ইরান দাবি করেছে, ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে তারা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সম্প্রতি তাদের শীর্ষ কর্মকর্তা ও নৌসদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনাকে প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হামলা পশ্চিম জেরুজালেমে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। ইরানের সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’-র নৌসদস্যদের রক্তের প্রতিশোধ এবং দেশের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব হত্যার জবাব হিসেবে এই হামলা করা হয়েছে। তবে হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। এর আগে, ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’-কে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র টর্পেডো হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে তেহরান। ভারতের মহড়া শেষে দেশে ফেরার পথে এই জাহাজে হামলার কারণে ৮০-এর বেশি নৌসদস্য নিহত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব।
সৌদি আরবের সঙ্গে সময় মিলিয়ে সাতক্ষীরার অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ এবারও একদিন আগে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকাল ৮টায় সদর উপজেলার কুশখালী বাউকোলা এলাকায় তারা ঈদের জামাতে অংশ নেন। এদিন কুশখালী বাউকোলা মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন মাওলানা মহব্বত আলী। ইসলামকাটি, গোয়ালচত্বর, ভোঁদড়া, ঘোনা, ভাড়খালী, মিরগিডাঙ্গা ও পাইকগাছাসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মুসল্লিরা এতে অংশগ্রহণ করেন। নামাজ শেষে খুতবায় ধর্মীয় বক্তব্যে জানানো হয়, শাওয়াল মাসের প্রথম দিন হিসেবে তারা এদিন ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। স্থানীয়দের মতে, তারা রমজান শুরু করেছিলেন একদিন আগে, তাই ঈদও পালন করছেন সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে। এ বছর অন্যান্য সময়ের তুলনায় মুসল্লিদের উপস্থিতিও ছিল বেশি। খুতবায় আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে যেন সবাই একসঙ্গে একই দিনে ঈদ উদযাপন করতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন। স্থানীয় মুসল্লিদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক যুগ ধরে তারা সৌদি আরবের সময়সূচি অনুসরণ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই তারা ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন।
এফ-৩৫ লাইটনিং টু মডেলের একটি অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড। এ তথ্য প্রকাশ করেছে সিএনএন। মার্কিন পক্ষের ধারণা, যুদ্ধবিমানটিকে লক্ষ্য করে ইরানের পক্ষ থেকে হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানান, পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন বিমানটি ইরানের আকাশসীমার ভেতর দিয়ে উড়ছিল। উড্ডয়নের সময় জটিলতা তৈরি হওয়ায় সেটি নিরাপদে অবতরণ করতে বাধ্য হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, তাদের হামলার ফলে যুদ্ধবিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এফ-৩৫ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে, যার প্রতিটির মূল্য ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। শাওয়াল মাসের চাঁদ বৃহস্পতিবার দেখা না যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ শুক্রবার ঈদ পালনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এই উপলক্ষে সৌদি আরব-এর মসজিদুল হারাম এবং মসজিদে নববী-তে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন-এর বিভিন্ন মসজিদেও ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে কিছু দেশে খোলা ঈদগাহে জামাতের আয়োজন সীমিত বা বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে আজই অস্ট্রেলিয়া এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশেও ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। অন্যদিকে, এশিয়ার বেশ কিছু দেশ—যেমন বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, লিবিয়া ও মরক্কো—শাওয়ালের চাঁদ না দেখা যাওয়ায় শনিবার ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইরান দাবি করেছে, ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে তারা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সম্প্রতি তাদের শীর্ষ কর্মকর্তা ও নৌসদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনাকে প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হামলা পশ্চিম জেরুজালেমে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। ইরানের সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’-র নৌসদস্যদের রক্তের প্রতিশোধ এবং দেশের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব হত্যার জবাব হিসেবে এই হামলা করা হয়েছে। তবে হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। এর আগে, ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’-কে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র টর্পেডো হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে তেহরান। ভারতের মহড়া শেষে দেশে ফেরার পথে এই জাহাজে হামলার কারণে ৮০-এর বেশি নৌসদস্য নিহত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, কাতারের রাস লাফান জ্বালানি কমপ্লেক্সে হামলায় দেশটির সামরিক সামর্থ্যের মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ভবিষ্যতে যদি ইরানি স্থাপনার ওপর পুনরায় হামলা হয়, সংযম আর বজায় রাখা হবে না। আরাঘচি সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ প্রকাশিত পোস্টে বলেন, ‘সংযত থাকার একমাত্র কারণ ছিল আন্তর্জাতিকভাবে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান ও অনুরোধের প্রতি সম্মান দেখানো।’ তিনি আরও যোগ করেন, যুদ্ধের ইতি টানতে হলে ইরানের বেসামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও সমাধানের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝেও ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করছে। আরাঘচির হুঁশিয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি সরাসরি ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার ফলে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা কার্যত হারিয়েছে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইসরাইল এখন বিজয়ের পথে, আর ইরানের সামরিক কাঠামো ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত ব্যাপকভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট অবকাঠামোও ধ্বংসের পথে। তিনি আরও জানান, ইরানের অস্ত্র উৎপাদন কারখানা এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে। তবে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়েছে—এমন দাবির পক্ষে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি। এর আগে, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত না রাখার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু এই বক্তব্য প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর জবাবে ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনেও বাধা সৃষ্টি করছে তারা, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাত এখন পর্যন্ত মূলত আকাশপথেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন সম্ভাব্য স্থল অভিযানের। যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সম্ভাবনা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের জনগণই ঠিক করবে কখন এবং কীভাবে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে জড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব, বাইরের কারও প্রভাব নয়। সূত্র: রয়টার্স
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তার ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) প্রধান এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা। তিনি আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখার আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওকোনজো-ইওয়েলা বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সারসহ কৃষি উপকরণের সরবরাহ কমে গেছে, যা বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।” বিশ্বের মোট নাইট্রোজেন সারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে করা হয়। তিনি জানান, “সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটলে কৃষকেরা কম সার ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন এবং এমন ফসল চাষে মনোযোগ দেবেন যা কম সারেই ফলন দেয়।” ওকোনজো-ইওয়েলা আরও জোর দিয়ে বলেন, “বিশ্বব্যাপী খাদ্য বাণিজ্যের পথগুলো উন্মুক্ত ও স্থিতিশীল রাখা জরুরি, যাতে খাদ্যের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় অঞ্চলগুলোতে তা পৌঁছাতে পারে।”
ইসলামী বর্ষপঞ্জি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। হিজরি বর্ষের মাস শুরু ও শেষ নির্ধারণ, রোজা পালন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নতুন চাঁদ দেখার সঙ্গে যুক্ত। দুনিয়ার মুসলমানরা জানেন, নবী করিম (সা.) নতুন চাঁদ দেখা মাত্রই কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন। সেই দোয়ার মূল লেখা এবং উচ্চারণ হলো: আরবি: اَللهُ أَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيْمَانِ وَالسَّلاَمَةِ وَالْإِسْلاَمِ وَالتَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ وَتَرْضَى، رَبِّىْ وَرَبُّكَ اللهُ উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।” অর্থ: “হে আল্লাহ! তুমি ওই চাঁদকে আমাদের ওপর উদিত করো নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে। আমার ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ।” হাদিস সূত্রে জানা যায়, তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) যখন নতুন চাঁদ দেখতেন, তখন তিনি এই দোয়া পড়তেন।
দখলদার ইসরাইলকে লক্ষ্য করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে এই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, নিক্ষেপ করা মিসাইলগুলো দখলকৃত জেরুজালেমের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। হামলার আশঙ্কায় শহরজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে শুরু করে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, ইরান ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ জোরদার করছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত ইসরাইলকে লক্ষ্য করে মোট ১৩ দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এই ধারাবাহিক হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করছে এবং বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ইরান দাবি করেছে, ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে তারা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সম্প্রতি তাদের শীর্ষ কর্মকর্তা ও নৌসদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনাকে প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হামলা পশ্চিম জেরুজালেমে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। ইরানের সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’-র নৌসদস্যদের রক্তের প্রতিশোধ এবং দেশের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব হত্যার জবাব হিসেবে এই হামলা করা হয়েছে। তবে হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। এর আগে, ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’-কে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র টর্পেডো হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে তেহরান। ভারতের মহড়া শেষে দেশে ফেরার পথে এই জাহাজে হামলার কারণে ৮০-এর বেশি নৌসদস্য নিহত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব।
এফ-৩৫ লাইটনিং টু মডেলের একটি অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড। এ তথ্য প্রকাশ করেছে সিএনএন। মার্কিন পক্ষের ধারণা, যুদ্ধবিমানটিকে লক্ষ্য করে ইরানের পক্ষ থেকে হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানান, পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন বিমানটি ইরানের আকাশসীমার ভেতর দিয়ে উড়ছিল। উড্ডয়নের সময় জটিলতা তৈরি হওয়ায় সেটি নিরাপদে অবতরণ করতে বাধ্য হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, তাদের হামলার ফলে যুদ্ধবিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এফ-৩৫ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে, যার প্রতিটির মূল্য ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। শাওয়াল মাসের চাঁদ বৃহস্পতিবার দেখা না যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ শুক্রবার ঈদ পালনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এই উপলক্ষে সৌদি আরব-এর মসজিদুল হারাম এবং মসজিদে নববী-তে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন-এর বিভিন্ন মসজিদেও ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে কিছু দেশে খোলা ঈদগাহে জামাতের আয়োজন সীমিত বা বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে আজই অস্ট্রেলিয়া এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশেও ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। অন্যদিকে, এশিয়ার বেশ কিছু দেশ—যেমন বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, লিবিয়া ও মরক্কো—শাওয়ালের চাঁদ না দেখা যাওয়ায় শনিবার ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দখলদার ইসরাইলকে লক্ষ্য করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে এই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, নিক্ষেপ করা মিসাইলগুলো দখলকৃত জেরুজালেমের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। হামলার আশঙ্কায় শহরজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে শুরু করে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, ইরান ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ জোরদার করছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত ইসরাইলকে লক্ষ্য করে মোট ১৩ দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এই ধারাবাহিক হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করছে এবং বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।