ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থেকে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth। তবে এসব দেশের পক্ষ থেকে এখনো এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে পরিস্থিতি এখন ওয়াশিংটনের অনুকূলে রয়েছে। আমাদের উপসাগরীয় মিত্ররা আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় এবং তারা ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিচ্ছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে তেহরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের দাবি, এসব হামলা মূলত ওইসব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলকভাবে চালানো হচ্ছে। এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্কও সাম্প্রতিক সময়ে আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কাতারের রাজধানী দোহা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও বাহরাইনের মানামায় ইরানের হামলার ঘটনা ইতিমধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া এক প্রস্তাবে উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। তবে ওই প্রস্তাবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা Anwar Gargash সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইরানের আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়া এখন আর স্লোগান নয়, এটি বাস্তবতা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো এখনো সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। বরং যুদ্ধ শুরুর আগে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর কাছে ইরানে হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, যুদ্ধ শুরু হলে তারা ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি খাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ Strait of Hormuz দিয়ে জাহাজ চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বাণিজ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো জ্বালানি খাতে প্রায় ১ হাজার ৫১০ কোটি ডলার রাজস্ব হারিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। কারণ, ইরান আগেই সতর্ক করেছে—যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সমর্থন দেবে, তাদের ওপর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক হামলা ও উত্তেজনা লেবাননের গৃহযুদ্ধের সময় বড় হওয়া অনেক প্রবাসীর মনে পুরোনো ভয়াবহ স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চলা লেবাননের রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের সময় যাঁরা শৈশব কাটিয়েছেন এবং পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন জীবন শুরু করেছেন, তাঁদের অনেকেই আবারও মানসিক অস্থিরতার মুখোমুখি হচ্ছেন। দুবাইয়ে বসবাসকারী এক লেবানিজ নারী নিরাপত্তার কারণে নিজের নাম প্রকাশ না করে জানান, ইসরায়েলি হামলা শুরুর ঠিক আগে তিনি বৈরুত সফর করেছিলেন। বর্তমানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আশঙ্কায় তিনি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমি ১৯৮২ সালের সেই ভয়াবহতা দেখেছি। আমার শৈশবের স্মৃতি কোনো খেলার মাঠ নয়; বরং বাঙ্কারের ভেতরে বিস্ফোরণের শব্দ আর ভয়ের মধ্যে কাটানো দিনগুলো। বর্তমানে বৈরুতে আটকে থাকা এই নারী যত দ্রুত সম্ভব দুবাইয়ে ফিরে যেতে চান। রামা নামের আরেক প্রবাসীর অভিজ্ঞতাও একই রকম। তিনি জানান, বৈরুতে বোমা হামলা ও গোলাগুলির মধ্যে বড় হওয়ার স্মৃতি তার মনে এখনও তাজা। দুবাইয়ে কয়েক সপ্তাহ আগে যুদ্ধের বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর সেই স্মৃতিগুলো আবারও ফিরে এসেছে। রামা বলেন, বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর আমার শরীর অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। বুক ধড়ফড় করা, অনিদ্রা এবং বাইরে বের হওয়ার ভয় আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। আমি ভেবেছিলাম ২৫ বছর বিদেশে থাকার পর সেই স্মৃতি ভুলে গেছি, কিন্তু বুঝলাম সেগুলো এখনো ভেতরে জমে আছে। তিনি আরও বলেন, আমি জানি আমিরাতে নিরাপদ আছি, তবুও শৈশবের সেই স্মৃতিগুলো আমাকে ভীষণভাবে নাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে আপাতত দুবাইতেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রামা। এ সময় তিনি লেবানিজ-আমেরিকান কবি Khalil Gibran-এর একটি উক্তি স্মরণ করেন— যে ভূমি তোমাকে সম্মান দেয়, সেটিই তোমার স্বদেশ। সূত্র: সিএনএন
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার (১৫ মার্চ) এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে। শনিবার (১৪ মার্চ) বিষয়টি তার ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকাল ১১টায় মির্জা আব্বাসকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হবে। তার সঙ্গে থাকবেন সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস এবং জ্যেষ্ঠ সন্তান মির্জা ইয়াসির আব্বাস ভাশন। গত বুধবার (১১ মার্চ) ইফতারের সময় অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। এরপর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। শুক্রবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে দেশে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। শুক্রবার বিকেলে প্রথম দফায় মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। পরে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার শেষে তিনি নিউরো আইসিইউতে স্থানান্তরিত হন। বর্তমানে মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। মির্জা আব্বাসের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডে আছেন অধ্যাপক আলী উজ্জামান জোয়ার্দার, কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, শাহাবুদ্দিন তালুকদার, রাজিউল হক, সৈয়দ সাঈদ আহমেদ, কাদের শেখ, শফিকুল ইসলামসহ এভারকেয়ার হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসকরা। বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েই রয়েছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা তারেক রহমান।
ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা ড্যারেন বিটির ভিসা বাতিল করেছে ব্রাজিল সরকার। ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর সঙ্গে দেখা করতে বিটির এই সফরের কথা ছিল, যা বর্তমান লুলা প্রশাসন আটকে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে একটি ‘বিনিময়’ শর্ত কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ইঙ্গিত দিয়েছেন, গত বছর ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলেকজান্দ্রে প্যাডিলহার মার্কিন ভিসা বাতিল করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। লুলার দাবি, যতক্ষণ না প্যাডিলহার মার্কিন ভিসা পুনর্বহাল করা হচ্ছে, ততক্ষণ ট্রাম্পের উপদেষ্টাকে ব্রাজিলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ভিসা আবেদনে বিটি তার সফরের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। এদিকে, ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট ৭০ বছর বয়সী জইর বলসোনারোর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ব্রাসিলিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় তাকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে এবং পরে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। বলসোনারোর ছেলে সেনেটর ফ্ল্যাভিও বলসোনারো দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে তার বাবার জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ড্যারেন বিটির ভিসা বিতর্ক এবং বলসোনারোর অসুস্থতা—এই দুই ইস্যুতে ব্রাজিল ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ক এখন অগ্নিগর্ভ।
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থেকে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth। তবে এসব দেশের পক্ষ থেকে এখনো এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে পরিস্থিতি এখন ওয়াশিংটনের অনুকূলে রয়েছে। আমাদের উপসাগরীয় মিত্ররা আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় এবং তারা ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিচ্ছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে তেহরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের দাবি, এসব হামলা মূলত ওইসব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলকভাবে চালানো হচ্ছে। এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্কও সাম্প্রতিক সময়ে আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কাতারের রাজধানী দোহা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও বাহরাইনের মানামায় ইরানের হামলার ঘটনা ইতিমধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া এক প্রস্তাবে উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। তবে ওই প্রস্তাবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা Anwar Gargash সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইরানের আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়া এখন আর স্লোগান নয়, এটি বাস্তবতা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো এখনো সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। বরং যুদ্ধ শুরুর আগে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর কাছে ইরানে হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, যুদ্ধ শুরু হলে তারা ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি খাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ Strait of Hormuz দিয়ে জাহাজ চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বাণিজ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো জ্বালানি খাতে প্রায় ১ হাজার ৫১০ কোটি ডলার রাজস্ব হারিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। কারণ, ইরান আগেই সতর্ক করেছে—যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সমর্থন দেবে, তাদের ওপর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস
ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা ড্যারেন বিটির ভিসা বাতিল করেছে ব্রাজিল সরকার। ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর সঙ্গে দেখা করতে বিটির এই সফরের কথা ছিল, যা বর্তমান লুলা প্রশাসন আটকে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে একটি ‘বিনিময়’ শর্ত কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ইঙ্গিত দিয়েছেন, গত বছর ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলেকজান্দ্রে প্যাডিলহার মার্কিন ভিসা বাতিল করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। লুলার দাবি, যতক্ষণ না প্যাডিলহার মার্কিন ভিসা পুনর্বহাল করা হচ্ছে, ততক্ষণ ট্রাম্পের উপদেষ্টাকে ব্রাজিলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ভিসা আবেদনে বিটি তার সফরের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। এদিকে, ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট ৭০ বছর বয়সী জইর বলসোনারোর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ব্রাসিলিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় তাকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে এবং পরে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। বলসোনারোর ছেলে সেনেটর ফ্ল্যাভিও বলসোনারো দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে তার বাবার জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ড্যারেন বিটির ভিসা বিতর্ক এবং বলসোনারোর অসুস্থতা—এই দুই ইস্যুতে ব্রাজিল ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ক এখন অগ্নিগর্ভ।
কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমান ঘাঁটিতে শক্তিশালী মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, আহমেদ আল-জাবের বিমান ঘাঁটির সীমানার ভেতরে দুটি মিসাইল আঘাত হানে। এতে সেখানে কর্মরত অন্তত তিনজন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। কুয়েত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির আকাশসীমায় মোট সাতটি মিসাইল শনাক্ত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে তিনটি মিসাইল মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হলেও, বাকি দুটি মিসাইল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ঘাঁটির আশপাশে আঘাত হানে। আহত তিন সেনাসদস্যের আঘাত গুরুতর নয় বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে তারা সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার পর ওই এলাকা এবং সংলগ্ন সামরিক স্থাপনাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা আর ভেন্যু নিয়ে দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশনের অনড় অবস্থানের কারণে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচ। আগামী ২৭ মার্চ কাতারের দোহায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তা এখন বাতিলের মুখে। আয়োজক সংস্থা উয়েফা ও কনমেবল নিরাপত্তার খাতিরে ম্যাচটি মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল। রিয়াল মাদ্রিদ ও স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন এই প্রস্তাবে একমত হলেও বাদ সেধেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। আর্জেন্টাইন সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, স্পেনে ম্যাচ খেললে স্বাগতিকরা বাড়তি সুবিধা পাবে। তার দাবি, ম্যাচটি আয়োজন করতে হবে বুয়েনোস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে। দুই দেশের এই মতবিরোধের ফলে বর্তমানে তিনটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে: বার্নাব্যুতে খেলা, লিসবন বা রোমের মতো নিরপেক্ষ কোনো ভেন্যুতে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া, অথবা ম্যাচটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা। তবে হাতে সময় খুব কম থাকায় এবং ইউরোপের বড় স্টেডিয়ামগুলো খালি না পাওয়ায় ম্যাচটি পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। এদিকে স্প্যানিশ গণমাধ্যম দাবি করছে, আর্জেন্টিনা সম্ভবত এই মুহূর্তে ম্যাচটি খেলতে খুব একটা আগ্রহী নয়।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার (১৫ মার্চ) এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে। শনিবার (১৪ মার্চ) বিষয়টি তার ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকাল ১১টায় মির্জা আব্বাসকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হবে। তার সঙ্গে থাকবেন সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস এবং জ্যেষ্ঠ সন্তান মির্জা ইয়াসির আব্বাস ভাশন। গত বুধবার (১১ মার্চ) ইফতারের সময় অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। এরপর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। শুক্রবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে দেশে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। শুক্রবার বিকেলে প্রথম দফায় মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। পরে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার শেষে তিনি নিউরো আইসিইউতে স্থানান্তরিত হন। বর্তমানে মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। মির্জা আব্বাসের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডে আছেন অধ্যাপক আলী উজ্জামান জোয়ার্দার, কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, শাহাবুদ্দিন তালুকদার, রাজিউল হক, সৈয়দ সাঈদ আহমেদ, কাদের শেখ, শফিকুল ইসলামসহ এভারকেয়ার হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসকরা। বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েই রয়েছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা তারেক রহমান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ের ফলাফল ভোট গণনার সময় প্রভাবিত করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতির দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার হিমালয় পার্কে আয়োজিত জাতীয় নাগরিক পার্টি পঞ্চগড় জেলা শাখার ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। সারজিস আলম বলেন, আমাদের ভোট কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই দায় যেমন অন্যদের ওপর দেওয়া যায়, তেমনি এটাও সত্য যে আমরা আমাদের ভোট গণনার সময় যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারিনি। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, কোনো কেন্দ্রে যদি আমাদের ১০ জন ভোটার থাকে, সেই ১০টি ভোটও রক্ষা করতে হবে। আবার কোথাও যদি ১০০ জন ভোটারের মধ্যে ৯০টি আমাদের হয়, তাহলে সেই ৯০টি ভোটও নিশ্চিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বিরোধী দল হিসেবে সংসদে আছি। স্থানীয় নির্বাচন একসঙ্গে হবে নাকি আলাদাভাবে হবে—তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে যেভাবেই হোক, জনগণের দেওয়া ভোটের আমানত রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষ অনেক আশা ও পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে আমাদের ভোট দিয়েছে। সেই পরিবর্তনের লড়াই রাজপথ থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। ভয় ও সাহসের প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম বলেন, ভয় ছোঁয়াচে—ভয় পেলে মানুষ পিছিয়ে পড়ে। কিন্তু সাহস আরও বেশি ছোঁয়াচে। একজন মানুষ যখন সাহস দেখায়, তখন অন্যরাও সেই সাহস থেকে অনুপ্রাণিত হয়। স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। আপনাদের মধ্য থেকেই কেউ মেম্বার, কেউ চেয়ারম্যান, কেউ উপজেলা চেয়ারম্যান কিংবা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক হামলা ও উত্তেজনা লেবাননের গৃহযুদ্ধের সময় বড় হওয়া অনেক প্রবাসীর মনে পুরোনো ভয়াবহ স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চলা লেবাননের রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের সময় যাঁরা শৈশব কাটিয়েছেন এবং পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন জীবন শুরু করেছেন, তাঁদের অনেকেই আবারও মানসিক অস্থিরতার মুখোমুখি হচ্ছেন। দুবাইয়ে বসবাসকারী এক লেবানিজ নারী নিরাপত্তার কারণে নিজের নাম প্রকাশ না করে জানান, ইসরায়েলি হামলা শুরুর ঠিক আগে তিনি বৈরুত সফর করেছিলেন। বর্তমানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আশঙ্কায় তিনি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমি ১৯৮২ সালের সেই ভয়াবহতা দেখেছি। আমার শৈশবের স্মৃতি কোনো খেলার মাঠ নয়; বরং বাঙ্কারের ভেতরে বিস্ফোরণের শব্দ আর ভয়ের মধ্যে কাটানো দিনগুলো। বর্তমানে বৈরুতে আটকে থাকা এই নারী যত দ্রুত সম্ভব দুবাইয়ে ফিরে যেতে চান। রামা নামের আরেক প্রবাসীর অভিজ্ঞতাও একই রকম। তিনি জানান, বৈরুতে বোমা হামলা ও গোলাগুলির মধ্যে বড় হওয়ার স্মৃতি তার মনে এখনও তাজা। দুবাইয়ে কয়েক সপ্তাহ আগে যুদ্ধের বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর সেই স্মৃতিগুলো আবারও ফিরে এসেছে। রামা বলেন, বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর আমার শরীর অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। বুক ধড়ফড় করা, অনিদ্রা এবং বাইরে বের হওয়ার ভয় আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। আমি ভেবেছিলাম ২৫ বছর বিদেশে থাকার পর সেই স্মৃতি ভুলে গেছি, কিন্তু বুঝলাম সেগুলো এখনো ভেতরে জমে আছে। তিনি আরও বলেন, আমি জানি আমিরাতে নিরাপদ আছি, তবুও শৈশবের সেই স্মৃতিগুলো আমাকে ভীষণভাবে নাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে আপাতত দুবাইতেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রামা। এ সময় তিনি লেবানিজ-আমেরিকান কবি Khalil Gibran-এর একটি উক্তি স্মরণ করেন— যে ভূমি তোমাকে সম্মান দেয়, সেটিই তোমার স্বদেশ। সূত্র: সিএনএন
ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা ড্যারেন বিটির ভিসা বাতিল করেছে ব্রাজিল সরকার। ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর সঙ্গে দেখা করতে বিটির এই সফরের কথা ছিল, যা বর্তমান লুলা প্রশাসন আটকে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে একটি ‘বিনিময়’ শর্ত কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ইঙ্গিত দিয়েছেন, গত বছর ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলেকজান্দ্রে প্যাডিলহার মার্কিন ভিসা বাতিল করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। লুলার দাবি, যতক্ষণ না প্যাডিলহার মার্কিন ভিসা পুনর্বহাল করা হচ্ছে, ততক্ষণ ট্রাম্পের উপদেষ্টাকে ব্রাজিলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ভিসা আবেদনে বিটি তার সফরের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। এদিকে, ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট ৭০ বছর বয়সী জইর বলসোনারোর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ব্রাসিলিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় তাকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে এবং পরে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। বলসোনারোর ছেলে সেনেটর ফ্ল্যাভিও বলসোনারো দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে তার বাবার জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ড্যারেন বিটির ভিসা বিতর্ক এবং বলসোনারোর অসুস্থতা—এই দুই ইস্যুতে ব্রাজিল ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ক এখন অগ্নিগর্ভ।
কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমান ঘাঁটিতে শক্তিশালী মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, আহমেদ আল-জাবের বিমান ঘাঁটির সীমানার ভেতরে দুটি মিসাইল আঘাত হানে। এতে সেখানে কর্মরত অন্তত তিনজন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। কুয়েত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির আকাশসীমায় মোট সাতটি মিসাইল শনাক্ত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে তিনটি মিসাইল মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হলেও, বাকি দুটি মিসাইল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ঘাঁটির আশপাশে আঘাত হানে। আহত তিন সেনাসদস্যের আঘাত গুরুতর নয় বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে তারা সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার পর ওই এলাকা এবং সংলগ্ন সামরিক স্থাপনাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ব্যাংকের শাখায় হামলাকে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসির মুখপাত্র সরদার নাইনি শনিবার (১৪ মার্চ) বলেন, শত্রুপক্ষের হামলার পর ইরানের দুটি ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমরা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ব্যাংকের শাখাগুলোকে লক্ষ্য করেছি। ভবিষ্যতে যদি একই ধরনের হামলা পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে সব মার্কিন ব্যাংক আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে। দুবাই আন্তর্জাতিক ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার এলাকায় পরপর দুটি হামলার পর সিটিগ্রুপ ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকসহ বড় মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিয়ে বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া এইচএসবিসি ব্যাংক কাতারে তাদের সব শাখা বন্ধ করে একই নীতি কার্যকর করেছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানানো পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। সূত্র: এএফপি
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।