মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইরাকের এরবিলে অবস্থিত আল-হারির বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর একটি সমাবেশস্থল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েতে থাকা আলি আল সালেম এবং আরিফজান সামরিক ঘাঁটিতেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে আঘাত হানার দাবি করা হয়েছে। আইআরজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, এসব হামলা তাদের ঘোষিত ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৫২তম ধাপের অংশ। ইরানের একটি শিল্প এলাকায় কর্মীদের হত্যার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেছে। এদিকে বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দিকেও কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, তিনি যদি এখনও জীবিত থাকেন, তাহলে তাকে খুঁজে বের করে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে যাবে তারা। তথ্যসূত্র: দ্য ডন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন আজ (রোববার) সকাল ১১টা থেকে আবার শুরু হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশন রোববার পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেছিলেন। রোববারের কার্যসূচি অনুযায়ী, সংসদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এছাড়া জরুরি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধি-৭১ এর আওতায় উত্থাপিত মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশগুলোও নিষ্পত্তি করা হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন ও এ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টায় সংসদের বৈঠক বসবে। শনিবার সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন। সেখানে প্রথম অধিবেশনের সময়সূচি, কার্যক্রম এবং আলোচনার সময় নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮টি এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের জন্য ৪৬০টি প্রশ্নসহ মোট ৪৬৮টি প্রশ্ন জমা পড়েছে। এছাড়া বিধি-৭১ অনুযায়ী মনোযোগ আকর্ষণের ২৭টি নোটিশ এবং বিধি-১৩১ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ৯৭টি নোটিশ পাওয়া গেছে। এর আগে প্রথম অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান স্পিকার পদে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়। পরে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নামও অনুমোদন দেওয়া হয়। নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথবাক্য পাঠ করান।
রাশিয়া ও ইরানকে ঘিরে নতুন এক বিতর্ক সামনে এনেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি দাবি করেছেন, রাশিয়ার তৈরি শাহেদ ড্রোন ইরান ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও ইসরাইল সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এ সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক ফরিদ জাকারিয়ার সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি বলেন, ইরান যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির বিরুদ্ধে রাশিয়ার তৈরি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে—এ বিষয়ে তিনি “সম্পূর্ণ নিশ্চিত”। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক কিছু হামলার ক্ষেত্রেও এই ধরনের ড্রোন ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও সব ঘটনায় ড্রোনগুলো ঠিক কোথায় তৈরি হয়েছে তা স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। শাহেদ ড্রোন মূলত ইরানেই প্রথম তৈরি হয়। তুলনামূলক কম খরচে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হওয়ায় এগুলো ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০২২ সালের শেষ দিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের সময় এই ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়। ইউক্রেনের দাবি অনুযায়ী, তখন থেকে রুশ বাহিনী হাজার হাজার শাহেদ ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। প্রথমদিকে ইরান থেকে এসব ড্রোন সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে রাশিয়া নিজস্ব কারখানায় একই ধরনের ড্রোন তৈরি করছে বলে জানা গেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য দেশও তাদের সামরিক কার্যক্রমে এই ধরনের ড্রোন ব্যবহার শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে চলমান অভিযানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ড্রোন ব্যবহারের ঘটনা দেখা গেছে। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
ইরাকে সামরিক মিশনের সময় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মার্কিন বিমানবাহিনীর এক সেনা কর্মকর্তার পরিবারের সহায়তায় মিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন করা হয়েছে। নিহত ওই কর্মকর্তা তিন সন্তানের জনক ছিলেন, তার আকস্মিক মৃত্যুর পর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে সহকর্মী, বন্ধু এবং সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসেন। জানা গেছে, অপারেশন চলাকালে কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হলে তিনি নিহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই তার পরিবারের জন্য অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ শুরু হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই অনুদানের পরিমাণ কয়েক লাখ ডলার ছাড়িয়ে যায়। পরে তা মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায় বলে আয়োজকরা জানান। সহকর্মীরা বলেন, নিহত সেনা কর্মকর্তা একজন দক্ষ পাইলট ও দায়িত্বশীল সামরিক সদস্য ছিলেন। তিনি পরিবারপ্রেমী মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবসময় চিন্তিত থাকতেন। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন আজ (রোববার) সকাল ১১টা থেকে আবার শুরু হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশন রোববার পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেছিলেন। রোববারের কার্যসূচি অনুযায়ী, সংসদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এছাড়া জরুরি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধি-৭১ এর আওতায় উত্থাপিত মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশগুলোও নিষ্পত্তি করা হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন ও এ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টায় সংসদের বৈঠক বসবে। শনিবার সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন। সেখানে প্রথম অধিবেশনের সময়সূচি, কার্যক্রম এবং আলোচনার সময় নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮টি এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের জন্য ৪৬০টি প্রশ্নসহ মোট ৪৬৮টি প্রশ্ন জমা পড়েছে। এছাড়া বিধি-৭১ অনুযায়ী মনোযোগ আকর্ষণের ২৭টি নোটিশ এবং বিধি-১৩১ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ৯৭টি নোটিশ পাওয়া গেছে। এর আগে প্রথম অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান স্পিকার পদে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়। পরে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নামও অনুমোদন দেওয়া হয়। নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথবাক্য পাঠ করান।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইরাকের এরবিলে অবস্থিত আল-হারির বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর একটি সমাবেশস্থল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েতে থাকা আলি আল সালেম এবং আরিফজান সামরিক ঘাঁটিতেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে আঘাত হানার দাবি করা হয়েছে। আইআরজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, এসব হামলা তাদের ঘোষিত ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৫২তম ধাপের অংশ। ইরানের একটি শিল্প এলাকায় কর্মীদের হত্যার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেছে। এদিকে বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দিকেও কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, তিনি যদি এখনও জীবিত থাকেন, তাহলে তাকে খুঁজে বের করে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে যাবে তারা। তথ্যসূত্র: দ্য ডন।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি–এর শারীরিক অবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি সরাসরি নাকচ করেছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, খামেনির শারীরিকভাবে কোনো সমস্যা নেই এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। শনিবার ‘এমএস নাউ’ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা পুরোপুরি সুস্থ এবং স্বাভাবিকভাবেই তার দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন, মুজতবা খামেনি সম্ভবত আহত হয়েছেন এবং তার শরীরে গুরুতর আঘাত বা অঙ্গহানির আশঙ্কা রয়েছে। এই দাবি অস্বীকার করে আরাগচি বলেন, খামেনির কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। তিনি ইতোমধ্যেই জাতির উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন এবং তার দায়িত্ব আগের মতোই পালন করে যাবেন। এদিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রথম ভাষণেই কঠোর বার্তা দিয়েছেন মুজতবা খামেনি। তিনি ইঙ্গিত দেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নতুন যুদ্ধফ্রন্ট খুলে দেওয়া হবে। সূত্র: আল জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ইরানের একটি ছোট দ্বীপ নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত Kharg Island–কে ইরানের অর্থনীতির জীবনরেখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রথম দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও খার্গ দ্বীপ তুলনামূলকভাবে অক্ষত ছিল। তবে গত শুক্রবার দ্বীপটির সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা ও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি Strait of Hormuz দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে থাকে, তাহলে খার্গ দ্বীপের তেল স্থাপনাগুলোও হামলার লক্ষ্য হতে পারে। কেন গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ খার্গ একটি প্রবাল দ্বীপ, যার আয়তন নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এটি ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত। ইরানের প্রধান তেলক্ষেত্র—আহভাজ, মারুন ও গাচসারান থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে এই দ্বীপে আনা হয়। দ্বীপটির গভীর সমুদ্রবন্দর বিশাল সুপারট্যাঙ্কার ভিড়ানোর সুযোগ দেয়, যা বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের জন্য এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। কঠোর সামরিক নিরাপত্তার কারণে ইরানিদের কাছে এটি ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ নামেও পরিচিত। বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থাপনাটি ধ্বংস হয়ে গেলে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে। একটি পুরোনো নথিতে Central Intelligence Agency উল্লেখ করেছিল, খার্গ দ্বীপের স্থাপনাগুলো ইরানের তেল ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হামলায় কী ঘটেছে গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর লক্ষ্য ছিল দ্বীপটির সামরিক অবকাঠামো—যেমন ক্ষেপণাস্ত্র বাঙ্কার, নৌ-মাইন সংরক্ষণাগার ও বিমানবন্দর। CNN যাচাই করা একটি ভিডিওতে দ্বীপটির বিমানবন্দর ও রানওয়ে এলাকায় হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা Fars News Agency জানিয়েছে, দ্বীপে অন্তত ১৫টি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, তবে তেল স্থাপনাগুলো অক্ষত রয়েছে। তেলের বাজারে প্রভাব বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহের ক্ষেত্রে ইরান একটি বড় উৎপাদক। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং আরও প্রায় ১৩ লাখ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন করে। বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপের তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এতে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। গ্লোবাল বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান Kpler–এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে খার্গ দ্বীপে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। সামনে কী হতে পারে বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংঘাত আরও বাড়লে খার্গ দ্বীপ সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে। ইরানের সামরিক বাহিনীর শক্তিশালী শাখা Islamic Revolutionary Guard Corps ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে—দেশটির জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা হলে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে প্রতিশোধ নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার (১৫ মার্চ) এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে। শনিবার (১৪ মার্চ) বিষয়টি তার ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকাল ১১টায় মির্জা আব্বাসকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হবে। তার সঙ্গে থাকবেন সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস এবং জ্যেষ্ঠ সন্তান মির্জা ইয়াসির আব্বাস ভাশন। গত বুধবার (১১ মার্চ) ইফতারের সময় অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। এরপর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। শুক্রবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে দেশে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। শুক্রবার বিকেলে প্রথম দফায় মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। পরে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার শেষে তিনি নিউরো আইসিইউতে স্থানান্তরিত হন। বর্তমানে মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। মির্জা আব্বাসের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডে আছেন অধ্যাপক আলী উজ্জামান জোয়ার্দার, কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, শাহাবুদ্দিন তালুকদার, রাজিউল হক, সৈয়দ সাঈদ আহমেদ, কাদের শেখ, শফিকুল ইসলামসহ এভারকেয়ার হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসকরা। বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েই রয়েছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা তারেক রহমান।
ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন সংবাদমাধ্যমের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, কিছু সংবাদমাধ্যম এমনভাবে খবর প্রকাশ করছে যেন তারা যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় দেখতে চায়। এর আগে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত পাঁচটি মার্কিন বিমান ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে ওই ঘাঁটিতে হামলা হলেও বিমানগুলো ধ্বংস বা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁচটি বিমানের মধ্যে চারটির প্রায় কোনো ক্ষতি হয়নি এবং সেগুলো ইতোমধ্যেই আবার উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত। আর একটি বিমানে তুলনামূলক কিছুটা বেশি ক্ষতি হয়েছে, তবে সেটিও দ্রুত মেরামত করে আকাশে ওড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে এমন খবর প্রকাশ করছে যাতে মনে হয় যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তার দাবি, বাস্তবতা ভিন্ন হলেও মিডিয়া এমন একটি চিত্র তুলে ধরছে যেন যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে হেরে যাচ্ছে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইরাকের এরবিলে অবস্থিত আল-হারির বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর একটি সমাবেশস্থল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েতে থাকা আলি আল সালেম এবং আরিফজান সামরিক ঘাঁটিতেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে আঘাত হানার দাবি করা হয়েছে। আইআরজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, এসব হামলা তাদের ঘোষিত ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৫২তম ধাপের অংশ। ইরানের একটি শিল্প এলাকায় কর্মীদের হত্যার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেছে। এদিকে বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দিকেও কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, তিনি যদি এখনও জীবিত থাকেন, তাহলে তাকে খুঁজে বের করে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে যাবে তারা। তথ্যসূত্র: দ্য ডন।
রাশিয়া ও ইরানকে ঘিরে নতুন এক বিতর্ক সামনে এনেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি দাবি করেছেন, রাশিয়ার তৈরি শাহেদ ড্রোন ইরান ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও ইসরাইল সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এ সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক ফরিদ জাকারিয়ার সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি বলেন, ইরান যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির বিরুদ্ধে রাশিয়ার তৈরি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে—এ বিষয়ে তিনি “সম্পূর্ণ নিশ্চিত”। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক কিছু হামলার ক্ষেত্রেও এই ধরনের ড্রোন ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও সব ঘটনায় ড্রোনগুলো ঠিক কোথায় তৈরি হয়েছে তা স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। শাহেদ ড্রোন মূলত ইরানেই প্রথম তৈরি হয়। তুলনামূলক কম খরচে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হওয়ায় এগুলো ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০২২ সালের শেষ দিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের সময় এই ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়। ইউক্রেনের দাবি অনুযায়ী, তখন থেকে রুশ বাহিনী হাজার হাজার শাহেদ ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। প্রথমদিকে ইরান থেকে এসব ড্রোন সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে রাশিয়া নিজস্ব কারখানায় একই ধরনের ড্রোন তৈরি করছে বলে জানা গেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য দেশও তাদের সামরিক কার্যক্রমে এই ধরনের ড্রোন ব্যবহার শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে চলমান অভিযানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ড্রোন ব্যবহারের ঘটনা দেখা গেছে। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
ইরাকে সামরিক মিশনের সময় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মার্কিন বিমানবাহিনীর এক সেনা কর্মকর্তার পরিবারের সহায়তায় মিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন করা হয়েছে। নিহত ওই কর্মকর্তা তিন সন্তানের জনক ছিলেন, তার আকস্মিক মৃত্যুর পর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে সহকর্মী, বন্ধু এবং সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসেন। জানা গেছে, অপারেশন চলাকালে কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হলে তিনি নিহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই তার পরিবারের জন্য অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ শুরু হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই অনুদানের পরিমাণ কয়েক লাখ ডলার ছাড়িয়ে যায়। পরে তা মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায় বলে আয়োজকরা জানান। সহকর্মীরা বলেন, নিহত সেনা কর্মকর্তা একজন দক্ষ পাইলট ও দায়িত্বশীল সামরিক সদস্য ছিলেন। তিনি পরিবারপ্রেমী মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবসময় চিন্তিত থাকতেন। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মধ্যপ্রাচ্যে ফ্রান্স যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে—এমন খবরকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে প্যারিস। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ১০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে—এ ধরনের যে খবর ছড়িয়েছে তা সঠিক নয়। হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়নি। বর্তমানে ফরাসি নৌবাহিনীর রণতরিগুলো পূর্ব ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে অবস্থান করছে। এছাড়া ফ্রান্স জানায়, তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। দেশটি এখনো প্রতিরক্ষামূলক ও নিরাপত্তামূলক নীতির মধ্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।