- প্রচ্ছদ
- Topic
এফবিআই
খুন, চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসার মতো গুরুতর কেন্দ্রীয় অপরাধে অভিযুক্ত সতীন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রারকে নিজেদের শীর্ষ ১০ পলাতক আসামির (টেন মোস্ট ওয়ান্টেড) তালিকায় যুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাজুড়ে খুন, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে টার্গেট কিলিং, অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং অস্ত্র ও মাদক পাচারের মতো অসংখ্য সহিংস অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এই গ্যাংস্টারের বিরুদ্ধে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত গোল্ডি ব্রারকে উত্তর আমেরিকায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রীয় আদালতে তার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ, চাঁদাবাজির মাধ্যমে বাণিজ্যে হস্তক্ষেপ এবং অবৈধ মাদক মজুত ও বিতরণের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। এফবিআইয়ের সহকারী পরিচালক গ্র্যান্ডি জানিয়েছেন, গোল্ডি ব্রার একজন অত্যন্ত বিপজ্জনক ব্যক্তি এবং তাকে গ্রেপ্তার করা এফবিআই ও তাদের সহযোগী সংস্থাগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ কারণেই তাকে মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় যুক্ত করে তার সন্ধানে ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রতিটি এফবিআই-অধিভুক্ত ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফোনে তার ছবি ও তথ্য প্রচার করা হবে বলে জানান তিনি। ১৯৫০ সালে এফবিআইয়ের 'টেন মোস্ট ওয়ান্টেড' তালিকা চালুর পর থেকে গোল্ডি ব্রার এই তালিকার ৫৪৩তম পলাতক আসামি। লস অ্যাঞ্জেলেস অঞ্চলে অপরাধ সংঘটনের দায়ে এ পর্যন্ত ২৮ জনকে এই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের অন্যান্য প্রান্তে অপরাধ করে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩৬ জন আসামি। এফবিআইয়ের তথ্যমতে, গোল্ডি ব্রার চরম সহিংস এবং সবসময় সশস্ত্র থাকেন। তিনি মূলত ক্যালিফোর্নিয়া এবং কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে আত্মগোপন করে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে এফবিআইয়ের টোল-ফ্রি নম্বর (১-৮০০-২২৫-৫৩২৪), স্থানীয় এফবিআই কার্যালয়, নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস অথবা তাদের ওয়েবসাইটে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রায় সব এফবিআই এজেন্টের ‘অতি সংবেদনশীল তথ্য’ চুরি করার দাবি করেছে ‘শাইনি হান্টার্স’ নামে একটি হ্যা কার গোষ্ঠী। তাদের দাবি, এফবিআইয়ের এজেন্টদের পাশাপাশি চাকরির জন্য আবেদন করা ব্যক্তিদেরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য তাদের হাতে এসেছে। তবে হ্যা কারদের এই দাবি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি এবং ঘটনাটি তদন্ত করছে এফবিআই। শাইনি হান্টার্স এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এবং ব্যুরোর সাইবার বিভাগের সহকারী পরিচালক ব্রেট লিদারম্যানকে পাঠানো এক বার্তায় দাবি করেছে, তারা এফবিআইয়ের চাকরির ওয়েবসাইট fbijobs.gov-তে প্রবেশ করেছে। গোষ্ঠীটির ভাষ্য, এফবিআইয়ের ‘প্রায় সব এজেন্ট’ এবং যারা চাকরির জন্য আবেদন করেছেন, তাদের সংবেদনশীল তথ্য তাদের হাতে রয়েছে। হামলার পর বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ওয়েবসাইটটি বন্ধ ছিল। তবে এফবিআই জানিয়েছে, এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি ঠিক কোথা থেকে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। ব্যুরোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, fbijobs.gov-এর সঙ্গে যুক্ত কোনো তৃতীয় পক্ষের সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে নাকি এফবিআইয়ের নিজস্ব ব্যবস্থায় এই সমস্যা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও কাজ করছে এফবিআই। ডেটা, গোপনীয়তা ও সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞ আইনজীবী মিরিয়াম উগমিস্টার বলেছেন, শাইনি হান্টার্সের আগের কর্মকাণ্ড বিবেচনায় তাদের ওয়েবসাইটে প্রবেশের দাবি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এফবিআই এজেন্ট ও আবেদনকারীদের ঠিক কতজনের তথ্য নেওয়া হয়েছে এবং কী ধরনের তথ্য তাদের হাতে গেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। শাইনি হান্টার্স দাবি করেছে, মে মাসে এফবিআইয়ের প্রকাশ করা একটি সতর্কবার্তার প্রতিশোধ হিসেবে তারা এই হামলা চালিয়েছে। ওই সতর্কবার্তায় গোষ্ঠীটিকে ‘থ্রেট অ্যাক্টর’ হিসেবে উল্লেখ করে এফবিআই বলেছিল, তারা অনেক সময় সংবেদনশীল বা ব্যক্তিগত তথ্য পাওয়ার দাবি করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে। পাশাপাশি হ্যা কাররা অনেক সময় ভুক্তভোগীদের হ্যা রা স বা হ য় রা নি করতে পারে বলেও সতর্ক করেছিল এফবিআই। এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে শাইনি হান্টার্স এফবিআইকে ওই সতর্কবার্তা সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। গোষ্ঠীটি বলেছে, তাদের এই কর্মকাণ্ড অর্থ আদায়, জবরদস্তি বা মুক্তিপণ চাওয়ার উদ্দেশ্যে নয়। তবে এফবিআই তাদের দাবি না মানলে এক সপ্তাহ পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত জানায়নি গোষ্ঠীটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সত্যিই এফবিআই কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে থাকে, তাহলে এর প্রভাব শুধু এজেন্টদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। তথ্যের অপব্যবহার করে এজেন্ট ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হ য় রা নি, চাঁ দা বা জোর করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা কিংবা ‘সোয়াটিং’-এর মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে এজেন্টদের স্বামী বা স্ত্রীদের পরিচয়ও তথ্যের মধ্যে থাকলে পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে। এফবিআইকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলার দাবি অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে মার্চে ব্যুরো জানিয়েছিল, নজরদারি অভিযান ও তদন্তসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য থাকা একটি অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড শনাক্ত হয়েছে। একই মাসে ইরা নপন্থী একটি হ্যা কার গোষ্ঠী কাশ প্যাটেলের একটি অ্যাকাউন্টে প্রবেশের দাবিও করেছিল। তারা প্যাটেলের পুরোনো ছবি এবং এক দশকেরও বেশি সময় আগের কিছু ব্যক্তিগত নথি প্রকাশ করেছিল। বর্তমানে শাইনি হান্টার্সের দাবি কতটা সত্য এবং আসলে কী ধরনের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, সেটিই তদন্তের মূল বিষয়। এফবিআই বলছে, বিষয়টি সক্রিয়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কাজ চলছে।
আইসিস ও আল-নুসরা ফ্রন্টকে আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে প্রায় এক দশক ধরে পলাতক দাভুদ আনসারিকে জর্জিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। ৪১ বছর বয়সী আনসারি উজবেকিস্তানের নাগরিক এবং ন্যাচারালাইজড মার্কিন নাগরিক। ২৩ সেপ্টেম্বর জর্জিয়ার রাজধানী তিবলিসি থেকে তাকে নিউইয়র্কে আনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, আনসারির বিরুদ্ধে আইসিস এবং আল-নুসরা ফ্রন্টকে সহায়তা দেওয়ার ষড়যন্ত্র ও সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট জজ লারা কে. এশকেনাজির সামনে হাজির করার কথা জানানো হয়। তবে অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত হয়নি এবং আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, আনসারি নিউইয়র্কের ব্রুকলিনকেন্দ্রিক একটি উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা ছিলেন। ওই নেটওয়ার্কের সদস্যদের কেউ সিরিয়ায় গিয়ে আইসিস বা আল-নুসরা ফ্রন্টের যোদ্ধা হওয়ার পরিকল্পনা করতেন, আবার অন্যরা তাদের সিরিয়া যাওয়ার জন্য অর্থ সংগ্রহ ও ভ্রমণের ব্যবস্থা করতেন। নেটওয়ার্কটির সদস্যরা নিজেদের দলকে ‘চাইখানা’ নামে ডাকতেন। উজবেক ভাষায় এর অর্থ ‘টি হাউস’ বা ‘টি পার্টি’। বিচার বিভাগের অভিযোগ, এই নেটওয়ার্ক সিরিয়ায় যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি সেখানে যাওয়া যোদ্ধাদের পরিবার এবং যুদ্ধে নিহত ব্যক্তিদের বিধবা স্ত্রী ও পরিবারের জন্যও অর্থ সংগ্রহ করত। প্রসিকিউটরদের দাবি, ‘চাইখানা’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহার করে আনসারি ও তার সহযোগীরা ২০১৩ সালে অন্তত তিন ব্যক্তির সিরিয়া যাওয়ার খরচ জুগিয়েছিলেন। ওই তিনজনই পরে সিরিয়ায় নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করছে মার্কিন সরকার। তবে এটিও সরকারের মামলায় আনা অভিযোগের অংশ। ফেডারেল আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের মে মাসে আনসারি একমুখী টিকিটে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে তুরস্কে চলে যান। তার এক কথিত সহযোগী গ্রেপ্তার হওয়ার পাঁচ দিন পর তিনি দেশ ছাড়েন। এরপর প্রত্যর্পণের আগে পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেননি। ২০২১ সালের নভেম্বরে ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ২০২৬ সালের আগস্টে উজবেকিস্তান থেকে জর্জিয়ার তিবলিসিতে যাওয়ার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক দপ্তর, তিবলিসিতে এফবিআইয়ের আইনশৃঙ্খলা অ্যাটাশে অফিস এবং জর্জিয়ার প্রসিকিউটর অফিসের সহযোগিতায় তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। আদালতের ডিটেনশন মেমো অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর আনসারিকে বহনকারী ফ্লাইট নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। প্রত্যর্পণের পর তাকে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রসিকিউটররা তাকে আটক রাখার আবেদনও করেছেন। মামলাটি তদন্ত করেছে এফবিআই। তদন্তে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট, নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ, ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন, পোর্ট অথরিটি পুলিশ এবং ইউএস মার্শালস সার্ভিস সহায়তা করেছে। আনসারি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ৩৫ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্ক, ফেডারেল কোর্ট ডিটেনশন মেমো, এফবিআই
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) নিয়োগ ওয়েবসাইটে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। 'শাইনিহান্টারস' নামের একটি পরিচিত হ্যাকার গ্রুপ এই সাইবার হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেছে যে, তারা প্রায় সব এফবিআই এজেন্ট এবং চাকরিপ্রার্থীদের "অত্যন্ত স্পর্শকাতর তথ্য" হাতিয়ে নিয়েছে। এই ঘটনার পরপরই সম্ভাব্য কর্মীদের জন্য এফবিআই সম্পর্কে জানার এবং আবেদনের মূল পোর্টাল 'এফবিআইজবস ডট গভ' (FBIjobs.gov) অফলাইনে চলে যায়। এফবিআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এই অননুমোদিত প্রবেশ ও সাইবার হামলার দাবির বিষয়ে অবগত আছে এবং বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে নিবিড় তদন্ত চলছে। হ্যাকার গ্রুপ শাইনিহান্টারস অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তার মাধ্যমে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল এবং সাইবার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালকের উদ্দেশ্যে লেখা ওই বার্তায় তারা দাবি করে যে, এফবিআইয়ের প্রায় সব বর্তমান এজেন্ট এবং যারা চাকরি পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন, তাদের সবার অত্যন্ত গোপনীয় ব্যক্তিগত তথ্য এখন হ্যাকারদের হাতে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবির সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি এবং এফবিআইয়ের কোনো মুখপাত্র এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি, তবুও সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা এই হামলাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছেন। এই সাইবার হামলার পেছনে মূলত আর্থিক কোনো কারণের চেয়ে এফবিআইয়ের ওপর ক্ষোভকেই প্রধান হিসেবে তুলে ধরেছে শাইনিহান্টারস। হ্যাকার গ্রুপটি তাদের বার্তায় এফবিআইকে এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছে, যেন তারা গত মে মাসে প্রকাশিত একটি পাবলিক সার্ভিস অ্যানাউন্সমেন্ট বা জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি থেকে শাইনিহান্টারস সম্পর্কে করা "মিথ্যা অভিযোগগুলো" সংশোধন বা প্রত্যাহার করে নেয়। এফবিআইয়ের ওই বিজ্ঞপ্তিতে শাইনিহান্টারসকে এমন এক সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল, যারা বিপুল পরিমাণ তথ্য চুরি ও চাঁদাবাজিতে পারদর্শী। এফবিআই সতর্ক করেছিল যে, এই হ্যাকাররা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্যে প্রবেশের সত্য বা অতিরঞ্জিত দাবি ব্যবহার করে এবং প্রায়শই ভুক্তভোগীদের হেনস্তা বা হুমকি দেয়। এমনকি তাদের কাছে ভুক্তভোগীদের বিব্রতকর ছবি বা ভিডিও থাকার মিথ্যা দাবি করারও অভিযোগ তোলা হয়েছিল। শাইনিহান্টারস জানিয়েছে, এফবিআইয়ের এই ধরনের বর্ণনায় তারা "অপমানিত" বোধ করেছে এবং অবিলম্বে এসব দাবি প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দিয়েছে। এফবিআইয়ের মতো সুরক্ষিত সংস্থার জন্য সাইবার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত মার্চ মাসে এফবিআই জানিয়েছিল যে, তাদের নজরদারি অভিযান এবং তদন্ত সম্পর্কিত সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে এমন একটি অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে "সন্দেহজনক কার্যকলাপের" বিষয়টি তারা তদন্ত করছে। একই মাসে একটি ইরানপন্থি হ্যাকার গ্রুপ দাবি করেছিল যে, তারা এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেলের একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেছে এবং অনলাইনে তার বহু পুরোনো ছবি, জীবনবৃত্তান্ত এবং এক দশকেরও বেশি সময় আগের ব্যক্তিগত নথিপত্র ফাঁস করে দিয়েছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনা মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
নিউইয়র্কের বিংহ্যামটনের ৩৩ বছর বয়সী জেফরি স্কট হ্যাম জুনিয়র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আইসিই কর্মকর্তাদের হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তিনি অন্যকে আহত করার হুমকি অনলাইনে পাঠানোর অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। মামলায় তার সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড, ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা এবং সর্বোচ্চ তিন বছর তত্ত্বাবধানে মুক্তির বিধান রয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে হ্যাম নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে একটি অনলাইন ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে একাধিকবার ট্রাম্প ও আইসিই কর্মকর্তাদের হত্যা বা আহত করার হুমকি পোস্ট করেন। প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তা কর্মীরা এসব পোস্ট শনাক্ত করে এফবিআইকে জানান। এরপর এফবিআই হুমকিগুলো নিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং হ্যামের সঙ্গে অনলাইন পোস্টগুলোর সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে। তদন্তের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফেডারেল মামলায় তার বিরুদ্ধে অনলাইনে হুমকি পাঠানোর অভিযোগ আনা হয়। আদালতে দোষ স্বীকারের মাধ্যমে হ্যাম স্বীকার করেছেন যে তিনি ওই হুমকিমূলক বার্তাগুলো অনলাইনে প্রকাশ করেছিলেন। তবে আদালতে দোষ স্বীকার করা মানে মামলার শাস্তি তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত হয়ে যাওয়া নয়। ফেডারেল আদালতের বিচারক পরবর্তী শুনানিতে আইন ও ফেডারেল সাজা নির্দেশিকা বিবেচনা করে সাজা নির্ধারণ করবেন। হ্যামের সাজা ঘোষণার শুনানি আগামী ২০ জানুয়ারি ২০২৭ নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই শুনানিতে আদালত তার অপরাধের ধরন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করবে। মামলাটিতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার সুযোগ রয়েছে। অনলাইনে ফেডারেল কর্মকর্তা বা প্রেসিডেন্টকে হত্যার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল অপরাধ হিসেবে তদন্ত ও বিচারের আওতায় আসতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প ও আইসিই কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে অনলাইনে হুমকির কয়েকটি ঘটনায় ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তদন্ত ও মামলা করেছে। তবে প্রতিটি মামলায় অভিযোগ, প্রমাণ ও সম্ভাব্য সাজা আলাদা। হ্যামের মামলায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা কর্মীদের দেওয়া তথ্য তদন্তের সূচনাবিন্দু হিসেবে কাজ করেছে। এখন আগামী জানুয়ারির সাজা ঘোষণার শুনানির দিকে নজর রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া আমেরিকান ফুটবলার পরিচয়ে নারীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় নতুন করে আরও ৩৫ নারী সামনে এসেছেন। এ নিয়ে এফবিআইয়ের কাছে সম্ভাব্য ভু ক্ত ভো গীর সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়েছে। শুক্রবার পোর্টল্যান্ড এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট ইনচার্জ ডগ ওলসন জানান, নতুন করে সামনে আসা ৩৫ নারী সত্যিই ডেজন লাভ ও টেলর চ্যানের প্র তা র ণার শিকার হয়েছেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। ওলসন বলেন, অল্প সময়ে এত বেশি মানুষ ভু ক্ত ভো গী হওয়া এবং পরে আরও অনেকে সামনে আসায় তারা বিস্মিত। একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে অন্যরাও মানুষকে টা র্গে ট করতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে এফবিআই। এফবিআইয়ের ধারণা, লাভ ও চ্যানের আরও ভু ক্ত ভো গী থাকতে পারেন, যারা এখনো সামনে আসেননি। তাদের তথ্য দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। লজ্জা বা সামাজিক বিড়ম্বনার ভয়ে কেউ যেন বিষয়টি গোপন না করেন, সে আহ্বানও জানিয়েছেন ওলসন। তদন্তে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর লাভ ও চ্যানের বি রু দ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে এফবিআই। অভিযোগের সময়কাল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত। ওই দিন আইডাহোর বোইসি বিমানবন্দর থেকে দুজনকে আ ট ক করা হয়। তাদের বি রু দ্ধে ওয়্যার ফ্রড ও ওয়্যার ফ্রডের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। ফৌজদারি অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অন্তত চারটি অঙ্গরাজ্যে ২৬ জন পরিচিত ভু ক্ত ভো গীর কাছ থেকে ১৩ লাখ ডলারের বেশি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী লাভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডেটিং অ্যাপে বিভিন্ন ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করতেন। এর মধ্যে নিজেকে সান ফ্রান্সিসকো ফোর্টি-নাইনার্সের আমেরিকান ফুটবলার এবং ধনী সুইস রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী চ্যান কখনো লাভের আর্থিক পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি নারীদের বোঝানোর চেষ্টা করতেন যে, লাভের কাছে দেওয়া অর্থ তিনি বিনিয়োগ করবেন। এফবিআই কর্মকর্তা ওলসন জানান, প্রতিটি নারীর জন্য আলাদা কৌশল তৈরি করা হয়েছিল। সবাইকে আমেরিকান ফুটবলারের পরিচয় দেওয়া হয়নি। তবে লাভ নিজের আর্থিক সামর্থ্য বোঝাতে পেশাদার খেলোয়াড়ের পরিচয়টি প্রায়ই ব্যবহার করতেন। তার পরিচয় বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনে ভুয়া তথ্যও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে এফবিআই। কেউ তার পরিচয় যাচাই করতে গেলে সার্চের ফলাফলে যেন সেই তথ্যই দেখতে পান, সেভাবেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এফবিআইয়ের ভাষ্য, সাজানো বিনিয়োগ অ্যাকাউন্ট, ভুয়া ভিডিও কল এবং এআই-নির্ভর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে নারীদের বিশ্বাস অর্জন করা হতো। এরপর তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হতো। এদিকে সান ফ্রান্সিসকো ফোর্টি-নাইনার্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেজন লাভ নামে কাউকে তারা চিনত না। আগস্টে এফবিআই যোগাযোগ করার আগে তার বিষয়ে দলটির কাছে কোনো তথ্যও ছিল না। এফবিআই জানিয়েছে, তদন্তে সহযোগিতা করেছে ফোর্টি-নাইনার্স কর্তৃপক্ষ। যাচাই করে দেখা গেছে, লাভ কখনো ওই দলের খেলোয়াড় বা কর্মী ছিলেন না। এমনকি তিনি কখনো এনএফএলেও খেলেননি। উল্লেখ্য, আমেরিকান ফুটবল বিশ্বে প্রচলিত ফুটবলের চেয়ে আলাদা একটি খেলা। এতে মূলত হাতে বল নিয়ে খেলা হয়, পাশাপাশি পা দিয়েও কিক করা যায়; ডিম্বাকৃতির বল ও সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয় এবং বল প্রতিপক্ষের শেষ প্রান্তে পৌঁছাতে পারলে পয়েন্ট পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া এক মিলিয়নের বেশি ছবি ও ভিডিওকে ঘিরে ভয়াবহ তদন্তে অন্তত ৭ নিখোঁজ নারীর সন্ধান মিলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা ডিজিটাল তথ্যের মধ্যে ৫ নারীকে মৃত বা মৃত অবস্থায় দেখা গেছে বলে তদন্তকারীদের ধারণা, আর আরও ২ নারী এখনো নিখোঁজ। তবে এখন পর্যন্ত ওই নারীদের কোনো মরদেহ উদ্ধার হয়নি এবং হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে কাউকে অভিযুক্তও করা হয়নি। তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু ফিলাডেলফিয়ার অলনি এলাকার ওয়েস্ট চিউ অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়ি। বাড়িটিতে দীর্ঘদিন বসবাস করতেন প্রয়াত রেমন্ড ‘আরসি’ হর্শ এবং তার ছেলে ইউজিন হর্শ। রেমন্ড হর্শ ২০২৫ সালে ৮২ বছর বয়সে মারা যান। তিনি যৌনধর্মী ছবি ও ভিডিও নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার কাজের বড় একটি ডিজিটাল সংগ্রহ বাড়িটিতে সংরক্ষিত ছিল। ফিলাডেলফিয়া পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক ভ্যানোরে জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা ডিজিটাল তথ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যালোচনা করেছেন। এর মধ্যেই ৫৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গেছে এবং তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। আরও ২৫ জনকে শনাক্ত করে তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের মতে, আরও বিপুল পরিমাণ ছবি ও ভিডিও এখনো পর্যালোচনা করা বাকি। নতুন করে তদন্তে যুক্ত হয়েছে আরও দুই নারী। পুলিশ জানিয়েছে, একটি ভিডিও ও ছবিতে প্রায় ২৫ বছর বয়সী এক নারীকে অচেতন ও শরীরে আঘাতের চিহ্নসহ দেখা গেছে। পরিবারটির অনুরোধে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আরেকটি ছবিতে মধ্য বিশের এক নারীকে আহত ও প্রাণহীন অবস্থায় দেখা গেছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তার পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এর আগে আরও তিন নারীকে শনাক্ত করে তাদের মৃত বলে ধারণা করেছিল পুলিশ। তদন্তে আলোচিত নারীদের মধ্যে রয়েছেন গ্যাব্রিয়েল আমারান্দো, মারিবেল ফ্রেসেস ও নিকোল ফুসারো। ফুসারো ২০১৮ সালে ২৭ বছর বয়সে নিখোঁজ হন। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা একটি ভিডিওতে রেমন্ড হর্শকে তার গলায় বাঁধন দেওয়ার মতো আচরণ করতে দেখা যায়। তবে তার মরদেহ এখনো উদ্ধার হয়নি। আরও দুই নিখোঁজ নারী হলেন ব্লেয়ার টনজেলি ও অ্যামি ম্যাকহেল। টনজেলি ২০২৩ সালে নিখোঁজ হন। ম্যাকহেল ছিলেন রেমন্ড হর্শের সাবেক স্ত্রী এবং ২০১৬ সালে নিখোঁজ হন। তদন্তের শুরু হয় চলতি বছরের জুনে ইউজিন হর্শ গ্রেপ্তার হওয়ার পর। ফিলাডেলফিয়ায় তাকে অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে আটক করা হয়। তার কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়া পরিচয়পত্রও পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার সঙ্গে থাকা এক নারীর কাছে ব্লেয়ার টনজেলির পরিচয়পত্র পাওয়ার পর তদন্তকারীদের নজর আরও গভীরভাবে ওই বাড়ির দিকে যায়। পরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ছবি, ভিডিও, কম্পিউটার সরঞ্জাম, রাসায়নিক পদার্থ এবং অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়। বাড়িতে পাওয়া রাসায়নিক পদার্থ নিয়েও তদন্ত চলছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে একটি কথিত ল্যাবরেটরির মতো জায়গা, বিভিন্ন রাসায়নিকের পাত্র এবং পাঁচটি ছাই রাখার পাত্র পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কিছু পাত্রে মানুষের দেহাবশেষ থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের ধারণা রয়েছে। তবে এসব দেহাবশেষ নিখোঁজ নারীদের কারও কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তদন্তকারীরা রাসায়নিকগুলো কোনোভাবে প্রমাণ নষ্ট বা দেহাবশেষ গোপন করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন। তদন্ত আরও জটিল হয়েছে কারণ রেমন্ড হর্শের তৈরি অনেক ছবি ও ভিডিওতে সহিংসতার দৃশ্য ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এসবের কিছু দৃশ্য সাজানো বা অভিনয় হতে পারে। আবার কিছু দৃশ্য বাস্তব সহিংসতার ঘটনাও হতে পারে বলে তদন্তকারীদের আশঙ্কা। তাই ভিডিওতে দেখা প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ বলেছে, শুধু ভিডিওর দৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চূড়ান্ত ঘোষণা করতে তারা সতর্কভাবে প্রমাণ যাচাই করছে। ফিলাডেলফিয়া পুলিশ ও এফবিআই যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। এফবিআই ফিলাডেলফিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়েইন জ্যাকবস জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষ দিকে বাড়িটিতে আরও তল্লাশি চালানো হবে। কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্তের লক্ষ্য দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো নয়, বরং উদ্ধার করা বিপুল ডিজিটাল তথ্যের প্রতিটি অংশ যথাসম্ভব যাচাই করে নিখোঁজ নারীদের পরিচয় ও তাদের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তার উত্তর খুঁজে বের করা। ইউজিন হর্শ বর্তমানে ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ভুয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়পত্রসংক্রান্ত ফেডারেল অভিযোগ রয়েছে। তবে নিখোঁজ নারীদের মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়নি। একইভাবে, রেমন্ড হর্শ ২০২৫ সালে মারা যাওয়ায় তার বিরুদ্ধেও এসব ঘটনায় কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারীরা এখনো ডিজিটাল প্রমাণ, রাসায়নিক পদার্থ, নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য এবং অন্যান্য আলামত মিলিয়ে দেখছেন। তদন্তকারীদের হাতে থাকা তথ্যের মাত্র একাংশ এখনো পর্যালোচনা করা হয়েছে। ফলে ফিলাডেলফিয়ার ওই বাড়িকে ঘিরে নিখোঁজ নারীদের রহস্যের পুরো চিত্র এখনো স্পষ্ট হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, আরও তথ্য যাচাই ও নতুন তল্লাশি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাগুলোর চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়।
সান দিয়েগো, ক্যালিফোর্নিয়া: যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) সান দিয়েগো শাখা সান দিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির (এসডিএসইউ) ক্রিমিনাল জাস্টিস স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে একটি বিশেষ কমিউনিটি আউটরিচ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। এই আয়োজনে শুধু মতবিনিময় নয়, বরং ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা, অপরাধ তদন্ত ও ফেডারেল সার্ভিসে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এফবিআইয়ের কার্যক্রম ও ক্যারিয়ারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এফবিআই সান দিয়েগোর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়। ব্যুরোতে কী ধরনের কাজ করা হয়, বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে কী ধরনের ক্যারিয়ারের সুযোগ রয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিজেদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করতে পারে—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীরা এফবিআইয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম, তদন্ত প্রক্রিয়া এবং ব্যুরোর বিভিন্ন পেশাগত ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারেন। বিশেষ করে যারা ভবিষ্যতে এফবিআই বা একই ধরনের ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা ও তদন্ত সংস্থায় কাজ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এ ধরনের সরাসরি যোগাযোগ বাস্তব কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। অনুষ্ঠানে এফবিআইয়ের এভিডেন্স রেসপন্স টিমের কাজ সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়। অপরাধস্থলে কীভাবে আলামত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং একটি অপরাধ তদন্তে এসব প্রমাণ কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে ব্যুরোর কাজের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়। এফবিআই সান দিয়োর কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার গঠন, ব্যুরোর কাজের ধরন এবং অপরাধ তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে চান। কর্মকর্তারা তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পেশাজীবন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও কৌতূহলকে উৎসাহিত করেন। এফবিআই সান দিয়ো এক পোস্টে জানায়, তরুণ ও আগ্রহী ভবিষ্যৎ পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরে তারা আনন্দিত। শিক্ষার্থীদের চিন্তাশীল প্রশ্ন ও সক্রিয় অংশগ্রহণেরও প্রশংসা করা হয়। এ ধরনের কমিউনিটি আউটরিচ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের বাইরেও একটি ফেডারেল তদন্ত সংস্থার কাজ, পেশাগত পরিবেশ এবং সম্ভাব্য ক্যারিয়ার সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
পেনসিলভানিয়ার ভ্যালেন্সিয়ার ২১ বছর বয়সী জোনাথন হান্টার ক্রেমারকে আইএসআইএসের পক্ষে একটি সহিংস হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে এফবিআই। তার কাছ থেকে একটি সেমি-অটোমেটিক রাইফেল, পাঁচটি ম্যাগাজিন এবং ১৯০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। ফেডারেল ক্রিমিনাল কমপ্লেইন্ট অনুযায়ী, ক্রেমারের অনলাইন কার্যক্রম এবং পরবর্তী সময়ে অস্ত্র সংগ্রহের ঘটনায় তদন্তকারীরা সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত পান। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি অনলাইনে আইএসআইএসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন এবং বিস্ফোরক তৈরির ম্যানুয়াল ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে তিনি নিজের কথিত পরিকল্পনাকে একটি ‘মিশন’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এফবিআইয়ের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ১২ সেপ্টেম্বর ক্রেমার বাড়ি থেকে ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে উবারে করে পেনসিলভানিয়ার গিবসোনিয়ায় যান। সেখানে একটি ওয়ালমার্ট থেকে রাইফেল সংগ্রহের পর তিনি একটি ডিসপোজেবল ফোন কেনেন এবং নগদ অর্থে ক্র্যানবেরি এলাকার একটি হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করেন। পরে তিনি একটি গান স্টোরেও যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর হোটেল ও তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারীরা সেমি-অটোমেটিক রাইফেল, পাঁচটি রাইফেল ম্যাগাজিন, ১৯০ রাউন্ড গোলাবারুদ, রাইফেল স্কোপ ও বাইপড উদ্ধার করেন। এছাড়া একটি এনট্রেঞ্চমেন্ট টুল, পেপার স্প্রে এবং প্রায় ৩০টি ছুরিও পাওয়া গেছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। হোটেল থেকে একটি হাতে লেখা নোটও উদ্ধার করা হয়। ক্রেমারের বিষয়ে এফবিআইয়ের নজর অবশ্য নতুন নয়। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকা অবস্থায় ব্যাপক প্রাণহানির উদ্দেশ্যে হামলার পরিকল্পনা এবং শিশু যৌন নির্যাতনের সামগ্রী রাখার ঘটনায় তদন্তের আওতায় এসেছিলেন। পরে পেনসিলভানিয়ায় কিশোর আদালতের মাধ্যমে ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের মার্চে একটি টিপ পাওয়ার পর তার বিষয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করে এফবিআই। তদন্তকারীদের অভিযোগ, অনলাইনে ‘হামজা আল রশিদ’ নামে পরিচিত ক্রেমার আইএসআইএস-সমর্থক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অস্ত্র সংগ্রহ করছিলেন। তবে কথিত হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্য কী ছিল, তা কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেছেন, অনলাইন কর্মকাণ্ড, উগ্রপন্থী বক্তব্য এবং অস্ত্র সংগ্রহের ঘটনাগুলো মিলিয়ে কর্মকর্তারা তাকে হামলার প্রস্তুতিতে থাকা ব্যক্তি হিসেবে দেখেছেন। ক্রেমারের বিরুদ্ধে এমন একটি ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে তিনি এমন অস্ত্র ও গোলাবারুদ গ্রহণ করেছিলেন, যেগুলো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ ফেডারেল অপরাধে ব্যবহৃত হতে পারে বলে তিনি জানতেন বা জানার যথেষ্ট কারণ ছিল। তাকে বাটলার কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে এবং প্রসিকিউটররা জামিন না দেওয়ার আবেদন করেছেন। তাদের দাবি, তিনি সমাজের জন্য চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন। তবে ক্রেমারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলা বাস্তবায়নের আগেই এফবিআইয়ের অভিযানে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলকে মঙ্গলবার সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির শুনানিতে তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এফবিআইয়ের কার্যক্রম ও নেতৃত্ব নিয়ে নজরদারি শুনানিতে ডেমোক্র্যাট সিনেটররা তার নেতৃত্বের ধরন, এজেন্টদের বিদায়, সরকারি সম্পদের ব্যবহার, ২০২০ সালের নির্বাচনসংক্রান্ত তদন্ত এবং জেফ্রি এপস্টেইন তদন্তসহ একাধিক বিতর্কিত বিষয় সামনে আনেন। রিপাবলিকানরা অন্যদিকে এফবিআইয়ের অপরাধ দমন কার্যক্রম এবং ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে তদন্তের বিষয়গুলোতে জোর দেন। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই শুনানিটি প্যাটেলের জন্য কংগ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ জবাবদিহির আরেকটি পর্ব। সিনেটের সরকারি সূচি অনুযায়ী, এফবিআইয়ের ওপর নজরদারি নিয়ে শুনানিতে প্যাটেলই ছিলেন প্রধান সাক্ষী। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি একই কমিটির সামনে হাজির হয়েছিলেন। শুনানির শুরুতেই সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য ডিক ডারবিন প্যাটেলের নেতৃত্ব নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। নিউইয়র্ক পোস্টের লাইভ আপডেট অনুযায়ী, ডারবিন প্যাটেলের অভিজ্ঞতা, বিচারবোধ ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে প্যাটেলের নেতৃত্বে এফবিআইয়ের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও গুরুত্ব পায়। প্যাটেলের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কের একটি বড় বিষয় হলো এফবিআইয়ের ভেতরে কর্মী পরিবর্তন। তার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্থাটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তা ও এজেন্টের পদত্যাগ, বরখাস্ত বা দায়িত্ব পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডেমোক্র্যাটরা জানতে চান, এসব পরিবর্তনের পেছনে পেশাগত প্রয়োজন ছিল, নাকি রাজনৈতিক আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এফবিআইয়ের নিয়োগ নীতিও শুনানির আগে নতুন করে আলোচনায় আসে। সিনেটের ডেমোক্র্যাটরা প্যাটেলের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন, কেন সংস্থাটি কিছু আচরণকে চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় অযোগ্যতার কারণ হিসেবে রাখা থেকে সরে এসেছে। এর মধ্যে চাকরির জায়গা থেকে চুরি, যৌনসেবা ক্রয় এবং পশুর সঙ্গে যৌন আচরণের মতো বিষয়ও রয়েছে বলে সিনেটরদের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি অর্থ ও এফবিআইয়ের বিমান ব্যবহারের বিষয়টিও শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্যাটেলের ব্যক্তিগত বা ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভ্রমণে সরকারি সম্পদ ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা আগে থেকেই তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন সরকারি বিমান ব্যবহারের বিষয়ে হুইসেলব্লোয়ারদের তথ্য তুলে ধরে সরকারি সম্পদের ব্যবহারের ওপর নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে এফবিআইয়ের তদন্তও শুনানির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রয়টার্স জানিয়েছে, রিপাবলিকান সিনেটররা ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টা নিয়ে তদন্তের বিষয়টি সামনে আনতে পারেন। একই সময়ে ডেমোক্র্যাটরা প্যাটেলের করা গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য এবং সেই তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। জেফ্রি এপস্টেইনসংক্রান্ত তদন্ত ও নথি নিয়েও প্যাটেলকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এফবিআইয়ের আগের এক শুনানিতে প্যাটেল বলেছিলেন, এপস্টেইন মামলার প্রাথমিক তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য যথেষ্টভাবে সংগ্রহ করা হয়নি। তিনি আরও বলেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আইনগতভাবে প্রকাশযোগ্য তথ্য কংগ্রেসের কাছে তুলে দেওয়ার বিষয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে, প্যাটেল নিজের নেতৃত্বের পক্ষে এফবিআইয়ের অপরাধ দমন কার্যক্রমের সাফল্য তুলে ধরেছেন। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, তার দায়িত্বকালে সহিংস অপরাধ, মানবপাচার, শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং মাদক ও গ্যাংবিরোধী অভিযানে সংস্থাটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। এফবিআইয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, প্যাটেল এসব কার্যক্রমকে তার নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। শুনানিতে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্যাটেলের কথোপকথনও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সিনেটর কোরি বুকার প্যাটেলের নেতৃত্ব ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তার আনুগত্য নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তোলেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুকার প্যাটেলকে সতর্ক করে বলেন, প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক সমর্থন সবসময় স্থায়ী নাও হতে পারে। এদিকে রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন কমিটির সদস্যরা এফবিআইয়ের অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সংস্থাটির ভূমিকার ওপর জোর দেন। ফলে শুনানিটি শুরু থেকেই এফবিআইয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রশ্নে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্যের মঞ্চে পরিণত হয়। কাশ প্যাটেলের এই শুনানি এমন সময়ে হলো, যখন এফবিআইয়ের নেতৃত্ব, কর্মী ব্যবস্থাপনা, সরকারি সম্পদের ব্যবহার এবং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর তদন্ত নিয়ে ওয়াশিংটনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। শুনানিতে ওঠা প্রশ্নগুলোর জবাব এবং কংগ্রেসের পরবর্তী নজরদারি কার্যক্রম প্যাটেলের নেতৃত্বে এফবিআইয়ের ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে বিতর্ককে আরও প্রভাবিত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) শিশুদের খাবারের জন্য বরাদ্দ ফেডারেল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পলাতক ফাহাদ মোহামেদ নুরকে গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়তাকারী তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। এফবিআইয়ের অভিযোগ, কোভিড-১৯ মহামারির সময় ফেডারেল চাইল্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রামের অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া হয় এবং নুরের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি প্রতিষ্ঠান ওই অর্থের ৫০ লাখ ডলারের বেশি পেয়েছিল। এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার্স তালিকায় নুরকে যুক্ত করা হয়েছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাচারালাইজড নাগরিক এবং সোমালিয়ার সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। তিনি বর্তমানে সোমালিয়ায় অবস্থান করছেন বলে ধারণা করছে এফবিআই। নুরের বিরুদ্ধে ওয়্যার ফ্রড, অর্থপাচারের ষড়যন্ত্র এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। মিনেসোটার ফেডারেল আদালত ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এফবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, নুর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে পালিয়ে যান এবং এরপর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারীদের অভিযোগ, নুর দ্য প্রোডিউস এলএলসি নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন, যা খাদ্য সরবরাহকারী হিসেবে ফেডারেল চাইল্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এফবিআইয়ের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের জন্য খাবার সরবরাহের কথা দেখিয়ে ৫০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ পেয়েছিল। কিন্তু যেসব খাবার সরবরাহের কথা বলা হয়েছিল, সেগুলোর একটি অংশ বাস্তবে সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, নুর খাবার সরবরাহের প্রমাণ হিসেবে ভুয়া ইনভয়েস জমা দিয়ে অর্থ গ্রহণ করেন। ২০২২ সালে মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, এই বৃহৎ জালিয়াতি চক্রে শিশুদের খাবার সরবরাহের নামে ভুয়া নথি, খাবারের হিসাব এবং অন্যান্য কাগজপত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। সরকারি অর্থ পাওয়ার পর সেই অর্থের একটি অংশ ব্যক্তিগত সম্পদ ও অন্যান্য কাজে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত ফিডিং আওয়ার ফিউচার জালিয়াতি তদন্তের অংশ। কোভিড-১৯ মহামারির সময় শিশুদের খাবার নিশ্চিত করতে ফেডারেল চাইল্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রামের নিয়মে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ওই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মিনেসোটায় বিপুল পরিমাণ অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া হয় বলে ফেডারেল প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফিডিং আওয়ার ফিউচার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সাইট মিলে ২৪ কোটি ডলারের বেশি ফেডারেল চাইল্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রামের অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে সংগ্রহ ও বিতরণ করেছিল বলে অভিযোগ করা হয়। জালিয়াতির জন্য ভুয়া খাবারের ইনভয়েস, মিথ্যা খাবার বিতরণের হিসাব এবং ভুয়া উপস্থিতির তালিকা ব্যবহারের অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে। এই কর্মসূচির অর্থ মূলত নিম্নআয়ের ও প্রয়োজন থাকা শিশুদের খাবার সরবরাহের ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের অধীন ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিস এ কর্মসূচি পরিচালনা করে এবং রাজ্য পর্যায়ে এর অর্থ বিতরণ করা হয়। মহামারির সময় কর্মসূচির আওতা ও অংশগ্রহণের নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল, যা জালিয়াতির সুযোগ তৈরি করেছিল বলে ফেডারেল তদন্তে দাবি করা হয়েছে। এফবিআই জানিয়েছে, নুরের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে সংস্থার টিপ লাইনে যোগাযোগ করা যেতে পারে। স্থানীয় এফবিআই অফিস, নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমেও তথ্য দেওয়া যাবে। তবে পুরস্কার পেতে হলে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নুরকে গ্রেপ্তার এবং শেষ পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত হতে হবে। ফেডারেল অভিযোগের ক্ষেত্রে আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন। নুরের বিরুদ্ধেও অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। এফবিআই তাকে ধরতে নতুন করে জনসাধারণের সহায়তা চাওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই তদন্তে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা জোরদার করেছে।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গ করে পোস্ট করা একটি অ্যাকাউন্টকে জবাব দিতে চেয়েছিলেন তিনি। এজন্য এফবিআইয়ের যোগাযোগ বিভাগের কর্মকর্তাদের ওই অ্যাকাউন্টের পোস্টের জবাবে সংস্থাটির সাফল্য ও অর্জনের তথ্য তুলে ধরতে বলেছিলেন প্যাটেল। তবে এফবিআইয়ের জনসংযোগবিষয়ক সহকারী পরিচালক বেন উইলিয়ামসন এতে রাজি হননি। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমনটি করলে ‘আপনার জন্য ভালো দেখাবে না’। সরকারের সদ্য প্রকাশ করা নথিতে থাকা ৫ ফেব্রুয়ারির একটি টেক্সট বার্তায় প্যাটেল ও উইলিয়ামসনের এই কথোপকথন সামনে এসেছে। জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এসব রেকর্ড প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত বার্তা অনুযায়ী, এক্সে একটি অ্যাকাউন্ট প্যাটেলের সরকারি ছবি ব্যবহার করে তাঁকে ব্যঙ্গ করে একটি পোস্ট দেয়। উইলিয়ামসন ওই অ্যাকাউন্টকে এমন একটি বট অ্যাকাউন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন, যেটি ‘এপস্টিন নিজে আত্মহত্যা করেননি’—এমন বক্তব্য প্রচার করে। তবে ওই পোস্ট উপেক্ষা করতে চাননি প্যাটেল। তিনি এফবিআইয়ের যোগাযোগ কর্মকর্তাদের ওই অ্যাকাউন্টের পোস্টের জবাবে সংস্থাটির গত বছরের সাফল্য ও রেকর্ড তুলে ধরতে বলেন। পরে প্যাটেল জানতে চান, তাঁর দলের পক্ষ থেকে এমনটি করা হচ্ছে কি না। উইলিয়ামসন জানান, তারা তা করছে না। এরপর উইলিয়ামসন স্পষ্টভাবে প্যাটেলকে জানান, ওই অ্যাকাউন্টের জবাব দেওয়া হবে না। কারণ, এটি করলে প্যাটেলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্যাটেল অবশ্য বিষয়টিকে ওই অ্যাকাউন্টকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রশ্ন হিসেবে দেখেননি। তাঁর যুক্তি ছিল, পোস্টটি কত মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এত মানুষ পোস্টটি দেখছে, তাই তাদের সামনে এফবিআইয়ের সাফল্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরা দরকার বলে মনে করেন তিনি। তবে উইলিয়ামসন জানান, আলোচনায় যে সংখ্যা বলা হচ্ছে, সেটি মূলত পোস্টের ভিউয়ের সংখ্যা, প্রতিক্রিয়ার নয়। জনসংযোগ ও কৌশলগত যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ডিন বলেন, প্যাটেলকে জবাব না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে উইলিয়ামসন সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। তাঁর মতে, শীর্ষ কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অজ্ঞাতনামা অনলাইন ট্রলকে জবাব দেওয়ার লাভ খুব কম। বরং একবার জবাব দিলে ভবিষ্যতে একই ধরনের বিতর্কে বারবার জড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। এফবিআইয়ের জনসংযোগবিষয়ক সহকারী পরিচালক হিসেবে বেন উইলিয়ামসন সংস্থাটির জনসমক্ষে যোগাযোগ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়গুলো দেখভাল করেন। তাঁর সঙ্গে প্যাটেলের এই কথোপকথনকে সংস্থাটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে পরিচালকের প্রস্তাবে সরাসরি আপত্তি জানানোর বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের ধারাবাহিকতায় এই কথোপকথন সামনে আসায় এফবিআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনয়ন এবং সিনেটের অনুমোদনের পর এফবিআই পরিচালক হন কাশ প্যাটেল। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কথিত অনিয়মের সমালোচনা এবং ট্রাম্প প্রশাসনে তাঁর আগের ভূমিকার কারণে বেশ আলোচিত ও বিতর্কিত হয়ে আছেন। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির মে মাসের এক জরিপে ৩০ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার প্যাটেলের কাজের প্রতি সন্তোষ জানিয়েছেন। অন্যদিকে ৫৬ শতাংশ তাঁর কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর ১৪ শতাংশ কোনো মত দেননি।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ডাউনটাউনে স্কিড রো এলাকার গৃহহীনদের অর্থ দিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী ব্যালট পিটিশনে ভুয়া স্বাক্ষর করানোর অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে ৪৭ বছর বয়সী জেমস ব্রাসকে (যিনি ‘লর্ড’ নামেও পরিচিত) বৃহস্পতিবার সকালে ভিক্টরভিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে এফবিআই। ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার বিকেলেই রিভারসাইডের যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাকে প্রথমবারের মতো হাজির করা হবে। চুরি করা ভোটার পরিচয় ব্যবহার করে এই সুপরিকল্পিত জালিয়াতির ঘটনাটি মার্কিন প্রশাসনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। জেমস ব্রাসের পাশাপাশি এই অভিযোগনামায় তার হয়ে পিটিশন প্রচারের কাজ করা আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলের ৪৯ বছর বয়সী কোর্টনি প্রাইস এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বোরন শহরের ৩৩ বছর বয়সী জাটেইশা হেরন। এই তিনজনের সবার বিরুদ্ধেই পরিচয় জালিয়াতির ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া ব্রাস ও প্রাইসের বিরুদ্ধে পরিচয় জালিয়াতির মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অতিরিক্ত আরও একটি গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেছে কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনার বিষয়ে এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস ফিল্ড অফিসের সহকারী পরিচালক প্যাট্রিক গ্র্যান্ডি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের ভোট ব্যবস্থা এবং নির্বাচনী অবকাঠামোর ওপর আমেরিকানদের পূর্ণ আস্থা থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। অভিযুক্তদের এই জালিয়াতি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের একটি অপরিহার্য স্তম্ভকে দুর্বল করার অপচেষ্টা। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপকারী এবং ভোটার জালিয়াতির মতো যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে এফবিআই সর্বদা সতর্ক রয়েছে এবং এ ধরনের অভিযোগের আগ্রাসী তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলেও দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রির দাবিকে কেন্দ্র করে তদন্ত করছে এফবিআই। ‘নেক্সাস’ নামে একটি ডার্ক ওয়েব মার্কেটপ্লেসে বিপুলসংখ্যক ড্রাইভিং লাইসেন্স ও অন্যান্য পরিচয়পত্রের ডিজিটাল কপি বিক্রির তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর এ তদন্ত শুরু হয়। তবে ১৫ কোটি ৩০ লাখ রেকর্ডের সংখ্যা এখনো সরকারি ভাবে নিশ্চিত নয় এবং এটিকে ১৫ কোটি ৩০ লাখ মানুষের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলেও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সাইবার নিরাপত্তা সাংবাদিক ব্রায়ান ক্রেবসের পরিচালিত সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রেবসঅনসিকিউরিটির প্রতিবেদনে ১ সেপ্টেম্বর প্রথম নেক্সাসের বিষয়টি সামনে আসে। মার্কেটপ্লেসটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের রেকর্ড থাকার দাবি করেছিল। এর পাশাপাশি ১ কোটির বেশি পরিচয়পত্র, ৩০ লাখের বেশি ভ্রমণ নথি বা আন্তর্জাতিক পরিচয়পত্র এবং অন্তত ৫ লাখ ৭৯ হাজার মেডিকেল কার্ডের রেকর্ড থাকার দাবিও করা হয়। এফবিআইয়ের নিউ অরলিন্স কার্যালয় পরে ঘটনাটি তদন্তের কথা নিশ্চিত করেছে। তদন্ত চলমান থাকায় সংস্থাটি ফাঁস হওয়া তথ্যের প্রকৃত পরিমাণ, উৎস বা কতজন মানুষের তথ্য এতে রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি। ঘটনাটির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, প্রকাশিত তথ্য শুধু নাম বা পরিচয় নম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার দাবি করা হয়নি। প্রতিবেদনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের সামনের ও পেছনের ছবি এবং কিছু ক্ষেত্রে ইনফ্রারেড ও অতিবেগুনি রশ্মির মাধ্যমে ধারণ করা ছবিসহ পরিচয়পত্রের বিস্তারিত স্ক্যান থাকার কথা বলা হয়েছে। এসব তথ্য পরিচয় চুরি, জালিয়াতি এবং বিভিন্ন ধরনের পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়ায় অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ক্রেবসঅনসিকিউরিটির অনুসন্ধানে কিছু রেকর্ডের সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুসন্ধানের সময় প্রতিবেদক নিজের ড্রাইভিং লাইসেন্সের রেকর্ডও নেক্সাসে দেখতে পেয়েছেন। কয়েকটি রেকর্ডের স্ক্যানের সময়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাস্তব জীবনে পরিচয়পত্র ব্যবহারের সময়ের মিলও পাওয়া যায়। এসব তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ডার্ক ওয়েবে থাকা অন্তত কিছু রেকর্ড বাস্তব এবং সাম্প্রতিক সময়ে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তদন্তে লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্সভিত্তিক পরিচয় যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান আইডিস্ক্যান ডটনেটের নামও উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ব্যবসাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স, অঙ্গরাজ্যের পরিচয়পত্র, পাসপোর্টসহ সরকারি পরিচয়পত্র স্ক্যান ও যাচাইয়ের প্রযুক্তি সরবরাহ করে। তবে নেক্সাসে থাকা সব তথ্যের উৎস আইডিস্ক্যান ডটনেট, এমনটি এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। আইডিস্ক্যান ডটনেট জানিয়েছে, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঘটনার বিষয়ে তারা তদন্ত করছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক অবস্থান অনুযায়ী, তাদের গ্রাহকদের তথ্য অননুমোদিতভাবে ব্যবহার বা কপি করা হয়ে থাকতে পারে কি না এবং হলে এর পরিমাণ কত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখনো চূড়ান্তভাবে কতজন গ্রাহক বা ব্যক্তির তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। নেক্সাসের সাইটটি প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই ডার্ক ওয়েব থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। তবে সাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে সেখানে থাকা তথ্যের অন্য কোনো কপি মুছে গেছে। তথ্য অন্যত্র সংরক্ষিত বা ছড়িয়ে পড়েছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গাড়ি ভাড়া, ব্যাংকিং, ঋণ, চাকরি, বয়স যাচাই কিংবা অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স স্ক্যান করা হয়। ফলে এ ধরনের তথ্য চুরি হলে তা ভবিষ্যতে পরিচয় যাচাইয়ের বিভিন্ন ধাপে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য এমন কোনো সরকারি তালিকা বা অনুসন্ধান ব্যবস্থা চালু হয়নি, যেখানে ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ফাঁস হয়েছে কি না তা সরাসরি যাচাই করা যাবে। তাই নেক্সাসের ১৫ কোটি ৩০ লাখ রেকর্ডের দাবি দেখে প্রত্যেক লাইসেন্সধারীর তথ্য ফাঁস হয়েছে ধরে নেওয়াও ঠিক হবে না। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের পরিস্থিতিতে অচেনা ফোন, ইমেইল বা খুদে বার্তায় ব্যক্তিগত তথ্য, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ছবি, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা ব্যাংকিং তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে ব্যাংক ও ঋণসংক্রান্ত অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন বা নতুন কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এফবিআইয়ের তদন্ত এবং আইডিস্ক্যান ডটনেটের অভ্যন্তরীণ ফরেনসিক পর্যালোচনা শেষ হলে ফাঁস হওয়া তথ্যের প্রকৃত উৎস, পরিমাণ এবং কতজন মানুষের তথ্য এতে জড়িত, সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যেতে পারে। আপাতত ১৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের দাবিটি একটি ডার্ক ওয়েব মার্কেটপ্লেসের দেওয়া সংখ্যা, নিশ্চিত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা নয়।
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা ও সম্পত্তির রেকর্ড দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে পাঠিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে করা পারস্পরিক আইনি সহায়তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব তথ্য ও নথি পাঠানো হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক ও মুখপাত্র মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও রুকমিলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা ও সম্পত্তির তথ্যের পাশাপাশি সেখানে থাকা কথিত অপরাধলব্ধ সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্তের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। দুদকের মানিলন্ডারিং-২ শাখার একটি চিঠিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠি অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রীর বিষয়ে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো পারস্পরিক আইনি সহায়তার আবেদন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (ওআইএ) ২০২৫ সালের ১৯ মে গ্রহণ করে। ওই আবেদনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা দম্পতির ব্যাংক হিসাব, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সম্পত্তির রেকর্ড চাওয়া হয়। একই সঙ্গে এসব সম্পদের মধ্যে কথিত অপরাধলব্ধ সম্পদ থাকলে তা শনাক্ত, জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার অনুরোধ জানানো হয়। বাংলাদেশের আবেদনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এফবিআই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে। পরে তদন্তসংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং সেখানে উল্লেখ করা সম্পত্তির রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় নথি বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। দুদকের কাছে পাঠানো নথিগুলো একটি সিডিতে সংযুক্ত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, এফবিআইয়ের পাঠানো তথ্য এখন চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদগুলোর মালিকানা, অর্থের উৎস, ব্যাংক লেনদেন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হবে। এর আগে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিদেশে সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান ও মামলা করেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা। ২০২৬ সালের মার্চে দুদক অর্থ পাচারের অভিযোগে সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ওই মামলায় তার স্ত্রী রুকমিলা জামানকেও আসামি করা হয়। এ ছাড়া ২০২৫ সালে সিআইডি সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও রুকমিলা জামানের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা দুবাইয়ে পাচারের অভিযোগে মামলা করার কথা জানিয়েছিল। সিআইডির তদন্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের বিপুল সম্পত্তি থাকার তথ্যও উঠে এসেছিল বলে সে সময় জানানো হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া নতুন নথি দুদকের চলমান অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে দেশটির ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা ও সম্পত্তির রেকর্ডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদের প্রকৃত মালিকানা এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এফবিআইয়ের পাঠানো তথ্য ও নথি পর্যালোচনার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিদেশে থাকা সম্পদ উদ্ধারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আইনি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দেশে একাধিক দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদসংক্রান্ত তদন্ত ও মামলা চলমান রয়েছে। এসব মামলায় তার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা ও সম্পত্তির নথি পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিদেশে থাকা সম্পদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে দুদকের আবেদনের পর মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এসব নথি সরবরাহ করেছে। সোমবার দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রীর বিদেশে থাকা সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে এফবিআই তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদের বিস্তারিত নথি ও তথ্য দুদককে দিয়েছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের রেকর্ড এসব নথির মধ্যে রয়েছে। বিদেশে সম্পদ অর্জনের বৈধতা ও এর উৎস সম্পর্কে চলমান অনুসন্ধানে এসব তথ্য পর্যালোচনা করা হবে। সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বিদেশে সম্পদ নিয়ে এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশে দুদক ও অন্যান্য সংস্থা তার সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে আসছে। এর আগে আদালতের আদেশে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তাদের নামে বিদেশে থাকা সম্পদ জব্দ বা অবরুদ্ধ করার বিষয়েও বিভিন্ন সময়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিকে, ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও দুদকের অনুসন্ধান জোরদার হয়েছে। এ চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্যসচিব ড. আহমেদ কায়কাউসের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছে দুদকের সংশ্লিষ্ট টিম। সূত্র: ইত্তেফাক
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার্স তালিকায় তুরস্কের নাগরিক অনুর সিমসেককে যুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য সামরিক যন্ত্রাংশ সরবরাহের সরকারি চুক্তিতে জালিয়াতির অভিযোগে তাকে খুঁজছে এফবিআই। তার অবস্থান বা গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে সংস্থাটি। এফবিআইয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিমসেক ও তার সহযোগীরা একটি ফ্রন্ট কোম্পানি ব্যবহার করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সামরিক যন্ত্রাংশ সরবরাহের চুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেন। এসব যন্ত্রাংশ মার্কিন নৌবাহিনীর এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ও সাবমেরিন, মেরিন কোরের সাঁজোয়া যান এবং সেনাবাহিনীর ট্যাংকসহ বিভিন্ন সামরিক ব্যবস্থায় ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত প্রস্তুতকারক হিসেবে একটি কোম্পানিকে উপস্থাপন করা হলেও যন্ত্রাংশগুলো তুরস্কে তৈরি করা হতো। পরে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর সময় প্যাকেজিং থেকে তুরস্কে উৎপাদনের পরিচয় সরিয়ে ফেলা হতো এবং যন্ত্রাংশের উৎপত্তি সম্পর্কে মার্কিন সরকার ও সরকারি ঠিকাদারদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হতো। মামলায় আরও অভিযোগ রয়েছে, সামরিক প্রযুক্তির রপ্তানি নিয়ন্ত্রিত কিছু নকশা সংগ্রহ করে তুরস্কে যন্ত্রাংশ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এসব নকশা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নেওয়ার অনুমতি ছিল না। তদন্তকারীদের মতে, এই চক্রের মাধ্যমে অর্জিত কয়েক লাখ ডলার আন্তর্জাতিক ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে তুরস্কে পাঠানো হয়। মামলার আরেক আসামি ইয়ুকসেল সেনবল ২০২৪ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতারণার ষড়যন্ত্র, তারের মাধ্যমে প্রতারণা, অর্থ পাচার ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনসহ ২৫টি ফেডারেল অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। একই বছরের অক্টোবরে তাকে ১৫ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩০ ডলার ৯০ সেন্ট বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। সিমসেকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে প্রতারণার ষড়যন্ত্র, তারের মাধ্যমে প্রতারণা, অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্র এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলাটি এফবিআইসহ একাধিক মার্কিন তদন্ত সংস্থা তদন্ত করেছে। এফবিআই জানিয়েছে, সিমসেকের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকলে তা সংস্থাটিকে জানানো যেতে পারে। তার গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সিমসেক আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে পলাতক।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্তকারীরা হামাসের অর্থ সংগ্রহ ও অনলাইন কার্যক্রমে ব্যবহৃত ৫ লাখ ৬০ হাজারc ডলারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করেছে। একই অভিযানে হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডের নিয়ন্ত্রিত ওয়েবসাইট ও সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সংগঠনটির জন্য পাঠানো অনুদান আটকে দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে হামাসকে অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করা হাজার হাজার ব্যক্তির তথ্যও সংগ্রহ করেছে এফবিআই। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এ তথ্য জানায়। আদালতের অনুমোদিত জব্দ আদেশের ভিত্তিতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভাগটি। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি এনক্রিপ্টেড অনলাইন গ্রুপ চ্যাটে সমর্থকদের একটি অর্থ সংগ্রহের ওয়েবসাইটে যেতে বলা হতো। সেখানে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অনুদান পাঠানোর জন্য বিভিন্ন সময় পরিবর্তিত একাধিক ডিজিটাল ওয়ালেটের ঠিকানা দেওয়া হতো। তদন্তকারীরা মানবসূত্র থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে এসব লেনদেন শনাক্ত ও অনুসরণ করেন। ২০২৫ সালের মার্চ, জুন ও অক্টোবর মাসে তিনটি পৃথক আদালত অনুমোদিত জব্দ কার্যক্রমে প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করা হয়। অর্থগুলো হামাসের আল-কাসাম ব্রিগেডের জন্য পাঠানো হচ্ছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর এফবিআইয়ের আলবুকার্কি ফিল্ড অফিস মানবসূত্রের সহায়তায় আল-কাসাম ব্রিগেডের প্রধান ওয়েবসাইট আলকাসাম ডট পিএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডোমেইন ও সার্ভার শনাক্ত করে সেগুলোও জব্দ করে। তদন্তকারীদের দাবি, এসব অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ফলে হামাসের উদ্দেশে পাঠানো নতুন ক্রিপ্টো অনুদানও আটকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। শুধু অর্থ ও ওয়েবসাইট জব্দেই অভিযান সীমাবদ্ধ থাকেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও তদন্ত পদ্ধতি ব্যবহার করে এফবিআই এমন হাজার হাজার ব্যক্তির তথ্যও পেয়েছে, যারা অনলাইনে হামাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা প্রচলিত পদ্ধতিতে অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এসব তথ্য ভবিষ্যতের সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ হামাসকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। বিভাগটির কর্মকর্তারা বলছেন, অনলাইন নেটওয়ার্ক ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ বন্ধ করা তাদের সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। মার্কিন বিচার বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ. আইজেনবার্গ বলেন, এই জব্দ কার্যক্রম হামাসের অনলাইন নিয়োগ ও অর্থ সংগ্রহের সক্ষমতা কমাতে সহায়তা করবে। এফবিআইয়ের সাইবার বিভাগের সহকারী পরিচালক ব্রেট লেদারম্যানও বলেন, সংগঠনটি প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। মামলাটি এফবিআইয়ের আলবুকার্কি ফিল্ড অফিস তদন্ত করছে। এর সঙ্গে এফবিআইয়ের কাউন্টারটেররিজম বিভাগ, সাইবার বিভাগ এবং নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিসও যুক্ত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এক নারী একজন এফবিআই কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ করে দেওয়ার অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা গোপন দায়িত্বে কাজ করছিলেন এবং তার পরিচয় প্রকাশের ফলে চলমান তদন্ত ও নিরাপত্তা কার্যক্রম ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। ইয়াহু নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোপন কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নারী কীভাবে ওই কর্মকর্তার পরিচয় জানতে পেরেছিলেন এবং তা প্রকাশ করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এফবিআই কর্মকর্তা একটি সংবেদনশীল তদন্তে কাজ করছিলেন। তার পরিচয় প্রকাশ্যে চলে আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা এবং চলমান তদন্তের গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ধরনের গোপন দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পরিচয় সাধারণত প্রকাশ না করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরিচয় ফাঁস হলে শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাই নয়, তার সঙ্গে কাজ করা অন্য এজেন্ট, তথ্যদাতা এবং চলমান তদন্তও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে ওই নারীর বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং মামলাটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সীমিত তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে গোপন তদন্তে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিচয় সুরক্ষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সংবেদনশীল তদন্তের ক্ষেত্রে পরিচয় প্রকাশ পেলে তদন্তের স্বার্থে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে।
অনলাইনে পরিচয়, দ্রুত ঘনিষ্ঠতা, প্রেমের কথা, এমনকি বিয়ের প্রতিশ্রুতি। এরপর হঠাৎ জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে টাকা চাওয়া। এভাবেই ভুয়া পরিচয়ে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে রোমান্স স্ক্যামের মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই নতুন করে এ ধরনের প্রতারণা নিয়ে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে। এফবিআই বলছে, প্রতারকরা সাধারণত ডেটিং সাইট, অ্যাপ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় তৈরি করে। তারা দ্রুত সম্পর্ক গড়ে তুলে ভুক্তভোগীর বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করে। কেউ কেউ নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কর্মরত বলে পরিচয় দেয় এবং চিকিৎসা খরচ, ভ্রমণ, আইনি জটিলতা বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে অর্থ দাবি করে। অনেক ক্ষেত্রে সামনাসামনি দেখা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত নানা অজুহাতে সেই সাক্ষাৎ আর হয় না। এ ধরনের প্রতারণায় শুধু অর্থই নয়, ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এফবিআই সতর্ক করেছে, অনলাইনে পরিচিত কেউ যদি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা গ্রহণ করে অন্যত্র পাঠাতে বলে, তাহলে ওই ব্যক্তি অজান্তেই অন্য একটি প্রতারণামূলক অর্থ স্থানান্তর চক্রের অংশ হয়ে যেতে পারেন। প্রতারকরা কখনো গিফট কার্ড, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ওয়্যার ট্রান্সফার বা পেমেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে বলে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এফবিআইয়ের নরফোক ফিল্ড অফিস জানিয়েছিল, ভার্জিনিয়ায় আগের বছর রোমান্স স্ক্যামের ২০২টি অভিযোগে মোট ২০ দশমিক ২৬ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির কথা জানানো হয়েছিল। সংস্থাটি বলেছে, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ভুক্তভোগী প্রতারণার শিকার হওয়ার পরও অভিযোগ করেন না। এফবিআইয়ের পরামর্শ, অনলাইনে পরিচিত কারও সঙ্গে সম্পর্ক দ্রুত গভীর হলে সতর্ক হতে হবে। ব্যক্তিটির ছবি ও পরিচয় যাচাই করা, বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করা এবং সামনাসামনি দেখা হয়নি এমন কাউকে কখনোই টাকা বা আর্থিক তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। সম্পর্কের শুরুতেই কেউ যদি টাকা চায়, ব্যক্তিগত তথ্য নিতে চায় বা বিষয়টি গোপন রাখতে চাপ দেয়, সেটিকে বড় ধরনের সতর্কসংকেত হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে। এফবিআই আরও জানিয়েছে, প্রতারকরা এখন জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে ভুয়া ছবি, প্রোফাইল ও বার্তা তৈরি করায় এসব প্রতারণা আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠছে। তাই অনলাইনে পরিচিত ব্যক্তির দেওয়া তথ্য যাচাই না করে কোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেউ রোমান্স স্ক্যামের শিকার হলে দ্রুত যোগাযোগ বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও এফবিআইয়ের ইন্টারনেট ক্রাইম কমপ্লেইন্ট সেন্টারে অভিযোগ করার পাশাপাশি অর্থ পাঠানো হয়ে থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
নিউইয়র্কে পরপর দুটি নৃশংস খুনের পর এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা এক দুর্ধর্ষ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) ব্রঙ্কসের একটি পার্ক থেকে ৩১ বছর বয়সী জেসুস অ্যাকোস্টা নামের ওই ঘাতককে আটক করে। জোড়া খুনের মতো ভয়ংকর অপরাধে হাতকড়া পরা অবস্থায় ব্রঙ্কস ক্রিমিনাল কোর্টে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে অদ্ভুত এক মন্তব্য করে সে। কোনো অনুশোচনা না দেখিয়ে সে বলে ওঠে, "ঈশ্বর মঙ্গলময়, ঈশ্বর মহান।" পুলিশ জানিয়েছে, নিছক ডাকাতির উদ্দেশ্যেই এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটিয়েছিল অ্যাকোস্টা। গত ২৩ আগস্ট ব্রুকলিনের একটি উইংস-রেস্তোরাঁয় ডাকাতি করতে গিয়ে এমডি ইউসুফ (৪৪) নামের এক কর্মীকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে সে। নিহত ইউসুফ অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন মানুষ এবং দুই সন্তানের জনক ছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ব্রঙ্কসের ১৪৯ নম্বর স্ট্রিটের একটি দোকানে আবারও সশস্ত্র ডাকাতি করে এই ঘাতক। সেখানে টেভন শুলার (৩৩) নামের এক ক্রেতাকে গুলি করে হত্যা করে সে। জেসুস অ্যাকোস্টা মূলত একজন দাগী অপরাধী। অনলাইনে প্রাপ্ত রেকর্ড অনুযায়ী, অবৈধ অস্ত্র রাখা এবং হামলার অভিযোগে দীর্ঘ ১০ বছর কারাভোগের পর গত ২৩ এপ্রিল প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিল সে। প্যারোলে থাকা অবস্থাতেই সে পুনরায় এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটায়। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এফবিআই ২৫ হাজার ডলার এবং ছোট ব্যবসায়ীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন 'ইউনাইটেড বোদেগাস অব আমেরিকা' আরও ১০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। অবশেষে শনিবার ব্রঙ্কসের ৪৩ নম্বর প্রিসিনক্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। থানা থেকে বের করার সময় সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেও, অপ্রত্যাশিতভাবে নিজের ওই অদ্ভুত কথাগুলো বলে ওঠে এই অপরাধী।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।