরের ফেলিসিয়ানো লুনা-মেন্ডোজার মতো বহুবার বিতাড়িত অপরাধীদের আটক করা হয়। এছাড়াও আইসিই আরও ২০০ জনেরও বেশি অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে যাদের বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যেমন হন্ডুরাসের ওয়ান্টেড পলাতক আসামি কার্লোস গ্যালিয়ানো লারা। সংস্থাটির মাঠ কর্মকর্তা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেজ বলেন, এরা নিরীহ অর্থনৈতিক অভিবাসী নয়, এরা মূলত মার্কিন নাগরিকদের জন্য বড় হুমকি।   সূত্র: আইসিই

তাবাস্সুম জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আইসিই হেফাজত থেকে মুক্তির পর বাসস্টপে মৃত্যু, তরুণীর মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ বলল যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেল পরীক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই)–এর হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই মারা যাওয়া ৩১ বছর বয়সী ড্যাফি মিশেলের মৃত্যু নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। অ্যালেগেনি কাউন্টির মেডিকেল পরীক্ষক তার মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং মৃত্যুর কারণ হিসেবে হাইপোথার্মিয়া বা অতিরিক্ত ঠান্ডাজনিত শারীরিক বিপর্যয়কে চিহ্নিত করেছেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউটিএই এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত নথি অনুযায়ী, গত ২ মার্চ পিটসবার্গের স্মিথফিল্ড স্ট্রিট ব্রিজের কাছে একটি বাসস্টপে ড্যাফি মিশেলকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।   মেডিকেল পরীক্ষকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ঠান্ডার মধ্যে থাকার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর ঘটনাকে ‘হোমিসাইড’ বা হত্যাকাণ্ড হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের সিদ্ধান্তের অর্থ হলো, অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যকলাপ কিংবা অবহেলা মৃত্যুর পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।   ড্যাফি মিশেলের পরিবারের আইনজীবী জোসেফ মারফি বলেন, “তিনি ছিলেন ৩১ বছর বয়সী একজন সুস্থ নারী। যা-ই ঘটুক না কেন, আমরা আর তার জীবন ফিরিয়ে আনতে পারব না।” তদন্তে জানা গেছে, মৃত্যুর আগে ছয় মাস ধরে তিনি ওয়াশিংটন কাউন্টি কারাগারে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনা লঘু অপরাধের অভিযোগ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আদালত খারিজ করে দেয়। পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন, মুক্তি পাওয়ার পর তারা তাকে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবেন। তবে পরিবারের অজান্তেই তার বিরুদ্ধে একটি অভিবাসন সংক্রান্ত ‘আইসিই ডিটেইনার’ জারি ছিল। ফলে কারাগার থেকে মুক্তির পর তাকে সরাসরি আইসিইর কাছে হস্তান্তর করা হয়।   আইসিই জানিয়েছিল, ড্যাফি মিশেলকে ‘অল্টারনেটিভস টু ডিটেনশন’ কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হয় এবং একই দিন তার পায়ে ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণ যন্ত্র বা অ্যাঙ্কল মনিটর পরিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, মুক্তির পর তিনি নিজের পরিচিত পরিবেশ থেকে অনেক দূরে একা পড়ে যান। পরে তাকে পিটসবার্গের একটি বাসস্টপে দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, মৃত্যুর আগে তিনি ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ওই এলাকায় অবস্থান করেছিলেন। ড্যাফি মিশেলের চাচাতো বোন লিন্ডা মিশেল বলেন, “আমি শুধু কল্পনা করতে পারি, তিনি কতটা ঠান্ডায় কষ্ট পেয়েছিলেন। এমন একটি দেশে কাউকে এভাবে কষ্ট পেতে হবে, এটা মেনে নেওয়া কঠিন।”   পরিবারের আইনজীবী মারফির ভাষ্য, ড্যাফির ভাই তাকে নিতে প্রস্তুত ছিলেন। মাত্র ৪০ মিনিটের পথ পাড়ি দিলেই তিনি পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারতেন। কিন্তু তার পরিবর্তে তাকে এমন একটি জায়গায় ছেড়ে দেওয়া হয়, যেখানে তিনি কাউকে চিনতেন না এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অবস্থায়ও ছিলেন না। তিনি বলেন, “তাকে যদি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো, তাহলে হয়তো তিনি আজ বেঁচে থাকতেন।” এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অ্যালেগেনি কাউন্টির নির্বাহী কর্মকর্তা সারা ইনামোরাতোও। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ড্যাফি মিশেলের মৃত্যু একটি মর্মান্তিক ঘটনা এবং সামান্য মানবিকতা দেখানো হলে এটি এড়ানো সম্ভব ছিল।   তার অভিযোগ, ওয়াশিংটন কাউন্টি কারাগার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না করে আইসিইকে খবর দেয় এবং পরে আইসিই তাকে নিজ বাড়ির পরিবর্তে অপরিচিত একটি এলাকায় ছেড়ে দেয়। এসব সিদ্ধান্ত একজন সহায়তাপ্রয়োজন ব্যক্তির প্রতি চরম উদাসীনতার পরিচয় বহন করে। সারা ইনামোরাতো আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে অভিবাসীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে অতীতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার মতে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আরও জবাবদিহি, তদারকি এবং নীতিগত পরিবর্তন প্রয়োজন। ড্যাফি মিশেলের মৃত্যুর পর মানবাধিকারকর্মী ও অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলছেন, হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়া একজন ব্যক্তির নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্ব কতটুকু এবং সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়েছিল কি না।   এদিকে মেডিকেল পরীক্ষকের ‘হত্যাকাণ্ড’ রায়ের পর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আইনি ও প্রশাসনিক তদন্তের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ড্যাফি মিশেলের পরিবারও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে।   ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় মানবিক দায়িত্ব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে চলমান বিতর্ককেও আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের আবহে নিউইয়র্কে বড় ধরনের আইস অভিযানের হুঁশিয়ারি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরুর প্রাক্কালে নিউইয়র্কে বড় ধরনের অভিবাসন অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের বর্ডার জার টম হোম্যান। বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রীড়া আসরকে ঘিরে যখন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো দর্শকের আগমন ঘটছে, তখন তার এ মন্তব্য অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।   গত সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টম হোম্যান বলেন, নিউইয়র্ক সিটিতে এমন সংখ্যক আইস এজেন্ট মোতায়েন করা হবে, যা শহরটি আগে কখনও দেখেনি। তিনি জানান, একটি অপারেশনাল পরিকল্পনা ইতোমধ্যে পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং বিষয়টি সম্পর্কে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল।   সম্প্রতি গভর্নর হোকুল একটি বিল সই করেন, যার মাধ্যমে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে মুখোশধারী আইসিই এজেন্টদের অভিযান সীমিত করা এবং অভিবাসন কার্যক্রমে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, হোম্যানের বক্তব্য ওই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ার অংশ হতে পারে। এদিকে একই সময়ে নিউজার্সির একটি অভিবাসী আটক কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিও চলছে, যা পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।   এই প্রেক্ষাপটে অভিবাসীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন। সংগঠনটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রত্যেক ব্যক্তি, তার অভিবাসন অবস্থান যাই হোক না কেন, কিছু মৌলিক আইনি অধিকার ভোগ করেন।   সংগঠনটির মতে, এসব অধিকারের মধ্যে অন্যতম হলো নীরব থাকার অধিকার। কেউ আইস বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মুখোমুখি হলে প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ার অধিকার রাখেন। এছাড়া তল্লাশির ক্ষেত্রে সম্মতি না দেওয়া, কোনো নথিতে স্বাক্ষর করার আগে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করা এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নিজের অধিকার সম্পর্কে জানতে চাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন আরও পরামর্শ দিয়েছে, গ্রিন কার্ড, ওয়ার্ক পারমিট বা ভিসার ফটোকপি সঙ্গে রাখা যেতে পারে। তবে প্রয়োজন ছাড়া এসব নথি প্রদর্শন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাসপোর্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মূল নথি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ এবং মোবাইল ফোন পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   পরিবার ও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটি বলছে, কোনো অভিভাবক হঠাৎ আটক হলে শিশুর দেখভালের জন্য আগেই একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে নির্ধারণ করে রাখা উচিত। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ফোন নম্বর, চিকিৎসা তথ্য এবং প্রয়োজনীয় নথির কপি প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী নিউইয়র্কে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের বড় একটি প্রবাসী জনগোষ্ঠীও নিউইয়র্কে বসবাস করে। এমন পরিস্থিতিতে অভিবাসন অভিযান নিয়ে আলোচনা এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে অভিবাসীদের পক্ষে সরব মামদানি, আইস তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান জোরদারের সম্ভাবনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিউইয়র্কে ফেডারেল অভিবাসন সংস্থা আইসিইর তৎপরতা বাড়তে পারে—এমন ইঙ্গিতের পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ও আলোচনা বাড়ছে বিভিন্ন মহলে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সাবেক আইসিই কর্মকর্তা টমাস হোম্যান সম্প্রতি নিউইয়র্কে আরও বেশি সংখ্যক অভিবাসন কর্মকর্তার উপস্থিতির ইঙ্গিত দেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন কার্যক্রম সীমিত করতে গভর্নর ক্যাথি হোকুলের নতুন আইনি পদক্ষেপের পর তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে।   এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিউইয়র্কের সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও ক্রীড়া অঙ্গনে অভিবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজনেও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও শ্রম বড় ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   মামদানি আরও বলেন, “নিউইয়র্ক সবসময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের শহর। আমরা এমন কোনো পরিস্থিতি চাই না, যেখানে মানুষের মধ্যে ভয় বা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।” বিশ্বকাপ উপলক্ষে আগামী সময়ে নিউইয়র্কে বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও দর্শনার্থীর সমাগম হওয়ার কথা রয়েছে। এমন সময়ে অভিবাসন অভিযান নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য শহরটির পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।   তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনেক বক্তব্য অতিরঞ্জিত বা রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ও সরকারি বিবৃতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।   যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম বড় বিষয়। বিশেষ করে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এ নিয়ে মতপার্থক্য ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। সামনের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে এই ইস্যু আরও বেশি গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে, সোফাই স্টেডিয়ামে কর্মরত ২,০০০-এরও বেশি আতিথেয়তা কর্মীর প্রতিনিধিত্বকারী একটি শ্রমিক ইউনিয়ন হুমকি দিয়েছে যে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টরা যদি দূরে না থাকে, তবে তারা ধর্মঘটে যাবে । ছবি: এএফপি
বিশ্বকাপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে অভিবাসী সংগঠনগুলোর সতর্কতা, আইস আতঙ্কে তৎপরতা

আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি আয়োজক শহরে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থা আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট)-এর সম্ভাব্য অভিযান ও গ্রেপ্তার আতঙ্কের কারণে দর্শক ও স্থানীয়দের সতর্ক করতে অন্তত ১২০টিরও বেশি সংগঠন একত্র হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেস, ডালাস, মিয়ামি, সিয়াটলসহ বিভিন্ন শহরে শ্রমিক ইউনিয়ন, মানবাধিকার সংগঠন ও আইনজীবীরা জরুরি সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বকাপ চলাকালীন সম্ভাব্য অভিবাসন আইন প্রয়োগ কার্যক্রমের সময় দ্রুত আইনি সহায়তা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।   লস অ্যাঞ্জেলেসে সোফাই স্টেডিয়ামে কর্মরত দুই হাজারের বেশি হোটেল ও পরিষেবা কর্মীর প্রতিনিধিত্বকারী একটি শ্রমিক ইউনিয়ন হুমকি দিয়েছে, স্টেডিয়াম এলাকায় আইসিই এজেন্টদের উপস্থিতি বন্ধ না হলে তারা ধর্মঘটে যাবে। ডালাসে মানবাধিকার সংগঠন এল মুভিমিয়েন্তো ডিএফডব্লিউ গির্জা, দোকান এবং আবাসিক এলাকায় ‘হুইসেল কিট’ বিতরণ করছে। এতে আইসিই উপস্থিতি সম্পর্কে তথ্য ও বিনামূল্যে অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের উপায় রাখা হয়েছে।   একাধিক সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য ১ কোটি দর্শনার্থীর উদ্দেশে সতর্কতা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে “অবৈধভাবে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা, গ্রেপ্তার, আটক ও নির্বাসনের ঝুঁকি” থাকতে পারে। বিশ্বের অন্যতম বড় এই ক্রীড়া আসর এমন এক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন দেশটির অভিবাসন নীতিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন দমননীতির কারণে এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে দাবি করছে অধিকার সংগঠনগুলো।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলেছে, বিশ্বকাপ চলাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করছে। সংস্থাটির মতে, দর্শক ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।   অধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, তারা জরুরি প্রতিক্রিয়া নেটওয়ার্ক, আইনজীবী সহায়তা এবং দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, যাতে কোনো অভিযান বা গ্রেপ্তার ঘটলে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়। সিয়াটলে শ্রম অধিকার সংগঠন ‘ওয়ার্কিং ওয়াশিংটন’ জানিয়েছে, তারা রেস্তোরাঁ ও কর্মস্থলে কর্মীদের জন্য সাংবিধানিক অধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মুখোমুখি হলে করণীয় ও যোগাযোগ কৌশল।   মিয়ামিতে, যেখানে অভিবাসী গ্রেপ্তারের হার তুলনামূলকভাবে বেশি, সেখানে বিশেষ হটলাইন এবং আইন পর্যবেক্ষক দল সক্রিয় করা হয়েছে। এসব দল আইসিই উপস্থিতি নথিভুক্ত করার কাজ করবে।   কিছু সংগঠন বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ‘নো আইসিই ইন দ্য কাপ’ নামের একটি জাতীয় প্রচারণা শুরু করেছে। এর মাধ্যমে আয়োজক শহরগুলোতে নিরাপদ অঞ্চল, কমিউনিটি সহায়তা কেন্দ্র এবং অভিবাসীদের জন্য সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিয়াটলে কিছু সংগঠন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁর সঙ্গে কাজ করে “সেফ জোন” ঘোষণা করার উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে অভিবাসীরা সহায়তা ও তথ্য পেতে পারবেন।   অধিকারকর্মীদের মতে, এই উদ্যোগ কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের যুক্তি, নিরাপত্তা উদ্বেগ ও অভিবাসন অভিযান যদি পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে, তবে তা স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন মে ৩১, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জয়তু চৌধুরী ও তার স্ত্রী অ্যাশলে ইয়ামিলত
‘মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম’— আইসিই হেফাজতের পর যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে দেশে ফিরলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) হেফাজতে দুই মাস থাকার পর ‘অমানবিক’ পরিস্থিতির অভিযোগ তুলে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জয়তু চৌধুরী। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।   টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩ ডিসেম্বর আইসিই এজেন্টদের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জয়তুকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের একাধিক ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। এ সময় বন্দিশিবিরের পরিবেশ তার মানসিক ও আবেগীয় স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।   জয়তু বলেন, ওই পরিবেশ তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয় এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। তার ভাষায়, “ব্যবস্থাটি এমন যে মানুষ ধীরে ধীরে লড়াই করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।”   জয়তু চৌধুরী ২০২১ সালে এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসায় ইলিনয় ওয়েসলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স ও কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। তবে ২০২৫ সালের আগস্টে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনসংক্রান্ত জটিলতায় তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।   এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং খুচরা চুরির মতো পূর্ববর্তী কিছু অভিযোগ ছিল, যেগুলোর জন্য তিনি অনুতপ্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   আইসিই হেফাজতে থাকার সময় পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সুযোগ-সুবিধার অভাবের অভিযোগ করেন জয়তু। তবে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তাদের ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে যথাযথ চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে।   জয়তুর স্ত্রী অ্যাশলে ইয়ামিলত একজন মার্কিন নাগরিক। শুরুতে তিনি স্ত্রীর কাছে ফিরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিজের জীবন পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে চেয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় বন্দিশিবিরে থাকার অভিজ্ঞতা তাকে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য করে।   শেষ পর্যন্ত তিনি ‘সেলফ-ডিপোর্টেশন’ বা স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। এ বিষয়ে আইসিইর সঙ্গে তার ফেরার টিকিট নিয়ে মতবিরোধও তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান প্রশাসন স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করছে বলে জানা গেছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০
মীনু বাত্রা। ছবি: এক্স
৩৫ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর আটক ভারতীয় নারী, ২৪ ঘণ্টা খাবার-পানি ছাড়া থাকার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ৩৫ বছর বসবাসের পর ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নারীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। আটক ওই নারী মীনু বাত্রা (৫৩) বর্তমানে টেক্সাসের একটি ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন। জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ টেক্সাসের হারলিনজেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করে আইসিই। বর্তমানে তিনি রেমন্ডভিলের এল ভ্যালে ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী আছেন।   মীনু বাত্রা পেশায় একজন লাইসেন্সধারী দোভাষী। পাঞ্জাবি, হিন্দি ও উর্দু ভাষার দোভাষী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন আদালতে কাজ করে আসছিলেন। মিলওয়াকিতে আদালতের একটি দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে তাকে হাতকড়া পরিয়ে আটক করা হয়।   কারাগার থেকে দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মীনু অভিযোগ করেন, তাকে অপরাধীর মতো আচরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “২৪ ঘণ্টা আমাকে খাবার ও পানি ছাড়া রাখা হয়েছিল, এমনকি জরুরি ওষুধও দেওয়া হয়নি।”   তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাতকড়া পরা অবস্থায় তাকে ছবি তুলতে বাধ্য করা হয় এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারের কথা বলা হয়, যা তিনি চরম অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন।   ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গায় বাবা-মাকে হারানোর পর ১৯৯১ সালে শিশু অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান মীনু। দক্ষিণ টেক্সাসে বসবাস করে তিনি চার সন্তানকে বড় করেছেন। তাঁর এক ছেলে বর্তমানে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত।   মীনুর আইনজীবী দীপক আহলুওয়ালিয়া জানান, ২০০০ সালে একটি অভিবাসন আদালত তাকে ভারতে ফেরত না পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল, কারণ সেখানে তার নির্যাতনের ঝুঁকি রয়েছে বলে প্রমাণিত হয়।   আইনজীবীর আশঙ্কা, তার অভিবাসন মামলাটি পুনরায় চালু না হওয়ায় তাকে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হতে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি দেশের সঙ্গে বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের গ্রহণসংক্রান্ত চুক্তিও করেছে।   বর্তমানে মীনু একটি হ্যাবিয়াস কর্পাস আবেদন করে তার আটকাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছেন। তবে আটক হওয়ার এক মাস পার হলেও এখনো তাকে কোথায় পাঠানো হবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ‘খারাপের চেয়ে খারাপ’ তালিকায় ১০ বাংলাদেশি, প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন ও অপরাধ দমনে জোরদার অভিযানের অংশ হিসেবে ‘খারাপের চেয়ে খারাপ’ বা ‘ওর্স্ট অব দ্য ওর্স্ট’ তালিকা প্রকাশ করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র বিভাগ। এই তালিকায় বিভিন্ন দেশের অপরাধীদের পাশাপাশি অন্তত ১০ জন বাংলাদেশির নাম উঠে আসায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।   মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সূত্রে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে রয়েছে যৌন নির্যাতন, অস্ত্র বহন, চুরি, জালিয়াতি ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগ। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে বহিষ্কার (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এই অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে গুরুতর অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা এবং দেশ থেকে বহিষ্কার করা।   অন্যদিকে, এই তালিকা প্রকাশের পর প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, কিছু ব্যক্তির অপরাধের কারণে পুরো কমিউনিটির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কমিউনিটি নেতারা সবাইকে আইন মেনে চলা এবং নিজেদের অবস্থান বৈধ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির কঠোরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন অভিযান আরও বাড়তে পারে। ফলে প্রবাসীদের জন্য সতর্ক থাকা এবং আইনগত বিষয়গুলো সঠিকভাবে মেনে চলা এখন সময়ের দাবি।

তাবাস্সুম মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ডধারীদের বিদেশ থেকে ফেরার পথে বাড়তে পারে জটিলতা, গুরুত্বপূর্ণ রায় সুপ্রিম কোর্টের

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০