এফবিআই

কানেকটিকাটে এটিএম বুথে ‘জ্যাকপটিং’ জালিয়াতি; এফবিআইয়ের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪ | ছবি: গেটি ইমেজেস
কার্ড ছাড়াই বুথ থেকে অর্ধমিলিয়ন ডলার চুরি, যুক্তরাষ্ট্রে ৪ ভেনিজুয়েলান গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এটিএম বুথে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাখ লাখ ডলার চুরির অভিযোগে চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ফেডারেল গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই)। 'জ্যাকপটিং' নামের একটি বিশেষ হ্যাকিং পদ্ধতির মাধ্যমে ওই ব্যক্তিরা বুথ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এই অপরাধ চক্রটি কানেকটিকাটের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৫ লাখ ২৯ হাজার ২২০ মার্কিন ডলার চুরি করেছে বলে আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   কানেকটিকাটের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস এবং নিউ হ্যাভেনের এফবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন ইউক্লিডেস মোরেনো ইতানের, উইলিয়ান রিকার্ডো ফ্লোরেস, আলবার্তো জোসে ফ্রেইটস আরভিলা এবং লুইস জোসে ফ্রেইটস আরভিলা। তারা প্রত্যেকেই ভেনিজুয়েলার নাগরিক এবং বর্তমানে নিউ ইয়র্ক, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ম্যাসাচুসেটসের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন। চোরাই সম্পত্তি এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পরিবহন এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।   তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, 'জ্যাকপটিং' হলো এমন এক ধরনের অত্যাধুনিক চুরি যেখানে বিশেষ কোনো হার্ডওয়্যার বা ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার ব্যবহার করে এটিএম বুথের ভেতরের কম্পিউটার সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এর ফলে ব্যাংকের কোনো কার্ড ছাড়াই বুথের ভেতরে থাকা সব টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাইরে চলে আসে। গত বছরের আগস্ট মাসে এই চক্রটি কানেকটিকাটের মোট ৯টি এটিএম বুথ টার্গেট করেছিল, যার মধ্যে আটটি বুথ থেকে তারা সফলভাবে টাকা তুলতে সক্ষম হয়। তবে একটি বুথে উন্নত নিরাপত্তা সফটওয়্যার থাকায় তাদের চুরির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল।   বুথগুলোর ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে এই চুরির অভিনব কৌশল দেখতে পেয়েছেন গোয়েন্দারা। ফুটেজে দেখা যায়, আলবার্তো নামের একজন প্রথমে এটিএম বুথ খুলে এর ভেতরের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় প্রবেশ করেন এবং কাজ শেষ করে এলাকা ছেড়ে চলে যান। এরপর অন্য তিনজন পালাক্রমে বুথের সামনে এসে পাহারায় থাকেন এবং টাকাগুলো বস্তাবন্দী করেন। ধরা পড়ার ঝুঁকি এড়াতে তারা কয়েক ঘণ্টা পর পর নিজেদের পোশাক পরিবর্তন করে একই বুথে বারবার আসছিলেন।   আমেরিকার বিচার বিভাগ ও এফবিআই জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে এই 'জ্যাকপটিং' চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত এক সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ হাজার ৯০০টি এই ধরণের চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র গত এক বছরেই ৭০০টিরও বেশি ঘটনায় প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ এটিএম বুথ থেকে হ্যাক করে চুরি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত এই চার ব্যক্তির দোষ প্রমাণিত হলে তাদের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

তাবাস্সুম জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসের আর্লিংটনে অবস্থিত ডালাস স্টেডিয়াম | ছবি: কেরা নিউজ
বিশ্বকাপ ভেন্যুতে অবৈধ ড্রোন ওড়ানো বন্ধে কড়া অবস্থানে এফবিআই

চলমান ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়াম এবং ফ্যান ফেস্টিভ্যাল এলাকার আকাশে অবৈধ ড্রোন ওড়ানো বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI)। ডালাস এফবিআই ইতিমধ্যে ডজন ডজন অবৈধ ড্রোন জব্দ করেছে এবং এ বিষয়ে পাইলট ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। খেলা চলাকালীন এবং এর আগে-পরে স্টেডিয়ামের আশপাশের নির্দিষ্ট আকাশসীমায় যেকোনো ধরণের ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।   ডালাস এফবিআইয়ের বিশেষ কর্মকর্তা আর. জোসেফ রথ্রক জানিয়েছেন, গত ১১ জুন থেকে ডালাস স্টেডিয়াম এবং ফেয়ার পার্কের ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যাল এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তারা এ পর্যন্ত ৫৪টি অবৈধ ড্রোন জব্দ করেছেন। তিনি জানান, বেশিরভাগ ড্রোন চালকই জানেন না যে খেলা উপলক্ষে সাময়িক উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা (TFR) জারি করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ শুরুর ৩ ঘণ্টা আগে থেকে ম্যাচ শেষ হওয়ার ৩ ঘণ্টা পর পর্যন্ত ডালাস স্টেডিয়ামের চারপাশের ৩ নটিক্যাল মাইল এবং মাটি থেকে ৩ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি। এছাড়া ফ্যান ফেস্টিভ্যাল এলাকায় এই উচ্চতা সর্বোচ্চ ৪০০ ফুট।   এফবিআই জানিয়েছে, আকাশে কোনো ড্রোন শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথে সেটিকে প্রাথমিকভাবে একটি বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইতিমধ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অপরাধে লুইস মাউরিসিও ফ্লোরেস অর্ডনিজ নামের ৩৩ বছর বয়সী এক হন্ডুরান নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি গত ১৪ জুন জাপান বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচের ঠিক আগে ডালাস স্টেডিয়ামের प्रतिबंधित আকাশসীমায় একটি অবনিবন্ধিত ড্রোন ওড়াচ্ছিলেন। দোষী সাব্যস্ত হলে ফেডারেল আইনে তার সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।   স্থানীয় পেশাদার ড্রোন চালক এবং 'দ্য ডালাস ড্রোন গাই' নামে পরিচিত ৪২ বছর বয়সী সেথ ব্রুকস অন্য চালকদের এই নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, শখের বশে বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ড্রোন ওড়াতে হলেও মার্কিন বিমান প্রশাসন (FAA)-এর লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। ড্রোন ওড়ানো লুকিয়ে করা অসম্ভব, কারণ ড্রোন চালু করলেই তার উচ্চতা, ব্যাটারির তথ্য এবং রেজিস্ট্রেশনে ব্যবহৃত ফোন নম্বর ও ইমেল আকাশে ডিজিটাল সংকেত হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে, যা সহজেই ট্র্যাক করা যায়।   গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ড্রোন ওড়ালে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত বড় অঙ্কের জরিমানা ও ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন সরকার বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে বিশেষ ড্রোন-প্রতিরোধী প্রশিক্ষণ দিয়েছে। স্টেডিয়ামের আশেপাশে কোনো অবৈধ ড্রোন ওড়াতে দেখলে অবিলম্বে তা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য সাধারণ ফুটবল ভক্তদের প্রতিও অনুরোধ জানিয়েছে এফবিআই।

তাবাস্সুম জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
অপারেশন রেড কার্ড'-এর অধীনে রোড আইল্যান্ডে গ্রেপ্তারকৃত ৬ জন l ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ঘিরে মানবপাচার ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে 'অপারেশন রেড কার্ড', গ্রেপ্তার ৬

ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন মানবপাচার এবং দুর্বল বা অরক্ষিত মানুষদের শোষণ রোধে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে রোড আইল্যান্ড স্টেট পুলিশ। 'অপারেশন রেড কার্ড' নামের এই বহুমুখী অভিযানটি ম্যাসাচুসেটস স্টেট পুলিশ, ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), নেভাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটিভ সার্ভিস (এনসিআইএস), রোড আইল্যান্ডের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিসের যৌথ সমন্বয়ে পরিচালিত হয়।   অর্থের বিনিময়ে অবৈধ যৌন ব্যবসায় লিপ্ত হওয়া, শিশু নির্যাতন এবং মানবপাচারের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িতদের লক্ষ্য করেই মূলত এই অভিযানটি চালানো হয়েছে।   অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বড় ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টগুলো আয়োজক দেশগুলোর জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সুবিধা বয়ে আনলেও, এটি মানবপাচারকারী এবং অপরাধীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই মানবপাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের শনাক্তকরণ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে ওই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।   চলমান এই তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তারকৃত ছয়জনের নাম ও অপরাধের বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের রেহোবোথের বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী রিচার্ড ল্যালিয়ারকে ১৬ বছরের কম বয়সী নাবালকদের প্রলোভন দেখানো এবং অশ্লীল সামগ্রী প্রেরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে।   এছাড়া রোড আইল্যান্ডের নর্থ প্রভিডেন্সের ২৭ বছর বয়সী জোশুয়া লিংকন, ক্র্যানস্টনের ২৬ বছর বয়সী জ্যাকব পালাজো, জনস্টনের ৬০ বছর বয়সী ফ্রাঙ্কো মিকোলি, টিভারটনের ৩৮ বছর বয়সী ট্র্যাভিস শ এবং সেন্ট্রাল ফলসের ৩৮ বছর বয়সী রকি জোসেফকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে যৌনতা ক্রয়, নাবালকের কাছে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অশ্লীল বিষয়বস্তু প্রচার এবং অশালীন প্রস্তাব দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের অনেককেই ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।   রোড আইল্যান্ড স্টেট পুলিশ এবং তাদের সহযোগী সংস্থাগুলো সাধারণ জনগণকে এই ধরনের অপরাধের বিষয়ে সর্বদা সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। মানবপাচার অনেক সময়ই প্রকাশ্যে ঘটে এবং ভুক্তভোগীরা সাধারণত নিয়ন্ত্রিত বা জোরজবরদস্তির শিকার হয়ে থাকেন, যার ফলে তারা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন না।   মানবপাচার সংক্রান্ত কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ চোখে পড়লে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা ন্যাশনাল হিউম্যান ট্রাফিকিং হটলাইনে (১-৮৮৮-৩৭৩-৭৮৮৮) যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে। সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা এই হটলাইনে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে তথ্য প্রদান করা যাবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
অভিযুক্ত নারী এমিলি থাই | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে শত কোটি টাকার স্বাস্থ্য কেলেঙ্কারি, মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় টেক্সাসের নারী

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের এক নারীকে প্রায় ১০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা) মূল্যের এক বিশাল স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির দায়ে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই-এর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার’ (শীর্ষ অপরাধী) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এফবিআই-এর হিউস্টন কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ওই নারীর নাম এমিলি থাই, যিনি চিকিৎসার নামে ভুয়া বা অপ্রয়োজনীয় জিনগত পরীক্ষা (জেনেটিক টেস্টিং) এবং ঘুষ বা কিকব্যাক কেলেঙ্কারির মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১১ জুলাই এমিলি থাইয়ের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্র, মার্কিন সরকারের সাথে প্রতারণা এবং ফেডারেল স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির অধীনে অবৈধ ঘুষ লেনদেনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সাল থেকে একটি ল্যাবরেটরির মালিক এমিলি থাই বিভিন্ন মার্কেটিং এজেন্টের সাথে চুক্তি করেন। সেই চুক্তি অনুযায়ী, সরকারি লভ্যাংশের একটি নির্দিষ্ট অংশের বিনিময়ে এজেন্টরা চিকিৎসকদের ভুয়া সুপারিশপত্র এবং সাধারণ মানুষের ডিএনএ (DNA) নমুনা সংগ্রহ করে তাঁর ল্যাবে পাঠাতেন।   এফবিআই জানিয়েছে, ওই জেনেটিক পরীক্ষার বিপরীতে মার্কিন সরকারের স্বাস্থ্য কর্মসূচি ‘মেডিকেয়ার’ থেকে প্রতিটি টেস্টের জন্য হাজার হাজার ডলার তুলে নেওয়া হতো। অথচ প্রকৃতপক্ষে রোগীদের চিকিৎসার জন্য এই ধরনের জটিল ও ব্যয়বহুল পরীক্ষার কোনো ধরনের চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তাই ছিল না। এভাবে জালিয়াতি করে এমিলির ল্যাবরেটরি থেকে সরকারি তহবিলে প্রায় ১৪ কোটি ২০ লাখ ডলারের বিল পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সেই ভুয়া দাবির বিপরীতে মার্কিন সরকার ল্যাবটিকে প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা শত কোটি টাকা পরিশোধ করে।   এই বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির পর এমিলি থাইকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও পরবর্তীতে শর্তসাপেক্ষে আদালত থেকে জামিন পান তিনি। জামিনের প্রধান শর্ত ছিল তাঁর পায়ে একটি সার্বক্ষণিক লোকেশন ট্র্যাকিং বা অবস্থান পর্যবেক্ষণকারী ডিভাইস লাগানো থাকবে। তবে ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর লাস ভেগাসের হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় ডিভাইসটি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে পালিয়ে যান এমিলি। এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে না পেয়ে পরদিনই তাঁর বিরুদ্ধে পুনরায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে মার্কিন প্রশাসন।   গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হয়েছেন যে, এমিলি একটি ভুয়া বা জাল পরিচয়পত্র এবং ব্যক্তিগত বা প্রাইভেট বিমান ব্যবহার করে সফলভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। এফবিআই হিউস্টন কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, পলাতক এমিলি থাই বর্তমানে ভিয়েতনামে আত্মগোপন করে আছেন। এর আগে ২০২৩ সালের ৫ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে ফেডারেল তদন্তের সরকারি নথি ও রেকর্ড ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস এবং পরিবর্তনের জন্য আরেকটি পৃথক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।   এমিলি থাইকে হন্যে হয়ে খুঁজছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। এফবিআই হিউস্টন কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, পলাতক এমিলিকে গ্রেপ্তারে সাহায্য করতে পারে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট বা নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষকে এই তথ্য দিতে এফবিআই-এর নির্দিষ্ট হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
৩.৭ বিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতি মামলার অভিযুক্তকে তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনল এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ মেডিকেয়ার জালিয়াতি মামলার এক অভিযুক্তকে তুরস্ক থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইব্রাহিম খালদুন হিলমি নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রতারণামূলক মেডিকেয়ার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।   এফবিআইয়ের মিয়ামি ফিল্ড অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, হিলমি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ারকে লক্ষ্য করে পরিচালিত একটি বৃহৎ আর্থিক জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভুয়া দাবি, প্রতারণামূলক বিলিং এবং বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে সরকারি তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।   তদন্ত চলাকালে ২০২৫ সালের মে মাসে হিলমি যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন। পরে তুরস্কের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে আটক করে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়। এফবিআই এই প্রক্রিয়াকে “ফরেন ট্রান্সফার অব কাস্টডি” হিসেবে উল্লেখ করেছে।   এফবিআই মিয়ামি বলেছে, যারা বিচার এড়াতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে সংস্থার অঙ্গীকার অটুট রয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর বিদেশে আশ্রয় নিলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।   মামলাটির তদন্ত যৌথভাবে পরিচালনা করেছে এফবিআই এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের মহাপরিদর্শক কার্যালয় (এইচএইচএস-ওআইজি)। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান করদাতাদের অর্থ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   মেডিকেয়ার যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ নাগরিক এবং নির্দিষ্ট কিছু রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য পরিচালিত একটি ফেডারেল স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত জালিয়াতি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অন্যতম উদ্বেগের বিষয়। প্রতিবছর এ ধরনের প্রতারণার কারণে সরকারি তহবিলে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয় বলে বিভিন্ন সরকারি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এফবিআই প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, হিলমিকে তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার প্রক্রিয়া এবং দক্ষিণ ফ্লোরিডায় তার পৌঁছানোর মুহূর্ত। গত শুক্রবার তাকে দক্ষিণ ফ্লোরিডায় নিয়ে আসা হয়, যেখানে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত হিলমিকে আইনের দৃষ্টিতে অভিযুক্ত হিসেবেই গণ্য করা হবে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
৬০ বছর বয়সী হারবার্ট লিওন কিম্বলকে ফিলিপাইনে আটক করা হয়েছে | ছবি: সংগৃহীত
ফিলিপাইনে গ্রেপ্তার ১.২ বিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতি মামলার পলাতক আসামি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি মামলার এক পলাতক আসামিকে ফিলিপাইন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) জানিয়েছে, ৬০ বছর বয়সী হারবার্ট লিওন কিম্বলকে ফিলিপাইনে আটক করা হয়েছে। তিনি গত বছর নির্ধারিত সাজা ঘোষণার শুনানিতে হাজির না হয়ে আত্মগোপনে চলে যান।   এফবিআই ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কিম্বল একটি জটিল মেডিকেয়ার জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যার মাধ্যমে ১.২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ভুয়া বা অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা বিল সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, এই প্রতারণামূলক কার্যক্রমে মূলত বয়স্ক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।   মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পরিচালিত এই চক্র বিভিন্ন কল সেন্টার, টেলিমেডিসিন সেবা এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রোগীদের কাছে অর্থোপেডিক ব্রেস ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য বিপুল পরিমাণ দাবি জমা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব সরঞ্জামের বড় একটি অংশ ছিল চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় বা যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই বিল করা।   কিম্বল ২০১৯ সালে জালিয়াতি-সংক্রান্ত অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে তার সাজা ঘোষণার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। এরপর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং তাকে পলাতক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।   সম্প্রতি এফবিআই “মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার্স” নামে একটি বিশেষ তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে দেশের সবচেয়ে আলোচিত আর্থিক ও স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি মামলার পলাতক আসামিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিম্বল ওই তালিকার অন্যতম সদস্য ছিলেন। তার গ্রেপ্তার এ তালিকা প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই দ্বিতীয় বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   ফেডারেল কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ফিলিপাইনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় কিম্বলকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে আদালতের মুখোমুখি হয়ে তাকে সাজা শুনতে হবে।   স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতি বছর মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড কর্মসূচিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের প্রতারণার অভিযোগ উঠে আসে। এসব অপরাধ দমনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ নজরদারি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করেছে।   কর্তৃপক্ষের মতে, কিম্বলের গ্রেপ্তার শুধু একটি বড় মামলার অগ্রগতি নয়, বরং সীমান্ত পেরিয়ে আত্মগোপনে গেলেও আর্থিক অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

তাবাস্সুম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
একটি ফোন কলেই উধাও হতে পারে সারা জীবনের সঞ্চয়, প্রতারণার নতুন কৌশল নিয়ে সতর্ক করল এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে ফোন কলের মাধ্যমে পরিচয় গোপন করে কিংবা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই (FBI) নাগরিকদের বেশ কয়েকটি বহুল প্রচলিত ফোনভিত্তিক প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।   সংস্থাটির বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক নির্দেশনা ও সাম্প্রতিক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, প্রতারকরা সাধারণত ভয়, আতঙ্ক বা জরুরি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মানুষকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রেই তারা সরকারি সংস্থা, ব্যাংক বা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয়ে যোগাযোগ করে।   এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরকে কেন্দ্র করে প্রতারণা। এ ধরনের ফোন কলে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর স্থগিত করা হবে অথবা তার নামে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্ত চলছে। এরপর ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা অর্থ দাবি করা হয়। তবে বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসন সাধারণত ফোনে কাউকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ বা ব্যক্তিগত তথ্য চায় না।   আরেকটি পরিচিত প্রতারণা হলো ট্যাক্স সংক্রান্ত ভুয়া কল। প্রতারকরা নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের (IRS) কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দাবি করে যে ভুক্তভোগীর বকেয়া কর রয়েছে এবং তা দ্রুত পরিশোধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অথচ আইআরএস সাধারণত কর সংক্রান্ত বিষয়ে প্রথম যোগাযোগ ডাকযোগে বা আনুষ্ঠানিক নোটিশের মাধ্যমে করে থাকে।   ব্যাংকিং খাতকেও লক্ষ্যবস্তু করছে প্রতারকরা। অনেক সময় ফোন করে বলা হয়, গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বা সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। এরপর ওটিপি, যাচাইকরণ কোড কিংবা অনলাইন ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। ব্যাংকিং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে কোনো বৈধ ব্যাংক কখনো ফোনে গ্রাহকের পাসওয়ার্ড, ওটিপি বা নিরাপত্তা কোড জানতে চায় না।   প্রযুক্তি সহায়তার নামে প্রতারণাও বাড়ছে। এ ধরনের কলে বলা হয়, ব্যবহারকারীর কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং তা সমাধানের জন্য দূর থেকে ডিভাইসে প্রবেশাধিকার দিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অনুরোধ গ্রহণ করলে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, আর্থিক তথ্য বা অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অ্যাপল বা মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠান সাধারণত বিনা কারণে গ্রাহকদের ফোন করে এ ধরনের সতর্কবার্তা দেয় না।   সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হিসেবে উঠে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালিত ভয়েস প্রতারণা। এ ক্ষেত্রে প্রতারকরা পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা পরিচিত কারও কণ্ঠস্বর নকল করে জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে অর্থ পাঠানোর অনুরোধ করে। এফবিআই সম্প্রতি এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি বলছে, কোনো জরুরি আর্থিক অনুরোধ পাওয়া গেলে অর্থ পাঠানোর আগে অন্য কোনো মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া উচিত।   সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোনে কেউ যদি অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, ভয় দেখায়, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলে অথবা অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য দাবি করে, তাহলে সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। প্রয়োজনে কলটি কেটে দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা ও সতর্কতাই এ ধরনের প্রতারণা থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। একটি অসতর্ক মুহূর্তেই ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন যে কেউ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় সরাসরি এফবিআই অফিসে গিয়ে গোয়েন্দাগিরি শিখল শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের একদল হাই স্কুল শিক্ষার্থীর জন্য ক্লাসরুমের সাধারণ একটি দিন মুহূর্তেই রূপ নিল অপরাধ তদন্তের এক রোমাঞ্চকর বাস্তব অভিজ্ঞতায়। ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর বার্ষিক 'টিন একাডেমি'র অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা এই অনন্য সুযোগ লাভ করে। বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস আটলান্টার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, জর্জিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা এফবিআই-এর আটলান্টা ফিল্ড অফিস পরিদর্শন করে। সেখানে তারা গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, অপরাধের আলামত সংগ্রহসহ এফবিআই-এর বিভিন্ন পেশা ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করে। পরবর্তীতে তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি তাদেরকে কৃত্রিম অপরাধের দৃশ্যপট বা মক ইনভেস্টিগেশন সিনারিওতে যুক্ত করে বাস্তব তদন্তের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।   আরবিয়া মাউন্টেন হাই স্কুলের সদ্য স্নাতক পাস করা শিক্ষার্থী ড্যানিয়েল ভিল জানান, এই অভিজ্ঞতা তার সামনে এমন কিছু ক্যারিয়ারের সুযোগ উন্মোচন করেছে যা তিনি আগে কখনো ভাবেননি। তিনি বলেন, "আমি মিডিয়া ও ফিল্মিংয়ের প্রতি খুব আগ্রহী এবং আজ বুঝতে পারলাম যে এফবিআই-তেও এই লাইনে কাজ করার চমৎকার সুযোগ রয়েছে।" ড্যানিয়েল আগামী শরতে জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ক্রিমিনাল জাস্টিস এবং ফিল্ম বিষয়ে উচ্চশিক্ষা শুরু করতে যাচ্ছেন। একজন কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ হিসেবে এফবিআই-এর মতো জায়গায় এমন সুযোগ পেয়ে তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   টিফ কাউন্টি হাই স্কুলের আরেক মেধাবী শিক্ষার্থী গ্রেটা কোয়ার্সি জানান, ফরেনসিক ক্লাসের প্রতি আগ্রহই তাকে অপরাধের দৃশ্যপট তদন্তের (ক্রাইম সিন ইনভেস্টিগেশন) দিকে টেনে এনেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর এই যুগে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে দূরদর্শী গ্রেটা বলেন, "এআই-এর যেভাবে উত্থান হচ্ছে, তাতে আমি এমন একটি পেশা বেছে নিতে চেয়েছিলাম যেখানে আমাকে অন্য কিছু দিয়ে প্রতিস্থাপন করা যাবে না। এআই কখনো মানুষকে মানসিক স্বস্তি বা নিরাপত্তা দিতে পারে না, যা একজন মানুষ পারে।"   এফবিআই-এর কমিউনিটি আউটরিচ স্পেশালিস্ট ক্রিশ্চিয়ান ফোরম্যান বলেন, অনেক শিক্ষার্থীই মনে করে এফবিআই মানেই শুধু স্পেশাল এজেন্টদের দল। কিন্তু এই একাডেমির মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যুরোর মূল লক্ষ্যকে সচল রাখতে পর্দার আড়ালে যে আরও অসংখ্য পেশাদার মানুষ কাজ করে, সেই বিশাল কর্মক্ষেত্রের সাথে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া।   এফবিআই প্রতি বছরই এই টিন একাডেমির আয়োজন করে থাকে। এর মাধ্যমে জর্জিয়ার হাই স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের এফবিআই-এর ভেতরের কর্মপরিবেশ কাছ থেকে দেখার এবং দেশের সুরক্ষায় বিভিন্ন আকর্ষণীয় পেশা বেছে নেওয়ার পথ তৈরি হয়।

তাবাস্সুম জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
শোকাহতদের টার্গেট করে দীর্ঘদিনের প্রতারণা, টেক্সাস দম্পতির বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের নর্থ টেক্সাসে আবেগগতভাবে ভেঙে পড়া ও শোকাহত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে দীর্ঘদিন ধরে ‘ভবিষ্যদ্বক্তা’ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রের মাধ্যমে অন্তত ২.৫ মিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করা হয়েছে।   ফ্রিস্কো শহরের বাসিন্দা ৪৭ বছর বয়সী ব্রিজেট ডোরিন ইভান্স এবং তার স্বামী ৪৪ বছর বয়সী ভিনি জন উয়ানাওয়িচের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে ষড়যন্ত্র করে ডাক ও ইন্টারনেট জালিয়াতি এবং একাধিক প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।   অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ইভান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে ‘জোলিন ট্র্যাভিস’ নামে একজন জ্যোতিষী হিসেবে পরিচয় দিয়ে এমন ব্যক্তিদের লক্ষ্য করতেন, যারা ডিভোর্স, বিচ্ছিন্নতা বা প্রিয়জন হারানোর শোকে ছিলেন।   প্রসিকিউটরদের ভাষ্যমতে, তিনি ভুক্তভোগীদের বোঝাতেন যে তাদের জীবনের আর্থিক ও ব্যক্তিগত দুর্দশার পেছনে একটি ‘অভিশাপ’ কাজ করছে। ওই অভিশাপ দূর করার জন্য সম্পদ বিক্রি করে নগদ অর্থ বা স্বর্ণমুদ্রা পাঠাতে বলা হতো, যা পরে ‘আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধির’ পর ফেরত দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হতো।   তদন্তে বলা হয়েছে, এই অর্থ আর কখনোই ফেরত দেওয়া হয়নি। বরং অল্প কিছু অর্থ মাঝে মাঝে ফেরত দিয়ে ভুক্তভোগীদের আস্থা ধরে রাখার চেষ্টা করা হতো। একজন ভুক্তভোগী একাই দুই মিলিয়নেরও বেশি ডলার পাঠিয়েছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটর দপ্তর জানিয়েছে। আরেকজনের কাছ থেকে ৮৬ হাজার ডলার এবং অন্য একজনের কাছ থেকে ২ লাখ ৫৮ হাজার ডলার নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।   অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এক ঘটনায় ইভান্স ভুক্তভোগীকে ‘কার্মিক ঋণ’ পরিশোধের কথা বলে ক্রেডিট কার্ড খুলতে এবং গাড়ি ঋণ নিতে বাধ্য করেন, যার মাধ্যমে একটি শেভরোলেট করভেট কেনা হয়। তার স্বামী উয়ানাওয়িচ প্রতারণার অর্থ গ্রহণ, ব্যাংক হিসাব পরিচালনা এবং স্বর্ণমুদ্রা বিক্রিতে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, ইভান্স এর আগেও একই ধরনের প্রতারণার মামলায় দোষ স্বীকার করেছিলেন। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, তিনি কারাগারে থাকাকালেও তার সহযোগীরা একই ছদ্মনামে প্রতারণা চালিয়ে যায়। এফবিআই জানিয়েছে, ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন এবং সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগীদের সামনে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্তদের প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
হোয়াইট হাউস–সংলগ্ন ইউএফসি ইভেন্টে ড্রোন হামলার পরিকল্পনায় এফবিআইয়ের অভিযানে ৫ জন গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে অনুষ্ঠিতব্য একটি ইউএফসি ইভেন্টকে লক্ষ্য করে কথিত বিস্ফোরক-ভর্তি ড্রোন হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।   মঙ্গলবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, পরিকল্পনাটি একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের কথা ছিল, যেখানে প্রথমে ড্রোন ব্যবহার করে বিস্ফোরক হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার পরিকল্পনা ছিল। এরপর ভিড়কে নির্দিষ্ট একটি এলাকায় ঠেলে নিয়ে সেখানে স্নাইপার দলের মাধ্যমে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানোর কথাও পরিকল্পনায় ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে হামলাকারীদের একটি দল হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে—এমন তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।   এফবিআই জানায়, ১০ জুন তারা এই পরিকল্পনার বিষয়ে তথ্য পায় এবং দ্রুত তদন্ত শুরু করে।  পরে সিনসিনাটিতে একটি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়, যেখানে প্রথম গ্রেপ্তারটি হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিযান চালিয়ে আরও সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়।   তদন্তে আরও জানা গেছে, কিছু সন্দেহভাজন ১২ বা ১৩ জুন ভার্জিনিয়ার ফ্রেডেরিক্সবার্গ এলাকায় গিয়ে হামলার প্রস্তুতি নেয়। একজন সন্দেহভাজনের আইফোন বিশ্লেষণ করে অন্তত ২৩ জন ব্যবহারকারীর সঙ্গে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ সিগনালে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যেখানে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।   একজন সন্দেহভাজন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, এই হামলার লক্ষ্য ছিল “পুঁজিবাদী এলিট”, “ধনকুবের” এবং এমন রাজনীতিবিদরা যারা আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (AIPAC) অর্থায়ন পান—এমনটাই জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।   এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে বলেন, দ্রুত ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে সম্ভাব্য হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়েছে। তিনি এটিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর “কার্যকর ও নিয়মিত কাজের অংশ” বলেও উল্লেখ করেন।   ঘটনার সময় আয়োজিত এই হাই-প্রোফাইল ইউএফসি ইভেন্টে প্রায় ৪,৩০০ জন উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে প্রায় ১,২০০ জন সক্রিয় সেনাসদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনের সঙ্গেও একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এফবিআই জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসে কুস্তি খেলায় ড্রোন ও বন্দুক হামলার বড় ষড়যন্ত্র বানচাল

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণে গত উইকেন্ডে অনুষ্ঠিত একটি হাই-প্রোফাইল ইউএফসি (UFC) খাঁচা-কুস্তি (কেজ-ফাইটিং) ম্যাচকে লক্ষ্য করে তৈরি করা এক ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার (১৬ জুন) আদালতের সিলমোহর মুক্ত করা নথিপত্র থেকে এই তথ্য জানা গেছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ একদল ষড়যন্ত্রকারী বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন ওড়ানো এবং বিস্ফোরণের পর আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর ছক কষেছিল।   আদালতের নথি অনুযায়ী, এফবিআই এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত প্রায় ২০ জন সদস্যের একটি এনক্রিপ্টেড টেক্সট মেসেজ গ্রুপের চ্যাটিং উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। সেখানে তারা হামলার এলাকার বিস্তারিত মানচিত্র শেয়ার করেছিল এবং হামলার পর লুকিয়ে থাকার জন্য একটি 'সেফ হাউস' ও পালানোর পথ নিয়ে আলোচনা করছিল। তবে গত সপ্তাহে সফলভাবে ব্যর্থ করে দেওয়া এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের কতটা কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছিল তা আদালতের রেকর্ড থেকে এখনো স্পষ্ট জানা যায়নি।   গত ১৪ জুন হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে (দক্ষিণ চত্বর) এই মিক্সড মার্শাল আর্টস বা কুস্তি প্রতিযোগিতার আসর বসার কথা ছিল। এর ঠিক চার দিন আগে, অর্থাৎ ১০ জুন এফবিআই সম্ভাব্য এই হুমকির বিষয়টি প্রথম জানতে পারে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেন, "এফবিআই, আমাদের সহযোগী সংস্থা এবং বিচার বিভাগের একটি বহুমাত্রিক যৌথ তৎপরতার কারণে একাধিক সন্দেহভাজনকে ইতিমধ্যে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং পরিকল্পিত হামলাটি শুরু হওয়ার আগেই সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।"   এই ঘটনার তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্ট একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন যে, ওহাইও, মিসৌরি এবং ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ওহাইও-এর ১৯ বছর বয়সী তরুণ টাইসেন প্রোপার রয়েছেন। এফবিআই-এর হলফনামা অনুযায়ী, গত সপ্তাহে প্রোপারের মা তার ছেলের বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র কেনাকাটা এবং সন্দেহজনক অনলাইন যোগাযোগ নিয়ে স্থানীয় পুলিশের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।   গ্রেপ্তার হওয়া প্রোপারের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে হত্যার চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রোপার স্বীকার করেছেন যে, তিনি এই হামলার পরিকল্পনায় সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। হলফনামা থেকে আরও জানা যায়, এই চক্রের সদস্যরা গত মার্চ মাস থেকে 'ভ্যানগার্ড অব দ্য ওল্ড' নামক একটি টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছিল। নথিতে বলা হয়েছে, চক্রের সদস্যরা বিশ্বাস করত যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভুল পথে এগোচ্ছে এবং দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য এটিকে প্রথমে ধ্বংস করা প্রয়োজন। এছাড়া জেফ্রি এপস্টেইনের মতো বিতর্কিত চরিত্রের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা যেন দেশ শাসন করতে না পারে, সেটিও ছিল তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তাবাস্সুম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: এপি
হোয়াইট হাউসে ইউএফসি ইভেন্টে ড্রোন হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ, গ্রেপ্তার ৫

হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টকে লক্ষ্য করে কথিত বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলার একটি পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।    প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত হেফাজতে ছিলেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এফবিআইয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়।    তদন্তে উঠে এসেছে, সন্দেহভাজনরা হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে অনুষ্ঠিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা করেছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করার পরিকল্পনা ছিল।    এফবিআই ১০ জুন সম্ভাব্য এই ষড়যন্ত্রের তথ্য পায় এবং তদন্ত শুরু করে। পরে একাধিক অঙ্গরাজ্যে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ সিগন্যালের বিভিন্ন চ্যাটও খতিয়ে দেখছেন।    এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে বলেন, এফবিআই, বিচার বিভাগ এবং অন্যান্য অংশীদার সংস্থার সমন্বিত অভিযানের ফলে পরিকল্পিত হামলা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।    উল্লেখ্য, ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টটি হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং এতে কয়েক হাজার দর্শক অংশ নেন।

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
এফবিআইয়ের ড্রোন হ্যাকের দাবি, বিশ্বকাপ ঘিরে হুমকি দিল ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠী

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের নজরদারি ড্রোনে অনুপ্রবেশের দাবি করেছে ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠী ‘হান্দালা’। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে চলমান ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা হুমকিও দিয়েছে তারা। তবে গোষ্ঠীটির দাবির পক্ষে উপস্থাপিত কিছু তথ্যে অসঙ্গতি পাওয়ার কথা জানিয়েছে অনলাইন পর্যবেক্ষণ সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে হান্দালা দাবি করেছে যে তারা কয়েক মাস ধরে এফবিআইয়ের ব্যবহৃত ফার্স্ট-পার্সন ভিউ (এফপিভি) ড্রোনের সংগৃহীত ছবি, ভিডিও ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তথ্যের ওপর নজরদারি চালিয়ে আসছে। গোষ্ঠীটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ড্রোনে মুখ শনাক্তকরণ এবং গাড়ির নম্বরপ্লেট বিশ্লেষণের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।   বিবৃতিতে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়ে সরাসরি হুমকিও দেওয়া হয়। হান্দালা দাবি করে, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া কয়েকটি দলকে তারা পছন্দ করে না এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করা উচিত। তারা আরও ইঙ্গিত দেয় যে ড্রোন ব্যবহার করে বিভিন্ন দলের চলাচল বা পরিবহনের ওপর নজরদারি চালানো সম্ভব।   বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেডিয়াম ও সংশ্লিষ্ট আয়োজনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এফবিআই ড্রোন মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে স্টেডিয়ামের আকাশসীমা ও আশপাশের এলাকায় বেসরকারি বা অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ ড্রোনকে বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং তা মোকাবিলায় বিশেষ প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে।   তবে হান্দালার দাবি নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। গোষ্ঠীটি যে ছবি ও ভিডিওকে হ্যাকিংয়ের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, তার অন্তত একটি ভিডিও প্রকৃতপক্ষে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের একটি বাণিজ্যিক প্রচারমূলক ভিডিও বলে শনাক্ত করেছে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ। ওই ভিডিওটি একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের তৈরি, যা টর্নেডো-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে মার্কিন পুলিশের প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রচারণার অংশ ছিল। ফলে হান্দালার উপস্থাপিত তথ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এর আগে মার্কিন বিচার বিভাগও ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের সম্ভাব্য সাইবার হামলা নিয়ে সতর্ক করেছিল।   হান্দালা এর আগেও আলোচনায় আসে। চলতি বছরের মার্চে তারা এফবিআই পরিচালক Kash Patel-এর ব্যক্তিগত ইমেইল অ্যাকাউন্টে প্রবেশের দাবি করে এবং কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করে। মার্কিন কর্মকর্তারা তখনও গোষ্ঠীটির কিছু দাবি অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছিলেন।   হান্দালা গোষ্ঠীকে মার্কিন কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই নজরদারিতে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর গোষ্ঠীটির সদস্যদের শনাক্তকরণ বা গ্রেপ্তারে সহায়তাকারী তথ্যের জন্য এক কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণাও করেছে।   বিশ্বকাপে কয়েক মিলিয়ন দর্শক এবং শতাধিক ম্যাচের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও স্থানীয় সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ড্রোন, সাইবার হামলা ও সম্ভাব্য সন্ত্রাসী ঝুঁকিকে এবারের টুর্নামেন্টের প্রধান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
এফবিআইয়ের ড্রোন হ্যাক করে এবার খোদ বিশ্বকাপ ফুটবলে হামলার হুমকি দিল ইরানের হ্যাকার গ্রুপ

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের অত্যাধুনিক ড্রোন হ্যাক করার চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে 'হান্দালা' নামের ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি হ্যাকার গ্রুপ। শুধু তাই নয়, আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলকে লক্ষ্য করে বড়সড় হামলারও সরাসরি হুমকি দিয়েছে তারা। শুক্রবার অনলাইন পর্যবেক্ষণ সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস এই তথ্য সামনে আনে।   সাইট ইন্টেলিজেন্স প্রকাশিত হান্দালার এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সন্ত্রাসবাদ দমনে এফবিআইয়ের ব্যবহৃত ফার্স্ট-পার্সন ভিউ (এফপিভি) ড্রোনগুলোতে গত কয়েক মাস ধরেই তারা অবাধে অনুপ্রবেশ করে আসছে। ফেসিয়াল রিকগনিশন ও গাড়ির লাইসেন্স প্লেট শনাক্তকরণের মতো উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন এই ড্রোনগুলোর ধারণ করা প্রতিটি সংবেদনশীল ছবি ও সন্দেহভাজনদের গোপন তথ্য এখন হ্যাকারদের হাতে।   বিশ্বকাপের নিরাপত্তায় চরম শঙ্কার কথা জানিয়ে বিবৃতিতে হ্যাকার গ্রুপটি আয়োজকদের সতর্ক করে বলেছে, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী কয়েকটি দলকে তারা মোটেও পছন্দ করে না।   এফপিভি ড্রোন সর্বত্র বিরাজমান এবং যেকোনো সময় যেকোনো দলের বাসের ভেতরে এসব ড্রোন হামলা চালাতে পারে বলে তারা প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছে। সম্ভাব্য এই ঝুঁকি এড়াতে এবং অননুমোদিত আকাশযানের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলোর চারপাশে নিজস্ব ড্রোন মোতায়েন করছে এফবিআই।   পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের যেসব স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ম্যাচ বা সংশ্লিষ্ট ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে, তার চারপাশে যেকোনো ধরনের ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।   তবে হান্দালার এই হ্যাকিংয়ের দাবির সত্যতা নিয়ে তীব্র সন্দেহ পোষণ করেছে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ। হ্যাকাররা হ্যাক হওয়া ড্রোনের প্রমাণ হিসেবে যেসব ছবি ও ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে, তা মূলত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের একটি ভিডিও বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।   মূলত মার্কিন পুলিশ বিভাগের টর্নেডোর ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনার কাজে ব্যবহৃত একটি সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের প্রচারণার অংশ ছিল ওই ভিডিও ফুটেজ। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই মার্কিন বিচার বিভাগ এ ধরনের সাইবার হামলার ব্যাপারে সতর্ক করেছিল।   গত মার্চে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তার ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য ফাঁসের দাবিও করেছিল এই হান্দালা গ্রুপ। দুর্ধর্ষ এই হ্যাকার গ্রুপের সদস্যদের শনাক্তে সহায়তাকারীর জন্য ইতিমধ্যেই ১ কোটি ডলার (১০ মিলিয়ন) পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ নিউজ মিয়ামি
এফবিআইয়ের শীর্ষ প্রতারকের তালিকায় ফ্লোরিডার নারী, হাতিয়েছেন ৩২ মিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিল থেকে ৩২ মিলিয়নেরও বেশি ডলার আত্মসাতের অভিযোগে এলেইন এসকো নামের দক্ষিণ ফ্লোরিডার এক নারী এখন আইনশৃংখলা বাহিনীর মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায়। ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) সম্প্রতি প্রথমবারের মতো শীর্ষ প্রতারকদের যে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার’ তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে প্রথম আটজন পলাতক আসামির মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন এই নারী।   ‘অ্যানি’ ও ‘অ্যানি পামার’ ছদ্মনামেও পরিচিত এলেইনের বিরুদ্ধে প্রতারণার ষড়যন্ত্র, তারবার্তা জালিয়াতি (ওয়্যার ফ্রড) এবং একাধিক মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশাল অঙ্কের এই সরকারি অর্থ চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।   তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২০২৫ সালের ২২ মে তার বিরুদ্ধে একটি ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। এরপর ৫ জুন তাকে আদালতে হাজিরা দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি সেদিন বিচারকের সামনে উপস্থিত হননি। সর্বশেষ গত ৩ জুন ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে তাকে দেখা গিয়েছিল, এরপর থেকেই তিনি পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র জ্যামাইকার সাথে এই পলাতক আসামির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং সেখানে তিনি আত্মগোপন করে থাকতে পারেন। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে জোরদার তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।   সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে এবং আসামিকে ধরতে এফবিআই এলেইন এসকোর শারীরিক বর্ণনার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। এফবিআইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পলাতক এই কৃষ্ণাঙ্গ নারীর উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ১৪০ পাউন্ড। কালো চুল ও বাদামী চোখের এই আসামির শরীরের একাধিক স্থানে, বিশেষ করে বাম হাতের কবজি, পেট, পিঠ এবং ডান কাঁধে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা রয়েছে। বর্তমানে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে সহায়তার জন্য সর্বসাধারণের কাছে তথ্য প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটির ছবি তুলে জেএফকে বিমানবন্দরে চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে অবৈধভাবে সামরিক বিমানের ছবি তোলার অভিযোগে তিয়ানরুই লিয়াং (২১) নামে এক চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ৭ এপ্রিল নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার মার্কিন অ্যাটর্নি লেসলি এ উডস এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ আইজেনবার্গ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, লিয়াং গত ২৮ মার্চ ভ্যানকুভার থেকে একটি বৈধ বি১/বি২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। নেব্রাস্কার অফুট এয়ার ফোর্স বেসে যাওয়ার আগে তিনি সাউথ ডাকোটার এলসওয়ার্থ এয়ার ফোর্স বেসেও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নেব্রাস্কায় এফবিআই কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হওয়ার পর লিয়াং সেখান থেকে গাড়ি চালিয়ে নিউ ইয়র্কে চলে যান, যেখান থেকে তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন।   গ্রেপ্তারের পর লিয়াংকে নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত প্রথমে জামিন দিলেও নেব্রাস্কার প্রসিকিউটরদের আপিলের প্রেক্ষিতে ১০ এপ্রিল তাকে পুনরায় হেফাজতে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি ইউএস মার্শালের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং বিচারিক কার্যক্রমের জন্য তাকে নেব্রাস্কায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অফুট এয়ার ফোর্স বেসটি মার্কিন কৌশলগত কমান্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে পেন্টাগন।   মার্কিন অ্যাটর্নি লেসলি উডস জানিয়েছেন, যারা সামরিক স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করবে, তাদের আইনের আওতায় কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। অভিযুক্ত লিয়াং দোষী সাব্যস্ত হলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। তবে এই ঘটনার পেছনে আরও বড় কোনো গোয়েন্দা তৎপরতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এফবিআই-এর তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০