পবিত্র গ্র্যান্ড মসজিদে আগত ওমরাহ ও হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মক্কায় চালু করা হয়েছে বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা ‘সেফ হার্ট জোন’। আরব নিউজের তথ্য অনুযায়ী, মক্কা হেলথ ক্লাস্টারের উদ্যোগে এবং কিং আবদুল্লাহ মেডিক্যাল সিটির সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন রমজান ও হজ মৌসুমে যখন কাবা শরীফে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে, তখন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। উন্নত প্রযুক্তিতে সাজানো ‘সেফ হার্ট জোন’ এই প্রকল্পের অধীনে ১০টি অত্যাধুনিক কার্ডিয়াক ইনটেনসিভ কেয়ার বেড স্থাপন করা হয়েছে। জরুরি সেবা দিতে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকছেন ৩০ জন উচ্চপ্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী। দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য হারাম হাসপাতালের মাধ্যমে একটি মোবাইল ক্যাথেটারাইজেশন ল্যাব ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে রোগীদের হাসপাতালে স্থানান্তরের আগেই ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া গুরুতর রোগীদের জন্য ইসিএমও (ECMO), হার্টে স্টেন্ট বসানো এবং বিশেষায়িত জীবনরক্ষাকারী ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাথেটারাইজেশন পরবর্তী রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য সেন্টারে স্থানান্তরের জন্য কঠোর ক্লিনিক্যাল প্রটোকল অনুসরণ করা হবে। এই উদ্যোগের ফলে মক্কায় আগত মুসল্লিদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি আরও সহজ ও দ্রুততর হলো।
জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্বোধন করতে গিয়ে ‘মাননীয় স্পিকার’-এর পরিবর্তে কয়েকবার ‘মাই লর্ড’ বলে ফেলেন সমাজকল্যাণ ও নারীবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। তবে পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সাবলীলভাবে প্রশ্নের উত্তর দেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আজ দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য সমাজকল্যাণ ও নারীবিষয়ক মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেনকে খোঁজা হয়। তিনি অনুপস্থিত থাকায় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল দাঁড়িয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রথম প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সম্বোধনের সময় ‘মাননীয় স্পিকার’-এর বদলে কয়েকবার ‘মাই লর্ড’ বলে ফেলেন তিনি। পরে সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দিতে উঠে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি পেশায় আইনজীবী। অভ্যাসবশত ‘মাই লর্ড’ বলে ফেলেছি। এ জন্য আমি দুঃখিত।” এরপর তিনি মূল প্রশ্নসহ চারটি সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দেন। তাঁর জবাব ছিল সাবলীল ও প্রাণবন্ত। সংসদে প্রথমবারের মতো এমপি ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দিলেও তাঁর উপস্থাপনায় সেই নবীনতার ছাপ খুব একটা দেখা যায়নি বলে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের অনেকে মন্তব্য করেন। এ সময় প্রথম সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ পান সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুক। দ্বিতীয় সম্পূরক প্রশ্ন করেন জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তৃতীয় সম্পূরক প্রশ্ন করেন জামায়াতের সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। চতুর্থ সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ পান জামায়াতের নড়াইল–২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান। প্রতিমন্ত্রী এসব প্রশ্নেরও ধারাবাহিকভাবে উত্তর দেন।
সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর কোনো অস্তিত্ব নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো বিচারাধীন এবং এটি আইনে পরিণত হলে তখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরুর আগে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের নয়। সংবিধান অনুযায়ী এমন কোনো পরিষদের অস্তিত্ব নেই। এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে যদি কোনো সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয় আসে, তাহলে প্রথমে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে। সেই সংশোধনী সংসদে আলোচনা ও অনুমোদনের মাধ্যমে পাস হতে হবে। সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরই এ ধরনের কোনো পরিষদ গঠন বা শপথ গ্রহণের বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে। এ সময় তিনি আরও জানান, সংসদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার তাঁদের দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে বিষয়টি সংসদে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বইছে উত্তপ্ত হাওয়া। এবার সরাসরি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যার কঠোর শপথ নিয়েছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সংঘাতের মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে আসা এমন সরাসরি হুমকিতে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, নেতানিয়াহুকে তারা তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারণ করেছে। বিবৃতিতে আইআরজিসি’র পক্ষ থেকে বলা হয়, "এই শিশু-হত্যাকারী অপরাধী যদি জীবিত থাকে, তবে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তাকে খুঁজে বের করে নির্মূল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো।" বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি রাষ্ট্রপ্রধানকে লক্ষ্য করে ইরানের এই হুঁশিয়ারি যুদ্ধের সংজ্ঞাকে আরও জটিল করে তুলবে। আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, গাজা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে তেহরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক অবস্থানে রয়েছে। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নেওয়া এই ‘প্রতিশোধের শপথ’ আদতে ইসরায়েলের অস্তিত্বের ওপর বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পবিত্র গ্র্যান্ড মসজিদে আগত ওমরাহ ও হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মক্কায় চালু করা হয়েছে বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা ‘সেফ হার্ট জোন’। আরব নিউজের তথ্য অনুযায়ী, মক্কা হেলথ ক্লাস্টারের উদ্যোগে এবং কিং আবদুল্লাহ মেডিক্যাল সিটির সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন রমজান ও হজ মৌসুমে যখন কাবা শরীফে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে, তখন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। উন্নত প্রযুক্তিতে সাজানো ‘সেফ হার্ট জোন’ এই প্রকল্পের অধীনে ১০টি অত্যাধুনিক কার্ডিয়াক ইনটেনসিভ কেয়ার বেড স্থাপন করা হয়েছে। জরুরি সেবা দিতে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকছেন ৩০ জন উচ্চপ্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী। দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য হারাম হাসপাতালের মাধ্যমে একটি মোবাইল ক্যাথেটারাইজেশন ল্যাব ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে রোগীদের হাসপাতালে স্থানান্তরের আগেই ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া গুরুতর রোগীদের জন্য ইসিএমও (ECMO), হার্টে স্টেন্ট বসানো এবং বিশেষায়িত জীবনরক্ষাকারী ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাথেটারাইজেশন পরবর্তী রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য সেন্টারে স্থানান্তরের জন্য কঠোর ক্লিনিক্যাল প্রটোকল অনুসরণ করা হবে। এই উদ্যোগের ফলে মক্কায় আগত মুসল্লিদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি আরও সহজ ও দ্রুততর হলো।
জাপান মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে সতর্ক ও রক্ষণশীল অবস্থান নিয়েছে। দেশটির ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নীতি নির্ধারণী প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি এই উদ্যোগ গ্রহণে আইনি সীমাবদ্ধতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জাপানসহ অন্যান্য দেশকে তাদের নিজস্ব ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানালে, জাপানের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া এসেছে। এনএইচকে-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কোবায়াশি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে নৌবাহিনী মোতায়েন করা জাপানের জন্য একটি জটিল সিদ্ধান্ত। তিনি আরও বলেন, জাপানের আইন অনুযায়ী সরাসরি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নৌবাহিনী পাঠানো শর্তসাপেক্ষ এবং কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে পড়ে। তাই, যদিও আইনিভাবে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ নয়, চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাপানকে বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক হতে হচ্ছে। সংবিধানগত শান্তিবাদী নীতি ও সামরিক সীমাবদ্ধতার কারণে জাপানের সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণ রাজনৈতিক ও আইনি কারণে জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে ওয়াশিংটনের আহ্বানের পরও টোকিও এখনও কূটনৈতিকভাবে রক্ষণশীল অবস্থান বজায় রাখছে। সূত্র: আলজাজিরা
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি–এর শারীরিক অবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি সরাসরি নাকচ করেছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, খামেনির শারীরিকভাবে কোনো সমস্যা নেই এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। শনিবার ‘এমএস নাউ’ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা পুরোপুরি সুস্থ এবং স্বাভাবিকভাবেই তার দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন, মুজতবা খামেনি সম্ভবত আহত হয়েছেন এবং তার শরীরে গুরুতর আঘাত বা অঙ্গহানির আশঙ্কা রয়েছে। এই দাবি অস্বীকার করে আরাগচি বলেন, খামেনির কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। তিনি ইতোমধ্যেই জাতির উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন এবং তার দায়িত্ব আগের মতোই পালন করে যাবেন। এদিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রথম ভাষণেই কঠোর বার্তা দিয়েছেন মুজতবা খামেনি। তিনি ইঙ্গিত দেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নতুন যুদ্ধফ্রন্ট খুলে দেওয়া হবে। সূত্র: আল জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ইরানের একটি ছোট দ্বীপ নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত Kharg Island–কে ইরানের অর্থনীতির জীবনরেখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রথম দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও খার্গ দ্বীপ তুলনামূলকভাবে অক্ষত ছিল। তবে গত শুক্রবার দ্বীপটির সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা ও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি Strait of Hormuz দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে থাকে, তাহলে খার্গ দ্বীপের তেল স্থাপনাগুলোও হামলার লক্ষ্য হতে পারে। কেন গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ খার্গ একটি প্রবাল দ্বীপ, যার আয়তন নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এটি ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত। ইরানের প্রধান তেলক্ষেত্র—আহভাজ, মারুন ও গাচসারান থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে এই দ্বীপে আনা হয়। দ্বীপটির গভীর সমুদ্রবন্দর বিশাল সুপারট্যাঙ্কার ভিড়ানোর সুযোগ দেয়, যা বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের জন্য এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। কঠোর সামরিক নিরাপত্তার কারণে ইরানিদের কাছে এটি ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ নামেও পরিচিত। বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থাপনাটি ধ্বংস হয়ে গেলে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে। একটি পুরোনো নথিতে Central Intelligence Agency উল্লেখ করেছিল, খার্গ দ্বীপের স্থাপনাগুলো ইরানের তেল ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হামলায় কী ঘটেছে গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর লক্ষ্য ছিল দ্বীপটির সামরিক অবকাঠামো—যেমন ক্ষেপণাস্ত্র বাঙ্কার, নৌ-মাইন সংরক্ষণাগার ও বিমানবন্দর। CNN যাচাই করা একটি ভিডিওতে দ্বীপটির বিমানবন্দর ও রানওয়ে এলাকায় হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা Fars News Agency জানিয়েছে, দ্বীপে অন্তত ১৫টি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, তবে তেল স্থাপনাগুলো অক্ষত রয়েছে। তেলের বাজারে প্রভাব বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহের ক্ষেত্রে ইরান একটি বড় উৎপাদক। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং আরও প্রায় ১৩ লাখ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন করে। বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপের তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এতে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। গ্লোবাল বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান Kpler–এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে খার্গ দ্বীপে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। সামনে কী হতে পারে বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংঘাত আরও বাড়লে খার্গ দ্বীপ সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে। ইরানের সামরিক বাহিনীর শক্তিশালী শাখা Islamic Revolutionary Guard Corps ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে—দেশটির জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা হলে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে প্রতিশোধ নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার (১৫ মার্চ) এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে। শনিবার (১৪ মার্চ) বিষয়টি তার ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকাল ১১টায় মির্জা আব্বাসকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হবে। তার সঙ্গে থাকবেন সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস এবং জ্যেষ্ঠ সন্তান মির্জা ইয়াসির আব্বাস ভাশন। গত বুধবার (১১ মার্চ) ইফতারের সময় অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। এরপর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। শুক্রবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে দেশে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। শুক্রবার বিকেলে প্রথম দফায় মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। পরে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার শেষে তিনি নিউরো আইসিইউতে স্থানান্তরিত হন। বর্তমানে মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। মির্জা আব্বাসের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডে আছেন অধ্যাপক আলী উজ্জামান জোয়ার্দার, কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, শাহাবুদ্দিন তালুকদার, রাজিউল হক, সৈয়দ সাঈদ আহমেদ, কাদের শেখ, শফিকুল ইসলামসহ এভারকেয়ার হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসকরা। বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েই রয়েছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা তারেক রহমান।
ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন সংবাদমাধ্যমের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, কিছু সংবাদমাধ্যম এমনভাবে খবর প্রকাশ করছে যেন তারা যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় দেখতে চায়। এর আগে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত পাঁচটি মার্কিন বিমান ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে ওই ঘাঁটিতে হামলা হলেও বিমানগুলো ধ্বংস বা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁচটি বিমানের মধ্যে চারটির প্রায় কোনো ক্ষতি হয়নি এবং সেগুলো ইতোমধ্যেই আবার উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত। আর একটি বিমানে তুলনামূলক কিছুটা বেশি ক্ষতি হয়েছে, তবে সেটিও দ্রুত মেরামত করে আকাশে ওড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে এমন খবর প্রকাশ করছে যাতে মনে হয় যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তার দাবি, বাস্তবতা ভিন্ন হলেও মিডিয়া এমন একটি চিত্র তুলে ধরছে যেন যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে হেরে যাচ্ছে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
পবিত্র গ্র্যান্ড মসজিদে আগত ওমরাহ ও হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মক্কায় চালু করা হয়েছে বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা ‘সেফ হার্ট জোন’। আরব নিউজের তথ্য অনুযায়ী, মক্কা হেলথ ক্লাস্টারের উদ্যোগে এবং কিং আবদুল্লাহ মেডিক্যাল সিটির সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন রমজান ও হজ মৌসুমে যখন কাবা শরীফে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে, তখন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। উন্নত প্রযুক্তিতে সাজানো ‘সেফ হার্ট জোন’ এই প্রকল্পের অধীনে ১০টি অত্যাধুনিক কার্ডিয়াক ইনটেনসিভ কেয়ার বেড স্থাপন করা হয়েছে। জরুরি সেবা দিতে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকছেন ৩০ জন উচ্চপ্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী। দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য হারাম হাসপাতালের মাধ্যমে একটি মোবাইল ক্যাথেটারাইজেশন ল্যাব ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে রোগীদের হাসপাতালে স্থানান্তরের আগেই ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া গুরুতর রোগীদের জন্য ইসিএমও (ECMO), হার্টে স্টেন্ট বসানো এবং বিশেষায়িত জীবনরক্ষাকারী ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাথেটারাইজেশন পরবর্তী রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য সেন্টারে স্থানান্তরের জন্য কঠোর ক্লিনিক্যাল প্রটোকল অনুসরণ করা হবে। এই উদ্যোগের ফলে মক্কায় আগত মুসল্লিদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি আরও সহজ ও দ্রুততর হলো।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বইছে উত্তপ্ত হাওয়া। এবার সরাসরি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যার কঠোর শপথ নিয়েছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সংঘাতের মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে আসা এমন সরাসরি হুমকিতে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, নেতানিয়াহুকে তারা তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারণ করেছে। বিবৃতিতে আইআরজিসি’র পক্ষ থেকে বলা হয়, "এই শিশু-হত্যাকারী অপরাধী যদি জীবিত থাকে, তবে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তাকে খুঁজে বের করে নির্মূল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো।" বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি রাষ্ট্রপ্রধানকে লক্ষ্য করে ইরানের এই হুঁশিয়ারি যুদ্ধের সংজ্ঞাকে আরও জটিল করে তুলবে। আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, গাজা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে তেহরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক অবস্থানে রয়েছে। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নেওয়া এই ‘প্রতিশোধের শপথ’ আদতে ইসরায়েলের অস্তিত্বের ওপর বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাপান মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে সতর্ক ও রক্ষণশীল অবস্থান নিয়েছে। দেশটির ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নীতি নির্ধারণী প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি এই উদ্যোগ গ্রহণে আইনি সীমাবদ্ধতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জাপানসহ অন্যান্য দেশকে তাদের নিজস্ব ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানালে, জাপানের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া এসেছে। এনএইচকে-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কোবায়াশি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে নৌবাহিনী মোতায়েন করা জাপানের জন্য একটি জটিল সিদ্ধান্ত। তিনি আরও বলেন, জাপানের আইন অনুযায়ী সরাসরি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নৌবাহিনী পাঠানো শর্তসাপেক্ষ এবং কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে পড়ে। তাই, যদিও আইনিভাবে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ নয়, চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাপানকে বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক হতে হচ্ছে। সংবিধানগত শান্তিবাদী নীতি ও সামরিক সীমাবদ্ধতার কারণে জাপানের সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণ রাজনৈতিক ও আইনি কারণে জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে ওয়াশিংটনের আহ্বানের পরও টোকিও এখনও কূটনৈতিকভাবে রক্ষণশীল অবস্থান বজায় রাখছে। সূত্র: আলজাজিরা
ইসরাইল জানিয়েছে, ইরানের ভেতর থেকে তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, আকাশপথে আসা এই হামলার আশঙ্কা মোকাবিলায় তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে সবাইকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বানও জানানো হয়। এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের তেল আবিব শহরের কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণ বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের ঘটনা তদন্ত করছে দেশটির পুলিশ। পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো একে অপরের থেকে আলাদা এবং সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি বোমা নিষ্ক্রিয়কারী বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।