আজ পবিত্র মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার, যা মুসলিম সমাজে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে পরিচিত ‘জুমাতুল বিদা’ নামে। রমজানের এই শেষ জুমার দিনটি মুসলমানদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ, এটি হতে পারে চলতি বছরের শেষ জুমার নামাজ—আগামী রমজানে আবার এমন সুযোগ মিলবে কি না, সে নিশ্চয়তা নেই। তাই দিনটিকে ঘিরে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে আলাদা এক অনুভূতি ও প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যায়। এদিন মসজিদে মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের পর মুসল্লিরা আল্লাহর দরবারে ক্ষমা, রহমত ও বরকত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। একই সঙ্গে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণের জন্য দোয়া করা হয়। রমজানের শেষ শুক্রবারটি অনেক স্থানে ‘আল কুদস দিবস’ হিসেবেও পালিত হয়। এ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জুমার নামাজের পর সচেতনতা ও প্রতিবাদমূলক কর্মসূচি পালন করা হয়। এছাড়া ইফতারের আগে ধর্মীয় আলোচনা ও বিশেষ দোয়ার আয়োজনও হয়ে থাকে। সব মিলিয়ে, জুমাতুল বিদা রমজানের বিদায়বার্তা বহন করে এবং মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, ক্ষমা প্রার্থনা ও নতুন করে নিজেকে গড়ে তোলার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে ওঠে।
দখলদার ইসরাইলকে লক্ষ্য করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে এই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, নিক্ষেপ করা মিসাইলগুলো দখলকৃত জেরুজালেমের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। হামলার আশঙ্কায় শহরজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে শুরু করে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, ইরান ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ জোরদার করছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত ইসরাইলকে লক্ষ্য করে মোট ১৩ দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এই ধারাবাহিক হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করছে এবং বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার ফলে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা কার্যত হারিয়েছে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইসরাইল এখন বিজয়ের পথে, আর ইরানের সামরিক কাঠামো ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত ব্যাপকভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট অবকাঠামোও ধ্বংসের পথে। তিনি আরও জানান, ইরানের অস্ত্র উৎপাদন কারখানা এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে। তবে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়েছে—এমন দাবির পক্ষে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি। এর আগে, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত না রাখার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু এই বক্তব্য প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর জবাবে ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনেও বাধা সৃষ্টি করছে তারা, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাত এখন পর্যন্ত মূলত আকাশপথেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন সম্ভাব্য স্থল অভিযানের। যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সম্ভাবনা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের জনগণই ঠিক করবে কখন এবং কীভাবে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে জড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব, বাইরের কারও প্রভাব নয়। সূত্র: রয়টার্স
লক্ষ্মীপুরে জেলা বিএনপির আয়োজিত জুলাই আন্দোলন ও শহীদ ও আহতদের স্মরণে ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বিরোধী দলকে গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, “সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগগুলো তুলে ধরা যেমন জরুরি, তেমনি ভুলগুলো চিহ্নিত করে সংশোধনের পথ দেখানোও বিরোধী দলের দায়িত্ব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন ও সংসদীয় কার্যক্রম সংবিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। জুলাই সনদ নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি জটিল নয়; সংসদে উপস্থাপন ও আলোচনার পর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে এটি কার্যকর হবে এবং সংবিধানের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে। শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানান, খাল খননের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ১৮০ দিনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বিরোধী দলকেও ধৈর্য ধরে প্রকল্পটির অগ্রগতি দেখার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি ও জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আজ পবিত্র মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার, যা মুসলিম সমাজে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে পরিচিত ‘জুমাতুল বিদা’ নামে। রমজানের এই শেষ জুমার দিনটি মুসলমানদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ, এটি হতে পারে চলতি বছরের শেষ জুমার নামাজ—আগামী রমজানে আবার এমন সুযোগ মিলবে কি না, সে নিশ্চয়তা নেই। তাই দিনটিকে ঘিরে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে আলাদা এক অনুভূতি ও প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যায়। এদিন মসজিদে মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের পর মুসল্লিরা আল্লাহর দরবারে ক্ষমা, রহমত ও বরকত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। একই সঙ্গে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণের জন্য দোয়া করা হয়। রমজানের শেষ শুক্রবারটি অনেক স্থানে ‘আল কুদস দিবস’ হিসেবেও পালিত হয়। এ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জুমার নামাজের পর সচেতনতা ও প্রতিবাদমূলক কর্মসূচি পালন করা হয়। এছাড়া ইফতারের আগে ধর্মীয় আলোচনা ও বিশেষ দোয়ার আয়োজনও হয়ে থাকে। সব মিলিয়ে, জুমাতুল বিদা রমজানের বিদায়বার্তা বহন করে এবং মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, ক্ষমা প্রার্থনা ও নতুন করে নিজেকে গড়ে তোলার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে ওঠে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, কাতারের রাস লাফান জ্বালানি কমপ্লেক্সে হামলায় দেশটির সামরিক সামর্থ্যের মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ভবিষ্যতে যদি ইরানি স্থাপনার ওপর পুনরায় হামলা হয়, সংযম আর বজায় রাখা হবে না। আরাঘচি সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ প্রকাশিত পোস্টে বলেন, ‘সংযত থাকার একমাত্র কারণ ছিল আন্তর্জাতিকভাবে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান ও অনুরোধের প্রতি সম্মান দেখানো।’ তিনি আরও যোগ করেন, যুদ্ধের ইতি টানতে হলে ইরানের বেসামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও সমাধানের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝেও ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করছে। আরাঘচির হুঁশিয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি সরাসরি ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার ফলে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা কার্যত হারিয়েছে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইসরাইল এখন বিজয়ের পথে, আর ইরানের সামরিক কাঠামো ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত ব্যাপকভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট অবকাঠামোও ধ্বংসের পথে। তিনি আরও জানান, ইরানের অস্ত্র উৎপাদন কারখানা এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে। তবে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়েছে—এমন দাবির পক্ষে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি। এর আগে, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত না রাখার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু এই বক্তব্য প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর জবাবে ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনেও বাধা সৃষ্টি করছে তারা, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাত এখন পর্যন্ত মূলত আকাশপথেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন সম্ভাব্য স্থল অভিযানের। যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সম্ভাবনা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের জনগণই ঠিক করবে কখন এবং কীভাবে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে জড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব, বাইরের কারও প্রভাব নয়। সূত্র: রয়টার্স
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তার ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) প্রধান এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা। তিনি আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখার আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওকোনজো-ইওয়েলা বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সারসহ কৃষি উপকরণের সরবরাহ কমে গেছে, যা বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।” বিশ্বের মোট নাইট্রোজেন সারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে করা হয়। তিনি জানান, “সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটলে কৃষকেরা কম সার ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন এবং এমন ফসল চাষে মনোযোগ দেবেন যা কম সারেই ফলন দেয়।” ওকোনজো-ইওয়েলা আরও জোর দিয়ে বলেন, “বিশ্বব্যাপী খাদ্য বাণিজ্যের পথগুলো উন্মুক্ত ও স্থিতিশীল রাখা জরুরি, যাতে খাদ্যের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় অঞ্চলগুলোতে তা পৌঁছাতে পারে।”
ইসলামী বর্ষপঞ্জি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। হিজরি বর্ষের মাস শুরু ও শেষ নির্ধারণ, রোজা পালন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নতুন চাঁদ দেখার সঙ্গে যুক্ত। দুনিয়ার মুসলমানরা জানেন, নবী করিম (সা.) নতুন চাঁদ দেখা মাত্রই কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন। সেই দোয়ার মূল লেখা এবং উচ্চারণ হলো: আরবি: اَللهُ أَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيْمَانِ وَالسَّلاَمَةِ وَالْإِسْلاَمِ وَالتَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ وَتَرْضَى، رَبِّىْ وَرَبُّكَ اللهُ উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।” অর্থ: “হে আল্লাহ! তুমি ওই চাঁদকে আমাদের ওপর উদিত করো নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে। আমার ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ।” হাদিস সূত্রে জানা যায়, তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) যখন নতুন চাঁদ দেখতেন, তখন তিনি এই দোয়া পড়তেন।
দখলদার ইসরাইলকে লক্ষ্য করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে এই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, নিক্ষেপ করা মিসাইলগুলো দখলকৃত জেরুজালেমের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। হামলার আশঙ্কায় শহরজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে শুরু করে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, ইরান ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ জোরদার করছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত ইসরাইলকে লক্ষ্য করে মোট ১৩ দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এই ধারাবাহিক হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করছে এবং বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
দখলদার ইসরাইলকে লক্ষ্য করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে এই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, নিক্ষেপ করা মিসাইলগুলো দখলকৃত জেরুজালেমের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। হামলার আশঙ্কায় শহরজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে শুরু করে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, ইরান ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ জোরদার করছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত ইসরাইলকে লক্ষ্য করে মোট ১৩ দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এই ধারাবাহিক হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করছে এবং বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার ফলে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা কার্যত হারিয়েছে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইসরাইল এখন বিজয়ের পথে, আর ইরানের সামরিক কাঠামো ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত ব্যাপকভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট অবকাঠামোও ধ্বংসের পথে। তিনি আরও জানান, ইরানের অস্ত্র উৎপাদন কারখানা এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে। তবে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়েছে—এমন দাবির পক্ষে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি। এর আগে, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত না রাখার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু এই বক্তব্য প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর জবাবে ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনেও বাধা সৃষ্টি করছে তারা, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাত এখন পর্যন্ত মূলত আকাশপথেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন সম্ভাব্য স্থল অভিযানের। যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সম্ভাবনা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের জনগণই ঠিক করবে কখন এবং কীভাবে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে জড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব, বাইরের কারও প্রভাব নয়। সূত্র: রয়টার্স
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, কাতারের রাস লাফান জ্বালানি কমপ্লেক্সে হামলায় দেশটির সামরিক সামর্থ্যের মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ভবিষ্যতে যদি ইরানি স্থাপনার ওপর পুনরায় হামলা হয়, সংযম আর বজায় রাখা হবে না। আরাঘচি সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ প্রকাশিত পোস্টে বলেন, ‘সংযত থাকার একমাত্র কারণ ছিল আন্তর্জাতিকভাবে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান ও অনুরোধের প্রতি সম্মান দেখানো।’ তিনি আরও যোগ করেন, যুদ্ধের ইতি টানতে হলে ইরানের বেসামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও সমাধানের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝেও ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করছে। আরাঘচির হুঁশিয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি সরাসরি ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদযাপনের জন্য পাকিস্তান ও আফগানিস্তান পাঁচ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে তালেবান সরকারও তাদের সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জাতিসংঘ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে, গত সোমবার (১৬ মার্চ) কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে বিমান হামলায় চার শতাধিক মানুষ নিহত এবং অন্তত ২৬৫ জন আহত হয়। নিহতদের মধ্যে অনেকের গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পরে কাবুল উপকণ্ঠে গণকবরে দাফন করা হয়। তালেবান সরকার হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও পাকিস্তান অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা শুধুমাত্র সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতির উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান ১৮ মার্চ রাত ১২টা থেকে ২৩ মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদও নিশ্চিত করেছেন, ঈদ উপলক্ষে তারা সামরিক তৎপরতা স্থগিত রাখছে। জাতিসংঘ উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।