- প্রচ্ছদ
- Topic
এফবিআই
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) সাইবার অপরাধীদের এক ভয়ংকর তৎপরতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, হ্যাকাররা এখন অত্যন্ত সুকৌশলে সাধারণ মানুষের সোশ্যাল মিডিয়া ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টগুলোতে অনুপ্রবেশ করছে। এসব অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তারা ব্যবহারকারীদের একান্ত ব্যক্তিগত ও গোপন ছবি চুরি করছে। পরবর্তীতে এই স্পর্শকাতর ছবিগুলো তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বা ডার্ক ওয়েবে চড়া দামে বিক্রি করে দিচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এফবিআইয়ের পরিভাষায় এই ধরনের ছবিগুলোকে সম্মতিবিহীন অন্তরঙ্গ ছবি বা ‘এনসিআইআই’ (NCII) বলা হয়ে থাকে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সাইবার অপরাধীরা শুধু এসব ছবি চুরি করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না; বিক্রির সময় ছবিগুলোর সাথে ভুক্তভোগীদের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যও যুক্ত করে দিচ্ছে। এর ফলে হ্যাকারদের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা মারাত্মক সামাজিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে ব্ল্যাকমেইলের ঝুঁকিতে পড়ছেন। অপরাধীদের এমন দৌরাত্ম্য সাইবার জগতে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার অভাবকেই স্পষ্টভাবে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রযুক্তিগত এই যুগে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ব্যবহারকারীদের অনলাইন সুরক্ষার বিষয়ে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেইল এবং ক্লাউড স্টোরেজ অ্যাকাউন্টগুলোতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ চালু রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা তথ্য অনলাইনে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের কোনো বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক নারী রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রায় তিন দশক ধরে পলাতক রয়েছেন জাহিদুল ইসলাম নামের এক বাংলাদেশি চিকিৎসক। ১৯৯৬ সালের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর মামলা এবং পরবর্তীতে ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও আজও তাকে আইনের আওতায় আনতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এমনকি ২০২৬ সালেও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড তালিকায় তার নাম জ্বলজ্বল করছে। তাকে সশস্ত্র ও অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করে সতর্কতা জারি করেছে সংস্থাটি। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও তার সন্ধানে জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়ে নতুন করে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এফবিআইয়ের তথ্যমতে, ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৯৬ সালের ৩ অক্টোবর। সে সময় জাহিদুল ইসলাম পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ার একটি স্বনামধন্য হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালের কক্ষে চিকিৎসাধীন ওই রোগীকে তিনি এমন একটি ওষুধ প্রয়োগ করেন যাতে ওই নারী অচেতন অবস্থার কাছাকাছি চলে যান। এরপরই তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এই চিকিৎসক। এই ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে স্টেট পর্যায়ে অভিযোগ আনা হলে বিচার এড়াতে তিনি গা ঢাকা দেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টে তার বিরুদ্ধে বিচার এড়ানোর উদ্দেশ্যে বেআইনিভাবে পলায়ন এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড পোস্টার অনুযায়ী, ১৯৫৫ সালের ১ অক্টোবর বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করা জাহিদুল ইসলামের উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি, ওজন প্রায় ১৬০ পাউন্ড এবং চোখ বাদামি রঙের। তদন্তকারীদের ধারণা, নিউইয়র্ক স্টেট এবং কানাডার মন্ট্রিয়লের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। তবে বর্তমানে তিনি ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, সে সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য সংস্থাটির কাছে নেই। পলাতক এই চিকিৎসক তার স্ত্রীর সঙ্গে ভ্রমণ করে থাকতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে, যিনি নিজেও পেশায় একজন চিকিৎসক। তবে তার স্ত্রীর পরিচয় বা বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। দীর্ঘ তিন দশক পার হলেও জাহিদুলকে গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা থেকে সরে আসেনি এফবিআই। সংস্থাটি তাকে ‘সশস্ত্র ও বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করে তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে স্থানীয় এফবিআই অফিস অথবা যুক্তরাষ্ট্রের নিকটবর্তী দূতাবাসে বা কনস্যুলেটে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছে। ফিলাডেলফিয়া ফিল্ড অফিসের অধীনে থাকা এই মামলাটি ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে আজও অমীমাংসিত। তবে এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড নোটিশে তিনি কেবল অভিযুক্ত হিসেবেই তালিকাভুক্ত রয়েছেন, আদালতে তার বিরুদ্ধে এখনও দোষ প্রমাণিত হয়নি। দীর্ঘদিন পার হওয়ার পরও তাকে ধরতে কর্তৃপক্ষের এই অব্যাহত প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে, এই স্পর্শকাতর মামলাটির সুরাহা করতে তারা বদ্ধপরিকর।
আফগানিস্তানের কাবুলে নিখোঁজ হওয়ার চার বছর পরও কোনো সন্ধান মেলেনি আফগান-আমেরিকান ব্যবসায়ী মাহমুদ শাহ হাবিবির। ২০২২ সালের ১০ আগস্ট নিজ বাড়ির কাছে গাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার পর থেকে তাঁর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই। তাঁকে খুঁজে বের করে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার মতো তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি। এফবিআইও জনসাধারণের কাছে তথ্য চেয়েছে। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, হাবিবি আফগানিস্তানের সাবেক সিভিল এভিয়েশন পরিচালক ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার সময় তিনি কাবুলভিত্তিক টেলিকম কোম্পানি এশিয়া কনসালট্যান্সি গ্রুপের কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করছিলেন। ২০২২ সালের ১০ আগস্ট কাবুলে নিজের বাড়ির কাছে গাড়িতে থাকা অবস্থায় হাবিবিকে তাঁর ড্রাইভারসহ তুলে নেওয়া হয়। এফবিআইয়ের তথ্যে বলা হয়েছে, তাঁদের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানের আরও ২৯ কর্মীকেও তালেবানের জেনারেল ডিরেক্টরেট অব ইন্টেলিজেন্স আটক করেছিল বলে ধারণা করা হয়। পরে হাবিবি ছাড়া ওই আটক ব্যক্তিদের প্রায় সবাই মুক্তি পান। আরেকজনও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। হাবিবির নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাঁর অবস্থান বা শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। এফবিআই জানিয়েছে, তালেবান কর্তৃপক্ষও তাঁর অবস্থান বা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি। এফবিআইয়ের রেকর্ডে হাবিবির জন্মতারিখ ২ জানুয়ারি ১৯৮৮ উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি, ওজন প্রায় ১৯০ পাউন্ড। তাঁর চুল কালো এবং চোখ বাদামি। তিনি ইংরেজি, পশতু ও দারি ভাষায় কথা বলতে পারেন। হাবিবিকে খুঁজে পেতে এফবিআইয়ের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিও কাজ করছে। তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা, উদ্ধার করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে। এফবিআই জানিয়েছে, হাবিবির নিখোঁজ হওয়া বা তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য থাকলে স্থানীয় এফবিআই অফিস, নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে যোগাযোগ করা যেতে পারে। তথ্য গোপন রাখা হবে। ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট, নিখোঁজ হওয়ার তিন বছর পূর্তিতে এফবিআইয়ের ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিস হাবিবিকে নিয়ে একটি নিখোঁজ ব্যক্তির পোস্টার প্রকাশ করে। তখনও সংস্থাটি জানিয়েছিল, তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। চার বছর পরও হাবিবির কোনো সন্ধান না মেলায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা এবং তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই এখনো মার্কিন কর্তৃপক্ষের অন্যতম লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের পিটসবার্গ শহরে এক অভিনব সাইবার জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ভুয়া পরিচয়ে এবং এক সরকারি কর্মকর্তার ইমেইল হ্যাক করে শহর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রায় এক মিলিয়ন (১০ লাখ) মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে একদল প্রতারক। গত ১২ ফেব্রুয়ারি পিটসবার্গ শহর কর্তৃপক্ষ ৯ লাখ ১৩ হাজার ডলারের একটি ফান্ড ট্রান্সফার করে। শহর কর্তৃপক্ষের ধারণা ছিল, এই অর্থ ‘ডিসকভারি বিল্ডার্স ইনকর্পোরেটেড’ নামের একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানটি শহরে ‘ড্রিম কোর্টস’ নামের একটি স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন কমপ্লেক্স নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে। কিন্তু ঘটনার পাঁচ দিন পর আসল নির্মাণ প্রতিষ্ঠান যখন তাদের পাওনা টাকার খোঁজ নিতে আসে, তখনই শহর কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। তারা বুঝতে পারে, পুরো টাকাটাই আসলে প্রতারকদের পকেটে চলে গেছে। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, এই বিশাল জালিয়াতির পেছনে অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রতারকরা আসল ডিসকভারি বিল্ডার্সের ইমেইল ঠিকানার সঙ্গে একটি অতিরিক্ত ছোট হাতের ‘l’ (এল) যুক্ত করে একটি ভুয়া ইমেইল তৈরি করে। এরপর তারা পিটসবার্গের সিটি ম্যানেজারের সহকারী সারা বেল্লাফ্রন্টের ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে। হ্যাক করা সেই অ্যাকাউন্ট থেকে শহর কর্তৃপক্ষের অর্থ বিভাগের এক কর্মীর কাছে মেসেজ পাঠিয়ে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ভুয়া সারা বেল্লাফ্রন্টে মেসেজে জানান, তিনি মৌখিকভাবে নতুন ব্যাংকের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং অর্থ বিভাগ যেন দ্রুত পেমেন্টের ব্যবস্থা করে। এই নির্দেশের পর দ্রুত অর্থ স্থানান্তর করা হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা একাধিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে উধাও হয়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই তদন্তে নামে। তদন্তের অংশহিসেবে ১১৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ওপর ১৮টি সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। অর্থের গতিপথ অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থাকা দুজন এবং নাইজেরিয়ায় অবস্থানরত এক সন্দেহভাজনের খোঁজ পায় পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা বা প্রকাশ্যে তাদের নাম জানানো হয়নি। তদন্তকারীরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রতারকদের একটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে সক্ষম হন, যেখান থেকে পিটসবার্গ কর্তৃপক্ষ প্রায় ৬ লাখ ৯৬ হাজার ডলার পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে। তবে এখনও প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার ডলার নিখোঁজ রয়েছে, যা উদ্ধারের জন্য কর্তৃপক্ষ বীমা কোম্পানির দ্বারস্থ হয়েছে। আদালতের তথ্যমতে, ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের এক ব্যক্তি এই জালিয়াতিতে অজান্তেই জড়িয়ে পড়েন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে তিনি ‘টাইকো অ্যালয় ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের একটি বৈধ কোম্পানিতে কাজ করছেন। এই বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে তিনি প্রতারকদের পাঠানো অর্থ দিয়ে প্রায় ২ লাখ ১৭ হাজার ডলারের বিটকয়েন কিনে একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে পাঠিয়ে দেন। এদিকে ডিসকভারি বিল্ডার্সের প্রেসিডেন্ট লুই পার্সনস জানান, তারা এই ঘটনার জন্য শহর কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছেন না। সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই জালিয়াতিটি অত্যন্ত নিপুণভাবে করা হয়েছে। পিটসবার্গ শহরকে এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে দেখে তিনি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে জালিয়াতির বিষয়টি জানার ৬০ দিনের মধ্যেই ডিসকভারি বিল্ডার্স তাদের পাওনা ৯ লাখ ১৩ হাজার ডলার বুঝে পায়। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কোম্পানিটি এখন আর অনলাইনে লেনদেন না করে সরাসরি প্রতিনিধি পাঠিয়ে শহর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চেক সংগ্রহ করছে। পিটসবার্গ শহরের মেয়র ডিওন অ্যাডামস এই ঘটনাটিকে একটি বড় শিক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, অপরাধীরা আমাদের সিস্টেমে প্রবেশ করতে পেরেছে, যা খুবই হতাশাজনক। এই ঘটনার পর শহর কর্তৃপক্ষ তাদের পেমেন্ট ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে এবং আইটি বিভাগে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য মার্কারি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, এই সাইবার প্রতারণার কারণে শহরটির শেষ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ডলারের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। তদন্তের স্বার্থে এতদিন বিষয়টি গোপন রাখা হলেও গত বুধবার পিটসবার্গ শহর কর্তৃপক্ষ এই জালিয়াতির বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্যালিফোর্নিয়ার ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে অস্ত্রসহ এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ট্রাম্পের নির্ধারিত সফরের মাত্র কয়েক দিন আগে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ৩৮ বছর বয়সী জিনিন জন টায়েলে নামের ওই ব্যক্তিকে র্যাঞ্চো পালোস ভার্দেসে অবস্থিত ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবের আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তিনি গলফ কোর্সের বিভিন্ন অংশের ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নজরদারি করছেন বলে সন্দেহ হয়। স্থানীয় শেরিফের কর্মকর্তারা তাকে আটক করে তল্লাশি চালিয়ে একটি লোডেড পিস্তল, গুলিভর্তি ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করেন। পরে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে আরও আগ্নেয়াস্ত্র, বডি আর্মার, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাগাজিন এবং উদ্বেগজনক কিছু নোটবুক জব্দ করা হয়। তদন্তে এফবিআইয়ের যৌথ সন্ত্রাসবাদবিরোধী টাস্কফোর্স এবং ইউএস সিক্রেট সার্ভিসও যুক্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র বহন, নিষিদ্ধ গোলাবারুদ রাখাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প বা সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো বিশ্বাসযোগ্য হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ট্রাম্পকে ঘিরে একাধিক নিরাপত্তা হুমকির ঘটনার পর এই ঘটনাও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তাই তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, আটক ব্যক্তির উদ্দেশ্য কী ছিল এবং তিনি একাই কাজ করছিলেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো পরিকল্পনা ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক সাইবার হামলার বিষয়ে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এবং পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ)। এফবিআই জানিয়েছে, গত ২৭ জুলাই থেকে অন্তত সাতটি অঙ্গরাজ্যের পানি সরবরাহ সংস্থায় সাইবার অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কয়েকটি হামলায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, হ্যাকাররা ইন্টারনেট-সংযুক্ত রকওয়েল অটোমেশনের শিল্প নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে প্রবেশ করে আইপি ঠিকানা ও পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে দেয়। ফলে অপারেটররা পানি সরবরাহ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিতে প্রবেশাধিকার হারান। এফবিআই জানিয়েছে, কিছু এলাকায় এসব হামলার কারণে পানির চাপ কমে যাওয়া এবং বন্যা বা জলাবদ্ধতার ঘটনাও ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য, যেখানে এক সপ্তাহান্তেই ৩০টির বেশি কমিউনিটি পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সাইবার হামলার শিকার হয়। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পানীয় পানির মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে হামলার পেছনে ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনার কথা উঠে এলেও তদন্ত এখনো চলমান। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘটনার জন্য মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজের সমালোচনা করেছেন। এফবিআই ও ইপিএ ক্ষতিগ্রস্ত সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে এবং দেশের সব পানি সরবরাহ প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র দ্রুত পাবলিক ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন করে অতিরিক্ত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
নিজেকে ‘রাশিয়ার এজেন্ট’সহ একাধিক মানহানিকর মন্তব্যের শিকার দাবি করে এক ব্লগারের বিরুদ্ধে ১ কোটি ডলারের মানহানি মামলা করেছিলেন এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল। তবে নেভাদার একটি ফেডারেল আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, এ মামলার শুনানি করার জন্য নেভাদা আদালতের ব্যক্তিগত এখতিয়ার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে কাশ প্যাটেল ব্লগার ও সাবস্ট্যাক লেখক জিম স্টুয়ার্টসনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, স্টুয়ার্টসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স এবং সাবস্ট্যাকে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টে প্যাটেলকে ‘রাশিয়ার এজেন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, প্যাটেল ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টায় ভূমিকা রেখেছিলেন। এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং তার সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে বলে মামলায় দাবি করেন প্যাটেল। মামলায় কাশ প্যাটেল ১ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক অ্যান্ড্রু গর্ডন রায়ে বলেন, স্টুয়ার্টসনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে কাশ প্যাটেলকে ট্যাগ করা হলেও, তা নেভাদার জনগণ বা নেভাদা অঙ্গরাজ্যকে লক্ষ্য করে প্রকাশ করা হয়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে নেভাদা আদালতের ব্যক্তিগত এখতিয়ার প্রতিষ্ঠিত হয় না এবং এ কারণে মামলাটি খারিজ করা হয়। বিচারক আরও উল্লেখ করেন, এই রায়ে স্টুয়ার্টসনের মন্তব্য সত্য না মিথ্যা, সে বিষয়ে আদালত কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। মামলাটি খারিজের কারণ ছিল সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়াগত, অর্থাৎ কোন আদালতে মামলাটি বিচারযোগ্য—সেই প্রশ্ন। রায়ের পর জিম স্টুয়ার্টসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিজয়ের দাবি জানিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। অন্যদিকে কাশ প্যাটেলের পক্ষ থেকে রায়ের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। কাশ প্যাটেল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দায়ের করা এই মানহানি মামলার রায় যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য এবং আদালতের এখতিয়ার সংক্রান্ত আইনি আলোচনায় নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের উইলমিংটনে গত মার্চে সংঘটিত প্রাণঘাতী গুলি হামলার তদন্তে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে এফবিআই। মামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্য দিলে ৫ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছে সংস্থাটি। প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলেও হামলার সঙ্গে জড়িতদের কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এফবিআই জানায়, গত ২৪ মার্চ স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার কিছু আগে উইলমিংটনের নর্থ অ্যাডামস স্ট্রিটের ৬০০ ব্লকে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হলে দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে গুরুতর আহত এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ মে মারা যান। এতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় তিনজনে, আর একজন আহত অবস্থায় চিকিৎসা পান। তদন্তে পাওয়া নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা গেছে, ফ্লোরিডার নম্বরপ্লেটযুক্ত একটি ধূসর রঙের হোন্ডা সিআর-ভি ঘটনাস্থলে এসে থামে। এরপর গাড়ির ভেতর থেকে হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, গাড়িটি ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে ফিলাডেলফিয়া থেকে চুরি হয়েছিল। হামলার দুই দিন পর সেটি পেনসিলভানিয়ার চেস্টার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১৯ বছর বয়সী রায়ান ইভান্স, ২১ বছর বয়সী ওয়াহকি ট্যাবরন এবং ৩৭ বছর বয়সী জিনা টাইবেরি। আহত আরেক ব্যক্তির পরিচয় বা সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি। এফবিআই ও উইলমিংটন পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। যে কোনো তথ্য, যা সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার ও দণ্ড নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে, তার জন্য ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শী বা এ ঘটনায় কোনো তথ্য জানা থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনে ২০১২ সালে ৩২ বছর বয়সী ইরাসেমা চাভেজকে নৃশংসভাবে হত্যার ১৪ বছর পর অবশেষে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আর্লিংটন পুলিশ বিভাগ ও এফবিআইয়ের ডালাস ফিল্ড অফিসের যৌথ তদন্তে মামলাটির অগ্রগতি আসে। গ্রেপ্তার হওয়া মাইরা ভেলাসকেজের বিরুদ্ধে মূলধনী হত্যা (ক্যাপিটাল মার্ডার) অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তাকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২০ জানুয়ারি আর্লিংটনের সাউথ কলিন্স স্ট্রিটের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ইরাসেমা চাভেজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, তাকে প্রায় ১০০ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলেও দীর্ঘ সময় ধরে হত্যাকারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের শুরুতে পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে হত্যার আগের রাতে এক ব্যক্তিকে অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করতে দেখা গেলেও তার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। পরবর্তী সময়ে একাধিক সূত্র ধরে তদন্ত চালানো হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি আসেনি। পরে ভার্জিনিয়াভিত্তিক পারাবন ন্যানোল্যাবসের সহায়তায় সন্দেহভাজনের জিনগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে একটি কম্পোজিট প্রোফাইল তৈরি করা হয়। কিন্তু সেখান থেকেও নতুন কোনো সূত্র মেলেনি। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আর্লিংটন পুলিশ এফবিআইয়ের ইনভেস্টিগেটিভ জেনেটিক জিনিয়োলজি কর্মসূচির সহায়তা নেয়। এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০২৬ সালের শুরুতে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে এবং শেষ পর্যন্ত মাইরা ভেলাসকেজকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে কী ধরনের প্রমাণ বা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তে এই অগ্রগতি এসেছে, তা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। এছাড়া হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কেও বিস্তারিত জানানো হয়নি। সরকারি নথি অনুযায়ী, মাইরা ভেলাসকেজ একজন লাইসেন্সধারী রিয়েল এস্টেট এজেন্ট। তার লাইসেন্স এখনো সক্রিয় রয়েছে। তিনি যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, সেই প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি নিয়ে আর্লিংটন পুলিশ বিভাগ ও এফবিআইয়ের ডালাস ফিল্ড অফিস যৌথভাবে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করবে। সেখানে তদন্ত, গ্রেপ্তার এবং মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। মামলাটি এখন বিচারাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের একটি ফেডারেল সরকারি ভবনের সামনে আগুন জ্বালানো একটি ডিভাইস ব্যবহারের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ টাস্কফোর্স। স্থানীয় সময় সোমবার সকালে লোয়ার ম্যানহাটনের ২৬ ফেডারেল প্লাজার সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই ব্যক্তি ভবনের বাইরে একটি আগুন সৃষ্টিকারী ডিভাইস ব্যবহার করেন। একই সময় তিনি আতশবাজি জ্বালান এবং হাতে থাকা এয়ারসফট রাইফেল দেখিয়ে আশপাশের মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর ফেডারেল পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলেই আটক করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব নেয় এফবিআইয়ের নিউইয়র্ক জয়েন্ট টেররিজম টাস্কফোর্স। এফবিআই জানিয়েছে, ঘটনাটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাস-সম্পর্কিত ঘটনা হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ওই ব্যক্তির সঙ্গে একটি কার্ট ছিল। এতে আরও আতশবাজি, দুটি লম্বা অস্ত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী পাওয়া গেছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য বা কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সময় একজন ব্যক্তি সামান্য আহত হন এবং তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ভবন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ২৬ ফেডারেল প্লাজা নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, যেখানে বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ঘটনার পর ভবনের আশপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে এক সাবেক ফেডারেল এজেন্টকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি অপরাধের কথা স্বীকার করার পর তার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়। মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস ফর মিনেসোটা জানিয়েছে, ইগান শহরের বাসিন্দা ৫৩ বছর বয়সী টিমোথি গ্রেগকে ৮৪ মাস বা সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অবৈধ ছবি ও ভিডিও তৈরিতে এবং সেগুলো পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময় গ্রেগ মিনেসোটায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) বিশেষ এজেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি এফবিআইয়ের একটি যৌথ টাস্কফোর্সেও দায়িত্ব পালন করতেন। মামলার রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, শিশুদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে তাদের শূন্য সহনশীলতার নীতি রয়েছে এবং অপরাধী যে পদেই থাকুক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আইসিইর পরিচালক ডেভিড জে. ভেনচুরেলা এক বিবৃতিতে বলেন, কোনো ব্যাজ, পদ বা দায়িত্ব কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেয় না। তার ভাষায়, এই মামলায় অভিযুক্তের আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এটি আইসিই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এফবিআইয়ের মিনিয়াপোলিস ফিল্ড অফিসের বিশেষ এজেন্ট ইন চার্জ ক্রিস্টোফার ডটসন বলেন, আদালতের এই রায় ভুক্তভোগী এবং তার পরিবারের জন্য অন্তত কিছুটা ন্যায়বিচারের অনুভূতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে তারা আশা করছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, গ্রেগ সরকারি দাপ্তরিক ই-মেইল ব্যবহার করে একটি হোটেল কক্ষ সংরক্ষণ করেছিলেন, যেখানে তার সঙ্গে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা আরও জানান, টুইন সিটিজ এলাকায় একটি ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী অভিযানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল গ্রেগের। তবে সেই অভিযানে যোগ দেওয়ার আগের দিনই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় ফেডারেল সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিস ফর মিনেসোটা, আদালতের নথি এবং এফবিআই ও আইসিইর বিবৃতি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তার গুলিতে নিহত ৫২ বছর বয়সী লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর মামলায় নতুন মোড় এসেছে। এফবিআই আদালতে দাখিল করা এক অনুসন্ধানী পরোয়ানায় দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তি যে ভ্যানটি চালাচ্ছিলেন, সেখানে অবৈধ মাদক থাকার সম্ভাব্য কারণ পাওয়া গেছে। ফেডারেল আদালতে দাখিল করা ওই ওয়ারেন্ট আবেদনে বলা হয়, নিয়ন্ত্রিত মাদক বিতরণ, উৎপাদন, বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ অথবা অবৈধভাবে মাদক রাখার অভিযোগ তদন্তের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া সন্দেহভাজন মাদক কার ছিল, সে বিষয়ে নথিতে কোনো নির্দিষ্ট দাবি করা হয়নি। ওয়ারেন্টে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থলে পৌঁছে এফবিআইয়ের বিশেষ এজেন্ট ডেভিড ম্যাকনিলি ভ্যানের বাইরে থেকে ড্যাশবোর্ডে ছোট প্লাস্টিকের প্যাকেটে সাদা স্ফটিকসদৃশ পদার্থ দেখতে পান। তার ভাষ্য, প্যাকেটগুলোর ধরন ও উপস্থাপনা মেথঅ্যামফেটামিনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। তবে সেগুলোর রাসায়নিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর থেকেই আইসিইর দাবি ছিল, আত্মরক্ষার্থে তাদের এক এজেন্ট গুলি চালিয়েছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে থাকা কর্মকর্তাদের কারও শরীরে বডি-ক্যামেরা না থাকায় সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, গুলির ঘটনার আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভ্যানটিতে কোনো তল্লাশি চালায়নি। পরে এফবিআই আদালতের অনুমতি নিয়ে গাড়িটি তল্লাশি করে। এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি, যাতে বোঝা যায় গুলি চালানোর সময় আইসিই কর্মকর্তারা গাড়ির ভেতরে সম্ভাব্য মাদক থাকার বিষয়ে আগে থেকেই জানতেন। ময়নাতদন্তে বলা হয়েছে, সালগাদো আরাউহোর মৃত্যু হয়েছে শরীরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে। তবে ঘটনার সময় তার শরীরে কোনো মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি ছিল কি না, সে সম্পর্কিত টক্সিকোলজি রিপোর্ট এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে লাতিনো সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সংগঠন লুলাক অ্যাডেলান্তে প্যাকের সভাপতি ডোমিঙ্গো গার্সিয়া অভিযোগ করেছেন, নতুন এই ওয়ারেন্ট প্রকাশের মাধ্যমে তদন্তের মূল বিষয় থেকে জনমত অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তার ভাষায়, পুরো বিষয়টি একটি 'কলঙ্ক ছড়ানোর প্রচারণা' ও 'ধামাচাপার চেষ্টা' বলে মনে হচ্ছে। টেক্সাসের আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)ও বলেছে, পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সংস্থার দাবিগুলো সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা উচিত। ঘটনার সময় ভ্যানে সালগাদো আরাউহোর সঙ্গে থাকা আরও তিনজনকে এখনো আটক রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে নিহতের ভাই ভিক্টর সালগাদোও রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তিনজনই ইউ-ভিসা সনদ পেয়েছেন, যা তদন্তে সহযোগিতাকারী অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক বহিষ্কার থেকে সাময়িক সুরক্ষা দেয়। এদিকে হ্যারিস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, তারা অনুসন্ধানী পরোয়ানা দাখিল বা কার্যকর করেনি। তবে এফবিআইয়ের অনুমতিতে তারা ভ্যানটি পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছে। গুলির ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান। কী পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী গুলি চালানো হয়েছিল এবং ভ্যানে পাওয়া সন্দেহভাজন মাদকের সঙ্গে নিহত ব্যক্তির কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
সন্ত্রাসবাদ, মানবপাচার ও সহিংস অপরাধ দমনে নতুন জনবল নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা। আবেদন করতে হলে মার্কিন নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) সন্ত্রাসবাদ দমন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং সহিংস অপরাধ মোকাবিলায় নতুন জনবল নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এফবিআই জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম জাতীয় পর্যায়ের হলেও এর প্রভাব পড়ে স্থানীয় পর্যায়ে। ওহাইওসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে সন্ত্রাসবাদ তদন্ত, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং সহিংস অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে তারা। সংস্থাটির ভাষ্য, এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করতে দক্ষ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল নতুন সদস্য প্রয়োজন। তাই আগ্রহীদের এফবিআইয়ের বিভিন্ন পদে আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবেদনকারীদের অবশ্যই মার্কিন নাগরিক হতে হবে এবং পদভেদে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা, শারীরিক সক্ষমতা, নিরাপত্তা যাচাই ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও আবেদন প্রক্রিয়া FBIJobs.gov-এ প্রকাশ করা হয়েছে। এফবিআইয়ের এই নিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের জন্যও সুযোগ রয়েছে। এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের সফলভাবে দায়িত্ব পালনের নজির রয়েছে। ফলে যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারলে এফবিআইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় কাজ করার সুযোগও তাদের জন্য উন্মুক্ত। এফবিআই বলছে, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ, মানবপাচার রোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পেশাগত দক্ষতার মানুষের অংশগ্রহণই তাদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।
ওয়াশিংটন, ৮ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত একটি পরিবারের কাছ থেকে ৪ লাখ মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি এবং অর্থ না দিলে ভারতে থাকা তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ভারতের এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে ভারতের কাছে তার প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চাওয়া হবে। মার্কিন আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের টান্ডা থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) গুরিন্দরজিৎ সিং নাগরা। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসরত একটি ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারের কাছ থেকে ৪ লাখ ডলার দাবি করেন। পরিবারটি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে, ভারতে থাকা তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করার হুমকি দেওয়া হয়। মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তা তার সরকারি পদমর্যাদার প্রভাব ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছেন। মামলাটি আন্তঃদেশীয় চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধসংক্রান্ত একটি বৃহত্তর তদন্তের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। মার্কিন বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। সে কারণে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে এনে বিচারের আওতায় আনতে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তবে প্রত্যর্পণের বিষয়টি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান আইনি চুক্তি এবং দুই দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। মামলায় অভিযোগ আনা হলেও এখন পর্যন্ত ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আইনি ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের মানেই তিনি দোষী—এমনটি নয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপজুড়ে চালানো এক বিশাল যৌথ অভিযানে ভারতভিত্তিক তিনটি আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধ চক্রের ২৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 'অপারেশন হার্ড বল' নামের কয়েক বছরব্যাপী চলা মার্কিন ফেডারেল তদন্তের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে এই সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি বিল এসাইলি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এই অপরাধী চক্রগুলো ক্যালিফোর্নিয়া ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড, অর্থ আদায় বা চাঁদাবাজি এবং অপহরণের মতো মারাত্মক সহিংসতার সাথে জড়িত। এছাড়াও তারা বিভিন্ন কমিউনিটিতে বিপুল পরিমাণ কোকেন এবং মেথামফেটামিনের মতো মারাত্মক মাদক চোরাচালান করে আসছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ২৪ জনের মধ্যে ১১ জনকেই ধরা হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে। লস অ্যাঞ্জেলেসের হাইল্যান্ড পার্কের বেশ কয়েকটি বাড়িতে মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) এজেন্টরা একযোগে হানা দিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হয়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তিনটি ভিন্ন অভিযোগপত্রে মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, চাঁদাবাজি এবং গ্যাংস্টার সংস্কৃতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের প্রধান দুই হোতা বর্তমানে ভারতের কারাগারে বন্দি থাকা সত্ত্বেও সেখান থেকেই মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে এই আন্তর্জাতিক অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করছিলেন। এই চক্রের মূল টার্গেট ছিল আমেরিকা ও কানাডায় বসবাসরত প্রবাসীরা। তারা প্রবাসীদের এবং ভারতে থাকা তাদের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে লাখ লাখ ডলার দাবি করত। এই অভিযানের মাধ্যমে মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রায় এক হাজার কিলোগ্রাম কোকেন, এক কিলোগ্রাম হেরোইন, চলিশ হাজার ডলার নগদ অর্থ এবং এক ডজন আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস এবং স্যাক্রামেন্টো এলাকায় মোট ৩৪টি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে এখনও আন্তর্জাতিক স্তরে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার বাসিন্দা ৬৮ বছর বয়সী স্থপতি অ্যালান জিম্বলার এক সুনিপুণ আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে তার জীবনের সঞ্চয় থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার ডলার হারিয়েছেন। দীর্ঘ ১০ সপ্তাহ ধরে চলা এই জালিয়াতিতে প্রতারকরা নিজেদের এফবিআই (FBI) এজেন্ট এবং মার্কিন বিচার বিভাগের কৌঁসুলি পরিচয় দিয়ে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়। ঘটনার শুরু গত ৩০ মার্চ, যখন অ্যালানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্যাট্রোল’ এজেন্ট পরিচয়ে একটি ফোন আসে। তাকে জানানো হয়, ওয়াশিংটন থেকে ভিয়েতনামে পাঠানো একটি অবৈধ প্যাকেজে তার নাম পাওয়া গেছে, যার ভেতরে একাধিক ডেবিট ও সিম কার্ড ছিল। তাকে একটি আন্তর্জাতিক অর্থ পাচার চক্রের সাথে জড়িত থাকার ভয় দেখিয়ে এফবিআই-এর মুখোমুখি হওয়ার কথা বলা হয়। অ্যালান ওয়াশিংটনে যেতে অপরাগতা প্রকাশ করলে প্রতারকরা তার সাথে অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সের ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ করে। ভিডিও কলে প্রতারকরা নিজেদের এফবিআই-এর সাইবার ও কাউন্টার-টেররিজম বিভাগের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ডেভিড স্কট এবং বিচার বিভাগের আইনজীবী অ্যান্ড্রু টাইসেন ডুভা হিসেবে পরিচয় দেয়। জিম্বলার ইন্টারনেটে সার্চ করে দেখেন যে এই নামের কর্মকর্তারা আসলেই আছেন, যার ফলে তিনি তাদের আসল ভেবে বসেন। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রতারকরা উইন্ডব্রেকার জ্যাকেট পরা এবং পেছনে এফবিআই-এর লোগো বা সিল ব্যবহার করার পাশাপাশি বর্তমান অ্যাক্টিং অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের জাল স্বাক্ষর করা গ্রেফতারি পরোয়ানা ও জামিনের ভুয়া নথিপত্র দেখায়। তদন্তের গোপনীয়তা রক্ষার অজুহাতে জিম্বলারকে তার স্ত্রী বা পুলিশকে কিছু জানাতে নিষেধ করা হয় এবং প্রতি দুই ঘণ্টা পর পর নিজের ছবি তুলে ‘সেফটি রিপোর্ট’ হিসেবে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে গ্রেফতার এড়াতে এবং আদালত থেকে সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়া ঠেকাতে জামিনের টাকা হিসেবে দুই দফায় নিজের পেনশনের তহবিল বা অবসরকালীন জমানো ফান্ড এবং বাড়ি বিক্রির টাকা থেকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন জিম্বলার। টাকা পাওয়ার পরপরই প্রতারকরা তাদের সমস্ত অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়। ভুক্তভোগী জিম্বলার স্থানীয় পুলিশ এবং এফবিআই-এর ইন্টারনেট ক্রাইম কমপ্লেইন্ট সেন্টারে (IC3) অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে এসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এই ধরণের সরকারি কর্মকর্তা সেজে প্রতারণার ঘটনা অনেক বেশি নিখুঁত ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এফবিআই সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনো সরকারি সংস্থা কখনো ফোন করে ডলার বা জামিন দাবি করে না। এমন কোনো সন্দেহজনক কল আসলে তৎক্ষণাৎ কেটে দিয়ে সরাসরি স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ৫৪৭ মিলিয়ন ডলারের স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির একটি মামলায় অভিযুক্ত খালিদ আহমেদ সাতারিকে তাদের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার্স’ তালিকায় যুক্ত করেছে। তার গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে সংস্থাটি। এফবিআই জানায়, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সাতারি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে একাধিক ডায়াগনস্টিক পরীক্ষাগার পরিচালনা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজন ছিল না—এমন ব্যয়বহুল জেনেটিক পরীক্ষার জন্য মেডিকেয়ারে প্রতারণামূলক বিল জমা দেওয়া হয়। তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, রোগী সংগ্রহকারী, টেলিমার্কেটিং কল সেন্টার এবং টেলিমেডিসিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে অবৈধ কমিশন ও ঘুষের বিনিময়ে রোগীদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হতো। পরে সেই পরীক্ষার বিপরীতে মেডিকেয়ার কর্মসূচি থেকে শত শত মিলিয়ন ডলার দাবি করা হয়। মামলায় প্রতারণামূলক বিলের মোট পরিমাণ ৫৪৭ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বলে উল্লেখ করেছে এফবিআই। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি, ওয়্যার ফ্রড, অবৈধ কিকব্যাক ও ঘুষ প্রদান এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও পরবর্তীতে আদালতের শর্ত ভঙ্গ করে পলাতক হন। এরপর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এফবিআইর তথ্য অনুযায়ী, খালিদ আহমেদ সাতারির যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, জর্জিয়া ও ফ্লোরিডার পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, জর্ডান এবং ইসরায়েল/ফিলিস্তিন অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার জাতীয়তা বা জন্মসূত্র সম্পর্কে এফবিআই কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। এফবিআই আরও জানিয়েছে, সাতারি ‘খালিদ সাতারি’, ‘খালিদ এ. সাতারি’, ‘রকি সাতারি’ এবং ‘ডিজে রক সাতারি’ নামেও পরিচিত। তার অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে গ্রেপ্তারে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণা দমনে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে আসছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। এফবিআই এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিচারের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর পরিচালক কাশ প্যাটেল দাবি করেছেন, গত এক বছরে সংস্থাটি ৬ হাজার ৩০০-এর বেশি নিখোঁজ শিশুকে শনাক্ত ও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে পরিচালিত একাধিক অভিযানে শত শত শিশুনির্যাতনকারী ও যৌন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একাধিক পোস্টে দাবি করা হয়, কাশ প্যাটেলের নেতৃত্বে এফবিআই ৬ হাজার নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করেছে এবং প্রায় ২ হাজার ‘শীর্ষ শিকারি’কে গ্রেপ্তার করেছে। তবে সরকারি তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই সংখ্যাগুলো একক কোনো অভিযানের নয়; বরং বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত একাধিক জাতীয় অভিযানের সম্মিলিত ফলাফলকে একসঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে পরিচালিত ‘অপারেশন আয়রন পারস্যুট’-এ দেশব্যাপী ২০০-এর বেশি শিশু ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয় এবং ৩৫০-এর বেশি অভিযুক্ত শিশুনির্যাতনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই অভিযানে এফবিআইয়ের সব ফিল্ড অফিস এবং বিভিন্ন ফেডারেল ও স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অংশ নেয়। অভিযান নিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে কাশ প্যাটেল বলেন, “গত বছর আমাদের অংশীদার সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করে ৬ হাজার ৩০০-এর বেশি নিখোঁজ শিশুকে শনাক্ত ও উদ্ধার করা হয়েছে। অপারেশন আয়রন পারস্যুট সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই সর্বশেষ উদাহরণ।” বিচার বিভাগ জানায়, অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতন, শিশু পাচার, অপহরণ, শিশু নির্যাতনের ভিডিও বা ছবি তৈরি, সংরক্ষণ ও বিতরণসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এফবিআই আরও জানায়, ২০২৫ সাল থেকে শিশু সুরক্ষায় ধারাবাহিকভাবে ‘অপারেশন রিস্টোর জাস্টিস’, ‘অপারেশন এনডিউরিং জাস্টিস’, ‘অপারেশন রিলেন্টলেস জাস্টিস’ এবং সর্বশেষ ‘অপারেশন আয়রন পারস্যুট’ পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে শত শত শিশু উদ্ধার এবং এক হাজারেরও বেশি সন্দেহভাজন শিশুনির্যাতনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত “৬ হাজার শিশু উদ্ধার” সংক্রান্ত দাবির মূল ভিত্তি সরকারি তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও “প্রায় ২ হাজার শিকারি গ্রেপ্তার” সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট অভিযানের ফল নয়। এটি বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত একাধিক আইন-শৃঙ্খলা অভিযানের সম্মিলিত পরিসংখ্যান। তাই ভাইরাল পোস্টের দাবিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট অনুপস্থিত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধ দমনে বিশাল এক সাফল্যের মুখ দেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে)। সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম কুখ্যাত সাইবার অপরাধী চক্র ‘স্ক্যাটার্ড স্পাইডার’-এর কথিত সদস্য পিটার স্টোকসকে ফিনল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে সাইবার ষড়যন্ত্র, কম্পিউটার সিস্টেমে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং জালিয়াতির গুরুতর সব অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে ফিনল্যান্ডের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্টোকসকে গ্রেপ্তার করে। গত সপ্তাহে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার পর শিকাগোর একটি ফেডারেল আদালতে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, পিটার স্টোকস ‘স্ক্যাটার্ড স্পাইডার’ নামের যে হ্যাকার গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত ছিলেন, তা সাইবার দুনিয়ায় অক্টোপাস, আনসি৩৯৪৪ (UNC3944) এবং অক্টা টেম্পেস্ট নামেও পরিচিত। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দেওয়া ভাষ্য অনুযায়ী, অত্যন্ত ধূর্ত এই চক্রটি নিত্যনতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছে। এসব হামলার মাধ্যমে হ্যাকাররা ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মুক্তিপণ আদায় করেছে এবং আরও কয়েক মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি সাধন করেছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এই হ্যাকার গোষ্ঠীর সদস্যরা মূলত ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ এবং ‘সিম সোয়াপ’ কৌশল ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পরিচয় নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়া ফাঁকি দিত। এরপর অত্যন্ত সন্তর্পণে অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে ঢুকে সংবেদনশীল তথ্য চুরি করে তা প্রকাশের হুমকি দিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করত। এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচিত এই গ্রেপ্তারটি মূলত তাদের বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন রিপটাইড’-এর একটি অংশ। আন্তর্জাতিক মিত্রদের সহায়তায় পরিচালিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে লুকিয়ে থাকা সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংঘটিত সাইবার হামলা প্রতিহত করা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্ক্যাটার্ড স্পাইডার গোষ্ঠীর নাম টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি, খুচরা ব্যবসা ও আর্থিক খাতের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাইবার হামলার কারণে বারবার উঠে এসেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শুধু প্রযুক্তিগত দুর্বলতা নয়, বরং মানুষের সাধারণ ভুলগুলোকে কাজে লাগিয়ে সূক্ষ্মভাবে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে এই গোষ্ঠীটি বিশ্বে অদ্বিতীয়। তবে পুরো বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায়, আদালতে অভিযোগ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত পিটার স্টোকসকে আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এটিএম বুথে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাখ লাখ ডলার চুরির অভিযোগে চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ফেডারেল গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই)। 'জ্যাকপটিং' নামের একটি বিশেষ হ্যাকিং পদ্ধতির মাধ্যমে ওই ব্যক্তিরা বুথ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এই অপরাধ চক্রটি কানেকটিকাটের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৫ লাখ ২৯ হাজার ২২০ মার্কিন ডলার চুরি করেছে বলে আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কানেকটিকাটের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস এবং নিউ হ্যাভেনের এফবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন ইউক্লিডেস মোরেনো ইতানের, উইলিয়ান রিকার্ডো ফ্লোরেস, আলবার্তো জোসে ফ্রেইটস আরভিলা এবং লুইস জোসে ফ্রেইটস আরভিলা। তারা প্রত্যেকেই ভেনিজুয়েলার নাগরিক এবং বর্তমানে নিউ ইয়র্ক, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ম্যাসাচুসেটসের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন। চোরাই সম্পত্তি এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পরিবহন এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, 'জ্যাকপটিং' হলো এমন এক ধরনের অত্যাধুনিক চুরি যেখানে বিশেষ কোনো হার্ডওয়্যার বা ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার ব্যবহার করে এটিএম বুথের ভেতরের কম্পিউটার সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এর ফলে ব্যাংকের কোনো কার্ড ছাড়াই বুথের ভেতরে থাকা সব টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাইরে চলে আসে। গত বছরের আগস্ট মাসে এই চক্রটি কানেকটিকাটের মোট ৯টি এটিএম বুথ টার্গেট করেছিল, যার মধ্যে আটটি বুথ থেকে তারা সফলভাবে টাকা তুলতে সক্ষম হয়। তবে একটি বুথে উন্নত নিরাপত্তা সফটওয়্যার থাকায় তাদের চুরির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। বুথগুলোর ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে এই চুরির অভিনব কৌশল দেখতে পেয়েছেন গোয়েন্দারা। ফুটেজে দেখা যায়, আলবার্তো নামের একজন প্রথমে এটিএম বুথ খুলে এর ভেতরের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় প্রবেশ করেন এবং কাজ শেষ করে এলাকা ছেড়ে চলে যান। এরপর অন্য তিনজন পালাক্রমে বুথের সামনে এসে পাহারায় থাকেন এবং টাকাগুলো বস্তাবন্দী করেন। ধরা পড়ার ঝুঁকি এড়াতে তারা কয়েক ঘণ্টা পর পর নিজেদের পোশাক পরিবর্তন করে একই বুথে বারবার আসছিলেন। আমেরিকার বিচার বিভাগ ও এফবিআই জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে এই 'জ্যাকপটিং' চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত এক সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ হাজার ৯০০টি এই ধরণের চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র গত এক বছরেই ৭০০টিরও বেশি ঘটনায় প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ এটিএম বুথ থেকে হ্যাক করে চুরি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত এই চার ব্যক্তির দোষ প্রমাণিত হলে তাদের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
চলমান ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়াম এবং ফ্যান ফেস্টিভ্যাল এলাকার আকাশে অবৈধ ড্রোন ওড়ানো বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI)। ডালাস এফবিআই ইতিমধ্যে ডজন ডজন অবৈধ ড্রোন জব্দ করেছে এবং এ বিষয়ে পাইলট ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। খেলা চলাকালীন এবং এর আগে-পরে স্টেডিয়ামের আশপাশের নির্দিষ্ট আকাশসীমায় যেকোনো ধরণের ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ডালাস এফবিআইয়ের বিশেষ কর্মকর্তা আর. জোসেফ রথ্রক জানিয়েছেন, গত ১১ জুন থেকে ডালাস স্টেডিয়াম এবং ফেয়ার পার্কের ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যাল এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তারা এ পর্যন্ত ৫৪টি অবৈধ ড্রোন জব্দ করেছেন। তিনি জানান, বেশিরভাগ ড্রোন চালকই জানেন না যে খেলা উপলক্ষে সাময়িক উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা (TFR) জারি করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ শুরুর ৩ ঘণ্টা আগে থেকে ম্যাচ শেষ হওয়ার ৩ ঘণ্টা পর পর্যন্ত ডালাস স্টেডিয়ামের চারপাশের ৩ নটিক্যাল মাইল এবং মাটি থেকে ৩ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি। এছাড়া ফ্যান ফেস্টিভ্যাল এলাকায় এই উচ্চতা সর্বোচ্চ ৪০০ ফুট। এফবিআই জানিয়েছে, আকাশে কোনো ড্রোন শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথে সেটিকে প্রাথমিকভাবে একটি বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইতিমধ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অপরাধে লুইস মাউরিসিও ফ্লোরেস অর্ডনিজ নামের ৩৩ বছর বয়সী এক হন্ডুরান নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি গত ১৪ জুন জাপান বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচের ঠিক আগে ডালাস স্টেডিয়ামের प्रतिबंधित আকাশসীমায় একটি অবনিবন্ধিত ড্রোন ওড়াচ্ছিলেন। দোষী সাব্যস্ত হলে ফেডারেল আইনে তার সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। স্থানীয় পেশাদার ড্রোন চালক এবং 'দ্য ডালাস ড্রোন গাই' নামে পরিচিত ৪২ বছর বয়সী সেথ ব্রুকস অন্য চালকদের এই নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, শখের বশে বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ড্রোন ওড়াতে হলেও মার্কিন বিমান প্রশাসন (FAA)-এর লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। ড্রোন ওড়ানো লুকিয়ে করা অসম্ভব, কারণ ড্রোন চালু করলেই তার উচ্চতা, ব্যাটারির তথ্য এবং রেজিস্ট্রেশনে ব্যবহৃত ফোন নম্বর ও ইমেল আকাশে ডিজিটাল সংকেত হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে, যা সহজেই ট্র্যাক করা যায়। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ড্রোন ওড়ালে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত বড় অঙ্কের জরিমানা ও ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন সরকার বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে বিশেষ ড্রোন-প্রতিরোধী প্রশিক্ষণ দিয়েছে। স্টেডিয়ামের আশেপাশে কোনো অবৈধ ড্রোন ওড়াতে দেখলে অবিলম্বে তা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য সাধারণ ফুটবল ভক্তদের প্রতিও অনুরোধ জানিয়েছে এফবিআই।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।