পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে অসহায় ও দুস্থদের জন্য শাড়ি ও থ্রি-পিস বরাদ্দ না পাওয়ায় তীব্র আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ। শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। তার অভিযোগ, এই বরাদ্দ শুধুমাত্র সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি এলাকায় দেওয়া হয়েছে এবং বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের বঞ্চিত করা হয়েছে। ফেসবুক পোস্টে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল কোনো দলীয় সম্পদ নয়, এটি রাষ্ট্রের একটি মানবিক সহায়তা তহবিল। প্রধানমন্ত্রী সমগ্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী—কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়। তাই এই তহবিল থেকে সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রাজনৈতিক বিভাজন পরিহার করে সব এলাকার দুস্থ মানুষের জন্য সমান বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। প্রমাণ হিসেবে আব্দুল ওয়ারেছ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি বরাদ্দের স্ক্রিনশটও সংযুক্ত করেন। সেখানে দেখা যায়, উত্তরাঞ্চলের ৫টি জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনে ৭০০ পিস শাড়ি, ১০০ পিস থ্রি-পিস এবং ৫০ পিস হাজী রুমাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জামায়াত নেতার দাবি, তার নির্বাচনি এলাকায় এ ধরনের কোনো সাহায্য না আসায় সাঘাটা-ফুলছড়ি উপজেলার অসহায় মানুষ ঈদ উপহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
দীর্ঘ কয়েক দশকের নির্বাসন কাটিয়ে ইরানের শাসনভার গ্রহণে সরাসরি প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক শাহ-পুত্র রেজা পাহলভি। বর্তমান ইসলামী প্রজাতন্ত্র সরকারের পতন ঘটলে একটি শক্তিশালী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনার মাধ্যমে দেশকে পুনর্গঠন করতে তিনি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এই নির্বাসিত যুবরাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিশেষ বার্তায় জানান, তিনি ইতিমধ্যে ইরানের ভেতরে ও বাইরে থাকা দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি ‘ট্রানজিশনাল সিস্টেম’ বা অন্তর্বর্তী কাঠামো গঠনের কাজ শুরু করেছেন। পাহলভির মূল লক্ষ্য হলো, বর্তমান প্রশাসনের পতন হওয়ার সাথে সাথেই যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই এই কাঠামো দেশের শাসনভার বুঝে নিতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এই অন্তর্বর্তী কাঠামোর রূপরেখা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংকট্যাংক ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রাসিস’-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা সাঈদ ঘাসেমিনেজাদ। তিনি বর্তমানে যোগ্য সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। পাহলভির দাবি, এমন ব্যক্তিদেরই এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যারা খুব অল্প সময়ে ইরানে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটেছিল। দীর্ঘ সময় রাজনীতির আড়ালে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনগুলোতে অনেক বিক্ষোভকারীকে রাজতন্ত্রের সমর্থনে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ভেতরে ক্রমবর্ধমান এই জনমতকে কাজে লাগিয়েই রেজা পাহলভি এখন সরাসরি ক্ষমতার হাল ধরার সাহসী ঘোষণা দিচ্ছেন।
পুলিশ বাহিনীর ভেতরে যারা মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদের আর বাহিনীতে রাখা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে গাজীপুর পুলিশ লাইনসে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। আইজিপি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে তিনি অনেক পুলিশ সদস্যের মাদক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছেন এবং যারাই এসব অনৈতিক কাজে জড়িত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আইজিপি তার বক্তব্যে থানার ওসিদের একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রদর্শনের সংস্কৃতির সমাপ্তি ঘোষণা করে বলেন, পুলিশকে এখন থেকে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের প্রবণতার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষ থেকে টাকা নেওয়ার অভ্যাসের কারণেই আগের নেতৃত্ব আজ বিতর্কিত ও পলাতক। বর্তমান পুলিশ বাহিনীকে সেই কলঙ্কিত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গাজীপুর ও চট্টগ্রামকে দেশের অর্থনীতির ‘লাইফ লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে আইজিপি আরও বলেন, গাজীপুরের ২০টি বস্তিতে মাদকের ছড়াছড়ি তরুণ সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। মাদক ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার রোধে পরিবারের সদস্যদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, যারা নিজেদের সংশোধন করবে না, তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। পুলিশকে দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যেই এই শুদ্ধি অভিযান চলবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১৪ মার্চ) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো—যারা ইরানের এই কৃত্রিম বাধার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে এই পথটি উন্মুক্ত রাখতে নিজেদের যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান এই প্রণালি বন্ধের যে চেষ্টা করছে তা প্রতিহত করতে সম্মিলিত শক্তির প্রয়োজন। এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র খুব শীঘ্রই এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করা সব তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারায় পারাপারের ব্যবস্থা করবে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকাংশে ধ্বংস করা হলেও ছোট ড্রোন বা মাইনের মাধ্যমে তারা এখনও নৌপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। তাই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক নৌ-উপস্থিতি বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে কোন দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে এখনও কোনো চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশ বাহিনীর ভেতরে যারা মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদের আর বাহিনীতে রাখা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে গাজীপুর পুলিশ লাইনসে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। আইজিপি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে তিনি অনেক পুলিশ সদস্যের মাদক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছেন এবং যারাই এসব অনৈতিক কাজে জড়িত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আইজিপি তার বক্তব্যে থানার ওসিদের একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রদর্শনের সংস্কৃতির সমাপ্তি ঘোষণা করে বলেন, পুলিশকে এখন থেকে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের প্রবণতার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষ থেকে টাকা নেওয়ার অভ্যাসের কারণেই আগের নেতৃত্ব আজ বিতর্কিত ও পলাতক। বর্তমান পুলিশ বাহিনীকে সেই কলঙ্কিত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গাজীপুর ও চট্টগ্রামকে দেশের অর্থনীতির ‘লাইফ লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে আইজিপি আরও বলেন, গাজীপুরের ২০টি বস্তিতে মাদকের ছড়াছড়ি তরুণ সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। মাদক ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার রোধে পরিবারের সদস্যদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, যারা নিজেদের সংশোধন করবে না, তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। পুলিশকে দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যেই এই শুদ্ধি অভিযান চলবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে অসহায় ও দুস্থদের জন্য শাড়ি ও থ্রি-পিস বরাদ্দ না পাওয়ায় তীব্র আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ। শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। তার অভিযোগ, এই বরাদ্দ শুধুমাত্র সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি এলাকায় দেওয়া হয়েছে এবং বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের বঞ্চিত করা হয়েছে। ফেসবুক পোস্টে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল কোনো দলীয় সম্পদ নয়, এটি রাষ্ট্রের একটি মানবিক সহায়তা তহবিল। প্রধানমন্ত্রী সমগ্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী—কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়। তাই এই তহবিল থেকে সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রাজনৈতিক বিভাজন পরিহার করে সব এলাকার দুস্থ মানুষের জন্য সমান বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। প্রমাণ হিসেবে আব্দুল ওয়ারেছ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি বরাদ্দের স্ক্রিনশটও সংযুক্ত করেন। সেখানে দেখা যায়, উত্তরাঞ্চলের ৫টি জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনে ৭০০ পিস শাড়ি, ১০০ পিস থ্রি-পিস এবং ৫০ পিস হাজী রুমাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জামায়াত নেতার দাবি, তার নির্বাচনি এলাকায় এ ধরনের কোনো সাহায্য না আসায় সাঘাটা-ফুলছড়ি উপজেলার অসহায় মানুষ ঈদ উপহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে কয়েকটি ভারতীয় জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতহালি। শনিবার (১৪ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া টুডে আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ইরান কয়েকটি ভারতীয় জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার জন্য নিরাপদ পথ দিয়েছে। তবে ঠিক কতটি জাহাজকে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রথম দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক ক্ষতি হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর তথ্য বিশ্লেষণে এই হিসাব উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার ধ্বংস হওয়ার কারণে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও সৌদি আরবে থাকা থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চারটি রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে থাকা একটি সতর্কতামূলক রাডার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মূল্য প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১১টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে। প্রতিটি ড্রোনের মূল্য প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার, ফলে মোট ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলবশত হামলায় তিনটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে, যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার। ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে একটি কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। বিমানটির মূল্য প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া বাহরাইনের মানামায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরেও ইরানের হামলায় কিছু যোগাযোগ সরঞ্জাম ও স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। সব মিলিয়ে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা আর ভেন্যু নিয়ে দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশনের অনড় অবস্থানের কারণে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচ। আগামী ২৭ মার্চ কাতারের দোহায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তা এখন বাতিলের মুখে। আয়োজক সংস্থা উয়েফা ও কনমেবল নিরাপত্তার খাতিরে ম্যাচটি মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল। রিয়াল মাদ্রিদ ও স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন এই প্রস্তাবে একমত হলেও বাদ সেধেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। আর্জেন্টাইন সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, স্পেনে ম্যাচ খেললে স্বাগতিকরা বাড়তি সুবিধা পাবে। তার দাবি, ম্যাচটি আয়োজন করতে হবে বুয়েনোস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে। দুই দেশের এই মতবিরোধের ফলে বর্তমানে তিনটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে: বার্নাব্যুতে খেলা, লিসবন বা রোমের মতো নিরপেক্ষ কোনো ভেন্যুতে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া, অথবা ম্যাচটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা। তবে হাতে সময় খুব কম থাকায় এবং ইউরোপের বড় স্টেডিয়ামগুলো খালি না পাওয়ায় ম্যাচটি পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। এদিকে স্প্যানিশ গণমাধ্যম দাবি করছে, আর্জেন্টিনা সম্ভবত এই মুহূর্তে ম্যাচটি খেলতে খুব একটা আগ্রহী নয়।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সোমালিয়ার মধ্যাঞ্চলে জাতীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থার (নিসা) এক বিশেষ অভিযানে সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-শাবাবের অন্তত ২২ জন সদস্য নিহত হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে নিসা এই সফল অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করে। মূলত জঙ্গিদের গোপন আস্তানা ও তাদের নেতৃত্বের শিকড় উপড়ে ফেলতেই এই সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। নিসা-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুদুগ অঞ্চলের দুমায়ে এলাকায় পরিচালিত প্রথম অভিযানে গোষ্ঠীটির চারজন শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ ১৫ জন সদস্য প্রাণ হারায়। অন্যদিকে, হিরান অঞ্চলের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে সন্ত্রাসীদের দুটি গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয়। সেখানে আল-শাবাবের দুইজন প্রধান অর্থ সরবরাহকারী নেতাসহ আরও সাতজন নিহত হয়েছে। সোমালি জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে জঙ্গিদের অবশিষ্ট অংশগুলো নির্মূল না করা পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে গোয়েন্দা সংস্থাটি। উল্লেখ্য, গত ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে আল-শাবাব। তবে গত বছরের জুলাই মাস থেকে সোমালি জাতীয় সেনাবাহিনী তাদের দমনে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করেছে। এই অভিযানে সোমালি বাহিনীকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে আফ্রিকান ইউনিয়ন সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন মিশন (AUSSOM) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদাররা। সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সোমালিয়ায় নিয়োজিত আন্তর্জাতিক মিশনের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। আল-শাবাবের ক্রমাগত হামলার মুখে এই বর্ধিত সময়কাল দেশটির নিরাপত্তা পুনর্গঠনে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সরকারি বাহিনীর এই ধারাবাহিক সাফল্য সোমালিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ের ফলাফল ভোট গণনার সময় প্রভাবিত করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতির দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার হিমালয় পার্কে আয়োজিত জাতীয় নাগরিক পার্টি পঞ্চগড় জেলা শাখার ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। সারজিস আলম বলেন, আমাদের ভোট কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই দায় যেমন অন্যদের ওপর দেওয়া যায়, তেমনি এটাও সত্য যে আমরা আমাদের ভোট গণনার সময় যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারিনি। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, কোনো কেন্দ্রে যদি আমাদের ১০ জন ভোটার থাকে, সেই ১০টি ভোটও রক্ষা করতে হবে। আবার কোথাও যদি ১০০ জন ভোটারের মধ্যে ৯০টি আমাদের হয়, তাহলে সেই ৯০টি ভোটও নিশ্চিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বিরোধী দল হিসেবে সংসদে আছি। স্থানীয় নির্বাচন একসঙ্গে হবে নাকি আলাদাভাবে হবে—তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে যেভাবেই হোক, জনগণের দেওয়া ভোটের আমানত রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষ অনেক আশা ও পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে আমাদের ভোট দিয়েছে। সেই পরিবর্তনের লড়াই রাজপথ থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। ভয় ও সাহসের প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম বলেন, ভয় ছোঁয়াচে—ভয় পেলে মানুষ পিছিয়ে পড়ে। কিন্তু সাহস আরও বেশি ছোঁয়াচে। একজন মানুষ যখন সাহস দেখায়, তখন অন্যরাও সেই সাহস থেকে অনুপ্রাণিত হয়। স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। আপনাদের মধ্য থেকেই কেউ মেম্বার, কেউ চেয়ারম্যান, কেউ উপজেলা চেয়ারম্যান কিংবা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
দীর্ঘ কয়েক দশকের নির্বাসন কাটিয়ে ইরানের শাসনভার গ্রহণে সরাসরি প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক শাহ-পুত্র রেজা পাহলভি। বর্তমান ইসলামী প্রজাতন্ত্র সরকারের পতন ঘটলে একটি শক্তিশালী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনার মাধ্যমে দেশকে পুনর্গঠন করতে তিনি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এই নির্বাসিত যুবরাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিশেষ বার্তায় জানান, তিনি ইতিমধ্যে ইরানের ভেতরে ও বাইরে থাকা দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি ‘ট্রানজিশনাল সিস্টেম’ বা অন্তর্বর্তী কাঠামো গঠনের কাজ শুরু করেছেন। পাহলভির মূল লক্ষ্য হলো, বর্তমান প্রশাসনের পতন হওয়ার সাথে সাথেই যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই এই কাঠামো দেশের শাসনভার বুঝে নিতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এই অন্তর্বর্তী কাঠামোর রূপরেখা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংকট্যাংক ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রাসিস’-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা সাঈদ ঘাসেমিনেজাদ। তিনি বর্তমানে যোগ্য সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। পাহলভির দাবি, এমন ব্যক্তিদেরই এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যারা খুব অল্প সময়ে ইরানে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটেছিল। দীর্ঘ সময় রাজনীতির আড়ালে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনগুলোতে অনেক বিক্ষোভকারীকে রাজতন্ত্রের সমর্থনে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ভেতরে ক্রমবর্ধমান এই জনমতকে কাজে লাগিয়েই রেজা পাহলভি এখন সরাসরি ক্ষমতার হাল ধরার সাহসী ঘোষণা দিচ্ছেন।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১৪ মার্চ) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো—যারা ইরানের এই কৃত্রিম বাধার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে এই পথটি উন্মুক্ত রাখতে নিজেদের যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান এই প্রণালি বন্ধের যে চেষ্টা করছে তা প্রতিহত করতে সম্মিলিত শক্তির প্রয়োজন। এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র খুব শীঘ্রই এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করা সব তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারায় পারাপারের ব্যবস্থা করবে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকাংশে ধ্বংস করা হলেও ছোট ড্রোন বা মাইনের মাধ্যমে তারা এখনও নৌপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। তাই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক নৌ-উপস্থিতি বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে কোন দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে এখনও কোনো চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
সংঘাতের দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে। ইরান বনাম আমেরিকা-ইসরায়েল জোটের সরাসরি যুদ্ধ আজ তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করল। পারস্য উপসাগরের ভূ-রাজনীতি এখন খাদের কিনারায়, যেখানে একদিকে তেহরানের কঠোর হুঁশিয়ারি আর অন্যদিকে ওয়াশিংটনের বিধ্বংসী সামরিক অভিযান বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। খারাগ দ্বীপে মার্কিন বোমাবর্ষণ ও জ্বালানি যুদ্ধের হুমকি ইরানের তেল রপ্তানির প্রাণকেন্দ্র 'খারাগ দ্বীপে' মার্কিন বিমান বাহিনী ব্যাপক হামলা চালিয়ে সামরিক স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের ৯০ শতাংশ তেল এই দ্বীপ দিয়েই রপ্তানি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আপাতত তেল অবকাঠামো রক্ষা করা হলেও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাল্টা জবাবে আইআরজিসি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে 'বৈধ লক্ষ্যবস্তু' হিসেবে ঘোষণা করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর মতে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। আমেরিকা তাঁর তথ্যের জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানে এ পর্যন্ত ১,৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮,৫৫১ জন আহত হয়েছেন। লেবাননেও ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭৭৩ জন। যুদ্ধ এখন আর ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কাতার, বাহরাইন ও ওমানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটছে। সৌদি আরব পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। ওমানে ড্রোন পতনে দুইজন নিহত হওয়ার পর আঞ্চলিক নেতৃত্ব যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। নিরাপত্তার খাতিরে বাহরাইন ও সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য 'ফর্মুলা ওয়ান' রেস স্থগিত করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক তৎপরতা ও বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজার ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং ২,৫০০ মেরিন সেনাসহ যুদ্ধজাহাজ 'ইউএসএস ত্রিপোলি' মোতায়েন করেছে। এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী। সংকট মোকাবিলায় কানাডা জরুরি ভিত্তিতে ২ কোটি ৩৬ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে বিমান ভাড়ার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী যদি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তবে বিশ্ব এক নজিরবিহীন অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়বে। কূটনৈতিক প্রভাব হ্রাসের ভয়ে অনেক দেশ এখন ওয়াশিংটনকে এড়িয়ে সরাসরি তেহরানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলা ও ‘গণহত্যা’ থামার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। গত শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত গাজা সিটি এবং খান ইউনিসে নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় আরও অন্তত ৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আঞ্চলিক উত্তজনা এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গাজার মানবিক পরিস্থিতি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গাজা সিটি এবং খান ইউনিসের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় রাতভর বিমান ও স্থল হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনারা। স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রগুলো নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। এছাড়া খান ইউনিসে একটি পুলিশ পোস্টে হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ১০ অক্টোবর ঘোষিত তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ ইসরায়েল শত শত বার লঙ্ঘন করেছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন এবং যুদ্ধবিরতির নাটক শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৬৫৫ ছাড়িয়ে গেছে। ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্যেই গাজায় আঘাত হেনেছে তীব্র ধূলিঝড়। এতে তাঁবুতে বসবাসকারী হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির কষ্ট কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। জীর্ণ তাঁবুর ভেতরে ধুলোবালি ঢুকে পড়ায় বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। রাফাহ সীমান্ত পারাপার বন্ধ থাকায় হাজার হাজার আহত ফিলিস্তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যেতে পারছেন না। ১২ বছর বয়সী হামদির মতো অনেক শিশু মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়ে পঙ্গুত্বের পথে। হামদির বাবা আমের হামাদি আল জাজিরাকে বলেন, "আমার ছেলে প্রতিদিন অন্য শিশুদের ফুটবল খেলা দেখে কাঁদে আর জিজ্ঞেস করে— বাবা, আমি কেন হাঁটতে পারি না?" চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জরুরি অস্ত্রোপচার করা গেলে হামদি হয়তো আবার হাঁটতে পারতেন, কিন্তু সীমান্ত বন্ধ থাকায় তার জীবন এখন অনিশ্চিত। দুই সপ্তাহ আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে শুরু হওয়া সরাসরি সংঘাত গাজা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সীমান্ত বন্ধ থাকায় খাদ্য ও জ্বালানি সংকট চরমে পৌঁছেছে। রান্নার গ্যাসের অভাবে মানুষ প্লাস্টিক ও কাঠ পুড়িয়ে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছে, যা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, গাজায় নারীদের বাঁচার ন্যূনতম পরিবেশ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং এটি যুদ্ধের একটি পরিকল্পিত কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরায়েল। গাজাবাসীর বর্তমান অবস্থাকে মানবিক সহায়তাকারীরা ‘নরকযন্ত্রণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।