লক্ষ্মীপুরে জেলা বিএনপির আয়োজিত জুলাই আন্দোলন ও শহীদ ও আহতদের স্মরণে ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বিরোধী দলকে গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, “সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগগুলো তুলে ধরা যেমন জরুরি, তেমনি ভুলগুলো চিহ্নিত করে সংশোধনের পথ দেখানোও বিরোধী দলের দায়িত্ব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন ও সংসদীয় কার্যক্রম সংবিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। জুলাই সনদ নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি জটিল নয়; সংসদে উপস্থাপন ও আলোচনার পর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে এটি কার্যকর হবে এবং সংবিধানের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে। শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানান, খাল খননের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ১৮০ দিনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বিরোধী দলকেও ধৈর্য ধরে প্রকল্পটির অগ্রগতি দেখার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি ও জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, কাতারের রাস লাফান জ্বালানি কমপ্লেক্সে হামলায় দেশটির সামরিক সামর্থ্যের মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ভবিষ্যতে যদি ইরানি স্থাপনার ওপর পুনরায় হামলা হয়, সংযম আর বজায় রাখা হবে না। আরাঘচি সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ প্রকাশিত পোস্টে বলেন, ‘সংযত থাকার একমাত্র কারণ ছিল আন্তর্জাতিকভাবে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান ও অনুরোধের প্রতি সম্মান দেখানো।’ তিনি আরও যোগ করেন, যুদ্ধের ইতি টানতে হলে ইরানের বেসামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও সমাধানের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝেও ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করছে। আরাঘচির হুঁশিয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি সরাসরি ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদযাপনের জন্য পাকিস্তান ও আফগানিস্তান পাঁচ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে তালেবান সরকারও তাদের সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জাতিসংঘ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে, গত সোমবার (১৬ মার্চ) কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে বিমান হামলায় চার শতাধিক মানুষ নিহত এবং অন্তত ২৬৫ জন আহত হয়। নিহতদের মধ্যে অনেকের গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পরে কাবুল উপকণ্ঠে গণকবরে দাফন করা হয়। তালেবান সরকার হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও পাকিস্তান অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা শুধুমাত্র সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতির উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান ১৮ মার্চ রাত ১২টা থেকে ২৩ মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদও নিশ্চিত করেছেন, ঈদ উপলক্ষে তারা সামরিক তৎপরতা স্থগিত রাখছে। জাতিসংঘ উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
ইসলামী বর্ষপঞ্জি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। হিজরি বর্ষের মাস শুরু ও শেষ নির্ধারণ, রোজা পালন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নতুন চাঁদ দেখার সঙ্গে যুক্ত। দুনিয়ার মুসলমানরা জানেন, নবী করিম (সা.) নতুন চাঁদ দেখা মাত্রই কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন। সেই দোয়ার মূল লেখা এবং উচ্চারণ হলো: আরবি: اَللهُ أَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيْمَانِ وَالسَّلاَمَةِ وَالْإِسْلاَمِ وَالتَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ وَتَرْضَى، رَبِّىْ وَرَبُّكَ اللهُ উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।” অর্থ: “হে আল্লাহ! তুমি ওই চাঁদকে আমাদের ওপর উদিত করো নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে। আমার ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ।” হাদিস সূত্রে জানা যায়, তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) যখন নতুন চাঁদ দেখতেন, তখন তিনি এই দোয়া পড়তেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদযাপনের জন্য পাকিস্তান ও আফগানিস্তান পাঁচ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে তালেবান সরকারও তাদের সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জাতিসংঘ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে, গত সোমবার (১৬ মার্চ) কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে বিমান হামলায় চার শতাধিক মানুষ নিহত এবং অন্তত ২৬৫ জন আহত হয়। নিহতদের মধ্যে অনেকের গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পরে কাবুল উপকণ্ঠে গণকবরে দাফন করা হয়। তালেবান সরকার হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও পাকিস্তান অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা শুধুমাত্র সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতির উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান ১৮ মার্চ রাত ১২টা থেকে ২৩ মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদও নিশ্চিত করেছেন, ঈদ উপলক্ষে তারা সামরিক তৎপরতা স্থগিত রাখছে। জাতিসংঘ উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, কাতারের রাস লাফান জ্বালানি কমপ্লেক্সে হামলায় দেশটির সামরিক সামর্থ্যের মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ভবিষ্যতে যদি ইরানি স্থাপনার ওপর পুনরায় হামলা হয়, সংযম আর বজায় রাখা হবে না। আরাঘচি সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ প্রকাশিত পোস্টে বলেন, ‘সংযত থাকার একমাত্র কারণ ছিল আন্তর্জাতিকভাবে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান ও অনুরোধের প্রতি সম্মান দেখানো।’ তিনি আরও যোগ করেন, যুদ্ধের ইতি টানতে হলে ইরানের বেসামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও সমাধানের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝেও ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করছে। আরাঘচির হুঁশিয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি সরাসরি ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুরে জেলা বিএনপির আয়োজিত জুলাই আন্দোলন ও শহীদ ও আহতদের স্মরণে ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বিরোধী দলকে গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, “সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগগুলো তুলে ধরা যেমন জরুরি, তেমনি ভুলগুলো চিহ্নিত করে সংশোধনের পথ দেখানোও বিরোধী দলের দায়িত্ব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন ও সংসদীয় কার্যক্রম সংবিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। জুলাই সনদ নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি জটিল নয়; সংসদে উপস্থাপন ও আলোচনার পর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে এটি কার্যকর হবে এবং সংবিধানের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে। শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানান, খাল খননের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ১৮০ দিনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বিরোধী দলকেও ধৈর্য ধরে প্রকল্পটির অগ্রগতি দেখার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি ও জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তার ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) প্রধান এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা। তিনি আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখার আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওকোনজো-ইওয়েলা বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সারসহ কৃষি উপকরণের সরবরাহ কমে গেছে, যা বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।” বিশ্বের মোট নাইট্রোজেন সারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে করা হয়। তিনি জানান, “সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটলে কৃষকেরা কম সার ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন এবং এমন ফসল চাষে মনোযোগ দেবেন যা কম সারেই ফলন দেয়।” ওকোনজো-ইওয়েলা আরও জোর দিয়ে বলেন, “বিশ্বব্যাপী খাদ্য বাণিজ্যের পথগুলো উন্মুক্ত ও স্থিতিশীল রাখা জরুরি, যাতে খাদ্যের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় অঞ্চলগুলোতে তা পৌঁছাতে পারে।”
ইসলামী বর্ষপঞ্জি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। হিজরি বর্ষের মাস শুরু ও শেষ নির্ধারণ, রোজা পালন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নতুন চাঁদ দেখার সঙ্গে যুক্ত। দুনিয়ার মুসলমানরা জানেন, নবী করিম (সা.) নতুন চাঁদ দেখা মাত্রই কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন। সেই দোয়ার মূল লেখা এবং উচ্চারণ হলো: আরবি: اَللهُ أَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيْمَانِ وَالسَّلاَمَةِ وَالْإِسْلاَمِ وَالتَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ وَتَرْضَى، رَبِّىْ وَرَبُّكَ اللهُ উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।” অর্থ: “হে আল্লাহ! তুমি ওই চাঁদকে আমাদের ওপর উদিত করো নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে। আমার ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ।” হাদিস সূত্রে জানা যায়, তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) যখন নতুন চাঁদ দেখতেন, তখন তিনি এই দোয়া পড়তেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন হোয়াইট হাউসের কাছে প্রস্তাব করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত তহবিল অনুমোদন করার। প্রশাসনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে। প্রস্তাবিত এই তহবিল বর্তমান বিমান হামলার খরচের পরিমাণও ছাড়িয়ে গেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। গত তিন সপ্তাহে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর ফলে গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় নতুন সংগ্রহের জন্য এই বড় অঙ্কের তহবিল চাওয়া হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস এখনও নির্ধারণ করেনি, কংগ্রেসে কতটুকু অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হবে। কিছু কর্মকর্তা পেন্টাগনের প্রস্তাব পাস হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। প্রস্তাবিত তহবিল নিয়ে কংগ্রেসে রাজনৈতিক লড়াই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুদ্ধে জনসমর্থন সীমিত এবং ডেমোক্র্যাটরা এর কঠোর সমালোচনা করছেন। রিপাবলিকানরা অতিরিক্ত অর্থায়নের পক্ষে থাকলেও সিনেটের ৬০ ভোটের সীমাবদ্ধতার কারণে স্পষ্ট আইনগত পথ এখনও দৃশ্যমান নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালিয়েছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য অনুমোদিত ১৮৮ বিলিয়ন ডলারের ব্যয়ও তিনি সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু ইরান যুদ্ধের খরচ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে; কর্মকর্তাদের মতে, প্রথম সপ্তাহেই খরচ ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। পেন্টাগনের ডেপুটি ডিফেন্স সেক্রেটারি স্টিভেন ফেইনবার্গ নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই প্রচেষ্টার। মূল লক্ষ্য হলো গোলাবারুদ ঘাটতি মেটানো এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শ্রমিক ও উপকরণের সীমাবদ্ধতার কারণে উৎপাদন বাড়ানো সময়সাপেক্ষ হবে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, কাতারের রাস লাফান জ্বালানি কমপ্লেক্সে হামলায় দেশটির সামরিক সামর্থ্যের মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ভবিষ্যতে যদি ইরানি স্থাপনার ওপর পুনরায় হামলা হয়, সংযম আর বজায় রাখা হবে না। আরাঘচি সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ প্রকাশিত পোস্টে বলেন, ‘সংযত থাকার একমাত্র কারণ ছিল আন্তর্জাতিকভাবে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান ও অনুরোধের প্রতি সম্মান দেখানো।’ তিনি আরও যোগ করেন, যুদ্ধের ইতি টানতে হলে ইরানের বেসামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও সমাধানের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝেও ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করছে। আরাঘচির হুঁশিয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি সরাসরি ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদযাপনের জন্য পাকিস্তান ও আফগানিস্তান পাঁচ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে তালেবান সরকারও তাদের সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জাতিসংঘ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে, গত সোমবার (১৬ মার্চ) কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে বিমান হামলায় চার শতাধিক মানুষ নিহত এবং অন্তত ২৬৫ জন আহত হয়। নিহতদের মধ্যে অনেকের গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পরে কাবুল উপকণ্ঠে গণকবরে দাফন করা হয়। তালেবান সরকার হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও পাকিস্তান অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা শুধুমাত্র সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতির উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান ১৮ মার্চ রাত ১২টা থেকে ২৩ মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদও নিশ্চিত করেছেন, ঈদ উপলক্ষে তারা সামরিক তৎপরতা স্থগিত রাখছে। জাতিসংঘ উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বর্তমান সংঘাত ‘ভয়াবহ উত্তেজনা’ তৈরি করেছে, তবে যুদ্ধের সূচনা করেছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার দোহার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন। আল থানি বলেন, ইরান প্রতিশোধ নিতে গিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আক্রমণের পথ বেছে নিয়েছে। তবে শত্রুতা অবিলম্বে বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করা ছাড়া বিকল্প নেই। সংবাদ সম্মেলনে হাকান ফিদানও ইরানের হামলাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলই যুদ্ধের সূচনাকারী। তবে ইরানের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা রয়েছে যাতে আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি না পায়। উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনের ঠিক আগে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার সতর্ক সংকেত হিসাবে সাইরেন বাজে ওঠে। তবুও পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সংবাদ সম্মেলনটি সম্পন্ন হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র ব্যক্তি যিনি বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। তাকাইচি বলেন, সমগ্র বিশ্ব বর্তমানে ভয়াবহ নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে রয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের আঘাতের মুখে পড়ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কেবল ট্রাম্পই সারা বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এই বার্তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি ওয়াশিংটনে এসেছেন। এ সময় জাপানি প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ও উল্লেখ করেন এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলা ও হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন ঘটানোর নিন্দা জানান।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।